ছবিঃ নিজস্ব
সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায় বিখ্যাত সারী নদী যার পানি স্বচ্ছ,নীল জলের জন্য পরিচিত এবং যার প্রাণ কেন্দ্র লালাখাল পর্যটন স্পট। মেঘালয়ের লেসকা এলাকায় মাইনন্থু পাহাড়ী নদী হতে উৎপত্তি হয়ে জৈন্তাপুর উপজেলার লালাখাল জিরোপয়েন্ট হয়ে বাংলাদেশে সারী গোয়াইন নদী নামে প্রবাহিত হয়ে সিলেটের সুরমা নদীতে গিয়ে মিলিত হয়েছে।
স্বচ্ছ নীল জল ও মেঘালয় বাংলাদেশের বাগছড়া সীমান্তবর্তী অংশ দিয়ে যার একপাশে ভারতের সবুজে ঘেরা পাহাড় অপর প্রান্তে বাংলাদেশ অংশে আফিফানগর চা বাগানের কোল ঘেঁষে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে নদীটি। এর কিছু অংশ ভিতরে আসতেই লালাখাল জিরো পয়েন্টে নদীর দুই পাশে পাষাণ পাথরে ঘেরা তীর পর্যটক ও দর্শনার্থীদের নিকট মনকাড়া এক সৌন্দর্য উপভোগের জায়গা।
চলতি পর্যটন মৌসুমের শুরু থেকে নয়নাভিরাম এই সবুজ প্রকৃতি ও সারী নদীর স্বচ্ছ নীল জলরাশি উপভোগ করতে ক্রমশঃ বাড়ছে পর্যটক ও দর্শনার্থীদের ভীড়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত হতে আগত ভ্রমন পিপাসুদের নিকট পরিচিত লালাখাল পর্যটন স্পট। এখানে যারা বেড়াতে আসে মূল সৌন্দর্য উপভোগ করতে হলে অবশ্যই তাদের ইঞ্জিনচালিত নৌকা যোগে লালাখাল জিরো পয়েন্ট অংশে যেতে হয়। নয়ত উঁচু নিচু দুর্গম পাহাড়ি পথের কারণে জিরো পয়েন্টে যাওয়া অনেকটা অসাধ্য। আর জিরো পয়েন্টে না গেলে লালাখাল ভ্রমনটাই যেন পূর্ণতা পায় না।
এদিকে পর্যটনকে ঘিরে লালাখাল কালিঞ্জিবাড়ী নৌঘাটে গড়ে উঠা যাত্রীবাহী ইঞ্জিনচালিত নৌকা সমবায় সমিতির সভাপতি বশির উদ্দিন জানান, ডিসেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময় হতে প্রতিদিন পর্যটক ও দর্শনার্থীদের ভীড় বাড়ছে। তিনি বলেন এই ঘাটে ৭০টি ইঞ্জিন নৌকা রয়েছে। একেক টি নৌকায় ৮-১২ জনের গ্রুপ লালাখাল জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত নৌকায় ভ্রমন করতে পারেন। ২ কিলোমিটার অংশজুড়ে সারী নদী,দুইদিকে সবুজ প্রকৃতি, আফিফা নগর চা বাগানের সৌন্দর্য উপভোগ করেন আগত পর্যটকরা। দেড় থেকে দুইঘন্টার এই নৌযাত্রায় প্রতি ইঞ্জিন চালিত নৌকাকে দিতে হয় ৮০০ টাকা ভাড়া।তিনি আরো বলেন, রবি থেকে বৃহস্পতিবার পর্যটক ও দর্শনার্থীদের ভীড় কিছুটা কম থাকলেও সাপ্তাহিক ছুটির দুইদিন শুক্রবার ও শনিবার দর্শনার্থীদের ভীড় বেশী থাকে। এদিন সবগুলো ইঞ্জিন চালিত নৌকা ব্যস্ততম সময় অতিক্রম করে। এদিকে কোন নৌকার মাঝি কর্তৃক কোন পর্যটক যাতে হয়রানির শিকার না হয় সেদিকে কঠোর নির্দেশনা দেয়া রয়েছে নৌ সমিতির পক্ষ থেকে।
এদিকে পর্যটন মৌসুমে দর্শনার্থীদের ভীড় বেশী হওয়ায় কালিঞ্জিবাড়ী ঘাট ও বটতলা ঘাট বাজার এলাকায় হোটেল রেস্তোরাঁয় বেড়েছে বিকিবিনি। বটতলা বাজারের রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলমগীর জানান,অনেক পর্যটক নৌকা দিয়ে সারীনদী পার হয়ে বটতলা বাজারে আসেন। পরে এখান থেকে এক কিলোমিটার পায়ে হেটে লালাখাল চা বাগান ও আফিফানগর চা বাগান পরিদর্শন করেন। সম্প্রতি সময়ে বটতলা বাজারে পর্যটক সমাগম বৃদ্ধি পাওয়া হোটেল রেস্তোরাঁ গুলোতে স্ন্যকস্ জাতীয় খাবারের পাশাপাশি দুপুর খাবার বিক্রি বৃদ্ধি পেয়েছে।
এদিকে লালাখাল গ্রুপ ট্যুরে আসা দ্যা গোল্ডেন টুরিস্ট ক্লাবে অন্যতম সদস্য শাকিব রেজা বলেন, তিন দিন চার রাতের গ্রুপ ট্যুরে তারা সিলেটের লালাখাল, শাপলাবিল ও জাফলং এসেছেন। তাদের সদস্য সংখ্যা ৪০ জন। তিনি বলেন এর আগে লালাখাল আরো তিনবার গ্রুপ ট্যুরে এসেছিলেন। সে সময় রাস্তার অবস্থা বেহাল ছিলো। সম্প্রতি সময় রাস্তা সংস্কার হওয়া চলতি মৌসুমে ভোগান্তি থেকে রক্ষা পাওয়া গেছে।এ বিষয়ে জৈন্তাপুর উপজেলা স্হানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী এ কে এম রিয়াজ মাহমুদ বলেন, সিলেট তামাবিল মহাসড়কের সারিঘাট উত্তর পাড় অংশ হয়ে ৭ কিলোমিটার রাস্তা দিয়ে কালিঞ্জিবাড়ী লালাখাল আসতে হয়। গত কয়েক বছর পূর্বে রাস্তার অবস্থা ভালো না থাকায় পর্যটকদের ভোগান্তির শিকার হতে হতো। কিন্তু গত ২৩-২৪ অর্থবছরে ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে স্হানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের আওতায় পুরো সাত কিলোমিটার অংশজুড়ে রাস্তার সংস্কার কাজ করায় চলতি পর্যটন মৌসুমে আর কোন ভোগান্তি নেই। যার ফলে পর্যটক ও দর্শনার্থীদের ভীড় দিন লালাখালে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
তিনি আরো বলেন অদূর ভবিষ্যতে সারীনদীর উপর কালিঞ্জিবাড়ী অংশ হতে বটতলা নিশ্চিন্তপুর অংশ পর্যন্ত একটি ঝুলন্ত সেতু নির্মাণের বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর আবেদনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এটি বাস্তবায়ন হলে অদূর ভবিষ্যতে লালাখাল হবে দেশের অন্যতম সুন্দর ভ্রমন পিপাসুদের নিকট জনপ্রিয় একটি পর্যটন স্পট।
জৈন্তাবার্তা/সুলতানা




