হলফনামায় ধরা পড়ল সিলেটের প্রার্থীদের সম্পদ চিত্র
শনিবার, ২৩ মে ২০২৬, ০২:১১ AM

সম্পদে বৈষম্য, শিক্ষায় বৈচিত্র্য কোথাও কোটিপতির দাপট, কোথাও গৃহশিক্ষক ও স্বশিক্ষিত প্রার্থীর লড়াই

হলফনামায় ধরা পড়ল সিলেটের প্রার্থীদের সম্পদ চিত্র

জৈন্তাবার্তা প্রতিবেদন

প্রকাশিত: ০১/০১/২০২৬ ০১:৩৩:৪৫ AM

হলফনামায় ধরা পড়ল সিলেটের প্রার্থীদের সম্পদ চিত্র

ছবি:সংগৃহীত


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন আসনে প্রার্থীদের দাখিল করা হলফনামা বিশ্লেষণে উঠে এসেছে বিপুল সম্পদ বৈষম্য, আয়ের বড় ফারাক এবং শিক্ষাগত যোগ্যতায় চরম বৈচিত্র্য। সিলেট-১, সিলেট-২ ও সিলেট-৪ আসনের প্রার্থীদের পাশাপাশি ঢাকা-১৫ আসনে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের হলফনামা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে-কেউ কেউ কয়েক কোটি টাকার মালিক, আবার কেউ মাত্র কয়েক লাখ টাকার সম্পদ নিয়ে নির্বাচনী মাঠে নেমেছেন।


সিলেট-১: সম্পদে এগিয়ে মুক্তাদীর, পিছিয়ে হাবিবুর

সিলেট-১ (সদর ও সিটি করপোরেশন) আসনে ১০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের মধ্যে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর সম্পদের দিক থেকে সবচেয়ে এগিয়ে। তার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২৫ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। এরপর রয়েছেন সিপিবির মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের মো. শামীম মিয়া এবং জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা হাবিবুর রহমান।

এই আসনে সম্পদের দিক থেকে সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছেন বাসদ (মার্কসবাদী)-এর সঞ্জয় কান্ত দাস, যার মোট সম্পদ মাত্র ৬ লাখ ১০ হাজার টাকা। আয়ের ক্ষেত্রেও শীর্ষে মুক্তাদীর এবং সর্বনিম্ন আয় সঞ্জয় কান্ত দাসের। শিক্ষাগত যোগ্যতায় এখানে স্নাতকোত্তর থেকে শুরু করে ৮ম শ্রেণি পাস প্রার্থীও রয়েছেন।


সিলেট-৪: ৭ বছরে আরিফুল হক চৌধুরীর সম্পদ বেড়েছে চার গুণ

সিলেট-৪ আসনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মাত্র সাত বছরে তার বার্ষিক আয় ও সম্পদ কয়েক গুণ বেড়েছে। ২০১৮ সালে যেখানে তার আয় ছিল সাড়ে ৭ লাখ টাকা, সেখানে ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩২ লাখ টাকা।

বর্তমানে আরিফুল হক চৌধুরীর স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মূল্য প্রায় ২০ কোটি টাকার কাছাকাছি। একই সময়ে তার স্ত্রী সামা হক চৌধুরীও কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন, যিনি ২০১৮ সালে কোনো আয় বা সম্পদ দেখাননি।


সিলেট-২: সম্পদে শীর্ষে লুনা, আয়ে এগিয়ে শহীদ

সিলেট-২ (বিশ্বনাথ–ওসমানীনগর) আসনে সম্পদের দিক থেকে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন বিএনপি প্রার্থী তাহসিনা রুশদীর লুনা। তার মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ২ কোটি ২৫ লাখ টাকা। খেলাফত মজলিসের মুহাম্মদ মুনতাছির আলী, জামায়াতের মো. আব্দুল হান্নান এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী আবরার ইলিয়াসও দেড় থেকে দুই কোটির কাছাকাছি সম্পদের মালিক।

অন্যদিকে আয়ের দিক থেকে শীর্ষে রয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ আব্দুস শহীদ, যার বার্ষিক আয় প্রায় ৫০ লাখ টাকা। তবে তার মোট সম্পদ মাত্র ২২ লাখ টাকার মতো। এ আসনেও রয়েছে তিনজন স্বশিক্ষিত প্রার্থী-জাতীয় পার্টির মাহবুবুর রহমান, ইসলামী আন্দোলনের আমির উদ্দিন এবং গণঅধিকারের জামান আহমদ সিদ্দিকী।


ঢাকা-১৫: কোটিপতি শফিকুরের ডুপ্লেক্স বাড়ি ও নগদ সম্পদ

ঢাকা-১৫ আসনে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। তার হলফনামা অনুযায়ী, স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের আনুমানিক মূল্য ১ কোটি ২ লাখ টাকার বেশি। এ ছাড়া তার হাতে রয়েছে প্রায় ৬০ লাখ টাকা নগদ, একটি ডুপ্লেক্স বাড়ি, কৃষিজমি, শেয়ার, যানবাহন ও স্বর্ণালংকার। তিনি কোনো ব্যাংক ঋণ গ্রহণ করেননি বলেও হলফনামায় উল্লেখ করেছেন।

জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ