ছবি:সংগৃহীত
সিলেটের খাদিমনগর শাহপরাণ (রহ.) সেতুতে টোল আদায়ের নামে প্রকাশ্যে চলছে চাঁদাবাজি। দিনের পর দিন এই চাঁদাবাজি চললেও নীরব পুলিশ প্রশাসন। বিষয়টি নিয়ে এরই মধ্যে কয়েক দফা শ্রমিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে পুলিশ প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। শ্রমিক নেতাদের অভিযোগ- বারবার এ ব্যাপারে অভিযোগ করা হলেও পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছেনা।
অভিযোগ উঠেছে সিলেট সড়ক ও জনপথ বিভাগের নামে এই সেতু থেকে টোল বাবদ প্রতিদিন প্রায় ৪ লাখ টাকা উত্তোলন করা হচ্ছে। তবে চাঁদা আদায়ের রশিদ দেওয়া হচ্ছে না। দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে চলছে এই চাঁদাবাজি। পুলিশের বিরুদ্ধেও মদদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এবিষয়ে। অবশ্য চাঁদাবাজির দায়ভার স্বীকার করতে কেউ রাজি নয়। চিহ্নিত চাঁদাবাজদের প্রশাসনে অবাধ চলাচল থাকায় তাদের বিরুদ্ধে কেউ পদক্ষেপ নেওয়া বা কথা বলার সাহস পায় না।
সিলেট শহরের অন্যমত প্রবেশদ্ধার হলো শাহপরাণ (রহ.) সেতু। এই সেতু দিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার যানবাহন যাওয়া-আসা করে। ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান শ্রমিক সংগঠনের এক নেতা জানান, এই সেতু দিয়ে প্রতিদিন ৫ হাজারের বেশি যানবাহন চলাচল করে। এসব যানবাহন থেকে টোলের নামে ৪০ টাকা থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করছে একটি চক্র। ৮০ টাকা ধরে হিসেব করলে মাসে চাঁদার পরিমাণ দাড়ায় এক কোটি ২০ লাখ টাকা।
তিনি বলেন, চক্রটি নিজেদেরকে সিলেট সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মচারি বলে পরিচয় দেয়। ২৪ ঘন্টাই চলে অপেন চাঁদাবাজি। বিষয়টি আমরা একাধিকবার পুলিশ প্রশাসনকে জানিয়েছি, প্রতিকার পাইনি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই নেতা আরও বলেন, মূলত ৫ আগস্টের পর থেকে এই চক্রটি বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তারা নিজেদেরকে সিলেট সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মচারি পরিচয় দিয়ে চাঁদা আদায় করছে। কোনো মানি রিসিট দেয় না। পুলিশের সাথেও এই চক্রের মেলামেশা রয়েছে। টহল পুলিশের গাড়ি প্রায়ই এখানে এসে থামে। চাঁদার একটি ভাগ পুলিশের পকেটে যাচ্ছে এমন ইঙ্গিতই দিলেন ওই নেতা। তবে বিষয়টি মানতে নারাজ পুলিশ প্রশাসন। তাদের দাবি, খামোখা পুলিশকে জড়ানো হচ্ছে। পুলিশের কেউ এর সাথে জড়িত নয়।
এদিকে, সিলেট সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী বলছেন বিষয়টি তার জানা নেই। সেতুটি কাউকে লিজও দেওয়া হয়নি। তাহলে কারা এই টোল আদায় করছে -এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টির খোঁজ নিয়ে দেখছি। তবে সড়ক বিভাগ, এর সাথে জড়িত নয় বলে তিনি দাবি করেন।
এদিকে, সিলেট নগরীতে দিনের বেলা ট্রাক প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে টাকার বিনিময়ে শাহপরাণ সেতু দিয়ে দিনের বেলায় অবাধে ট্রাক প্রবেশ করছে। এতে মানুষের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হওয়াসহ ঘটছে দুর্ঘটনা। পুলিশ ও সড়ক বিভাগের একটি চক্র অবৈধ এই কাজ করছে বলে দাবি করেছেন শ্রমিক সংগঠনের এক নেতা।
এ বিষয়ে সিলেট জেলা ট্রাক পিকআপ কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আবু সরকার দৈনিক জৈন্তা বার্তাকে বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে শাহপরাণ (রহ.) সেতুতে টোলের নামে প্রকাশ্যে চাদাঁবাজি চলছে। সিলেট সড়ক ও জনপথের নামে একটি চক্র এই চাঁদা আদায় করছে। বিষয়টি আমারা একাধিকবার মৌখিক এবং লিখিত ভাবে সংশ্লিষ্টদের জানিয়েছি। পুলিশ প্রশাসনও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত। তবু পদেক্ষেপ নিচ্ছে না। এক্ষেত্রে প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছি।’
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান দৈনিক জৈন্তা বার্তাকে বলেন, ‘চাঁদাবাজির বিষয়ে আমার জানা ছিল না। এসব বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চাঁদাবাজির সঙ্গে কোনো পুলিশ সদস্য জড়িত থাকার প্রমাণ পেলেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী আমির হোসেন দৈনিক জৈন্তা বার্তাকে বলেন, ‘কারা চাঁদা তোলে বিষয়টি আমার জানা নেই। আপনার মাধ্যমে জানলাম। আমি গুরুত্ব সহকারে বিষয়টি খতিয়ে দেখব। এর সাথে সড়ক ও জনপথের কেউ জড়িত থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে অবশ্যই যথাযথ ব্যবস্থা নেব।’
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




