সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ১১নং মধ্য জাফলং ইউনিয়নের বড় ধন গ্রামের ভিত্রিখেল হাওরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে দুইপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১০ আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দিবাগত রাত ১১টার দিকে গোয়াইনঘাট উপজেলার ১১নং মধ্যে জাফলং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান লোকমান শিকদারের জমিতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সময় বড় ধন গ্রামের ভিত্রিখেল হাওরে এ ঘটনা ঘটে।
এ সময় ইউপি চেয়ারম্যান লোকমান শিকদারের লোকজন ও বাউরবাগ গ্রামের রহমান গ্রুপের লোকজনের মধ্যে ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষ হয়। খবর পেয়ে গোয়াইনঘাট থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
উপজেলার ১১নং মধ্য জাফলং ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাইদুর রহমান বলেন, ১১নং মধ্য জাফলং ইউনিয়নের ভিত্রিখেল হাওরে ইউপি চেয়ারম্যান লোকমান শিকদারের জমি থেকে কয়েকদিন ধরে বোমা মেশিন ও এক্সকেভেটর দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে শিকদারের লোকজন। বালু উত্তোলনের ফলে কৃষিজমি ধ্বংস হওয়ায় বাউরবাগ গ্রামের লোকজন এ ব্যাপারে বারবার প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিলেন। এ নিয়ে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কয়েক দফায় বোমা মেশিনের চালক ও শ্রমিকদের মধ্যে উত্তেজনার ঘটনা ঘটে। পরে রাত ১১টায় দুইপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১০ আহত হয়েছেন।
আহতদের বেশিরভাগ গোয়াইনঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। ওই দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে জানতে ইউপি চেয়ারম্যান লোকমান শিকদারের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। জানা গেছে, তিনি পবিত্র হজ্জ পালনের জন্য বর্তমানে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন।
গোয়াইনঘাট থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) বিশ্বজিৎ কুমার বলেন, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে রহমান গ্রুপ ও শিকদার গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় উভয়পক্ষের অন্তত ১০ আহত হয়েছেন। তারা বর্তমানে গোয়াইনঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
গোয়াইনঘাট থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কবীর হোসেন বলেন, রাতের আঁধারে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে দুইপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় উভয়পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতরা বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জৈন্তা বার্তা/আরআর




