সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার কালীগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী নোমান উদ্দিন অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত আসামিদের গ্রেপ্তার এবং ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন নিহতের শ্যালক হানিফ আহমদ সুমন। একই সঙ্গে তিনি রিমান্ডে নির্যাতনের অভিযোগ তুলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
রবিবার (১ মার্চ) জকিগঞ্জে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে তিনি এসব অভিযোগ ও দাবি তুলে ধরেন।
লিখিত বক্তব্যে হানিফ আহমদ সুমন অভিযোগ করেন, জমিজমা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে নোমান উদ্দিনকে পরিকল্পিতভাবে অপহরণ করে হত্যা করা হয়েছে। তবে ঘটনার শুরু থেকেই পুলিশ প্রশাসনের গাফিলতি, পক্ষপাতমূলক আচরণ এবং প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করার চেষ্টা লক্ষ্য করা গেছে।
তিনি বলেন, ২০২৫ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর নোমান উদ্দিন প্রতিদিনের মতো কালীগঞ্জ বাজারে তার দোকানে যান এবং পরে নিখোঁজ হন। পরদিন সকালে তার মোবাইলে একটি কল আসে, যেখানে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় এবং টাকা না দিলে তাকে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়। বিষয়টি জানাতে থানায় গেলেও প্রথমে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি এবং পরে জিডি গ্রহণ করা হয়।
পরবর্তীতে নোমান উদ্দিনের লাশ উদ্ধারের খবর পেয়ে পরিবার গিয়ে শনাক্ত করে পুলিশকে জানায়। এ সময় নিহতের ছোট ভাই ও চাচাতো ভাইরা পরিবারের ওপর হামলা চালায় বলেও সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে হানিফ আহমদ সুমন বলেন, ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য হওয়া সত্ত্বেও তদন্তের নামে তাকে আটক করে মামলার আসামি করা হয় এবং আদালতের অনুমতিতে রিমান্ডে নেওয়া হয়।
রিমান্ড চলাকালে তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি দাবি করেন, নির্যাতনের মাধ্যমে তার কাছ থেকে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায়ের চেষ্টা করা হয়; কিন্তু তিনি কোনো স্বীকারোক্তি দেননি। পরবর্তীতে পুলিশ তার বিরুদ্ধে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি দিয়েছেন— এমন প্রচার চালায়, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা।
সুমনের ভাষ্য, তাকে পরিকল্পিতভাবে মামলার আসামি বানিয়ে প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছে। পুলিশ প্রতিবেদনে তার সঙ্গে নিহতের বিরোধ ও আর্থিক লেনদেন নিয়ে যে অভিযোগ আনা হয়েছে তা ভিত্তিহীন; প্রকৃত বিরোধ ছিল নিহতের ভাই ও চাচাতো ভাইদের সঙ্গে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, থানা পর্যায়ের তদন্তে আস্থা না থাকায় নিহতের স্ত্রী মনোয়ারা বেগম ২০২৫ সালের ১২ অক্টোবর আদালতে প্রকৃত আসামিদের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। আদালত মামলাটি সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দেন এবং বর্তমানে সংস্থাটি তদন্ত করছে।
হানিফ আহমদ সুমন অভিযোগ করেন, আসামিপক্ষ তাদের পরিবারকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে এবং গণমাধ্যমের সামনে যেতে বাধা দিচ্ছে। এতে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে নোমান উদ্দিন হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রকৃত হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, রিমান্ডে নির্যাতনের অভিযোগে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
জৈন্তা বার্তা/আরআর




