সিলেটে পাকিস্তানকে ধবলধোলাই করে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ
বুধবার, ২০ মে ২০২৬, ০২:১৭ PM

সিলেটে পাকিস্তানকে ধবলধোলাই করে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ

স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০/০৫/২০২৬ ১২:৪১:৩০ PM

সিলেটে পাকিস্তানকে ধবলধোলাই করে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ

ছবি : সংগৃহীত


পাকিস্তানের সামনে ছিল ৪৩৭ রানের বিশাল লক্ষ্য। সেটা তাড়া করতে হলে গড়তে হবে বিশ্ব রেকর্ড। এমন ম্যাচে মোহাম্মদ রিজওয়ানের ব্যাটে স্বপ্ন দেখছিল পাকিস্তান। চতুর্থ দিনের মতো পঞ্চম দিনের সকালেও বাংলাদেশের মাথাব্যথার কারণ ছিলেন রিজওয়ান। অবশেষে অভিজ্ঞ এই ব্যাটারের প্রতিরোধ ভাঙতে পেরেছেন শরিফুল। সেঞ্চুরি থেকে ৬ রান দূরে থাকা রিজওয়ানকে থামিয়ে সিলেট টেস্টে বাংলাদেশকে জয় উপহার দিয়েছেন এই পেসার। সেই সঙ্গে সিরিজও নিজেদের করে নিল নাজমুল হোসেন শান্তর দল।

দুই ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে বাংলাদেশের জয় ৭৮ রানে। টানা দুই টেস্ট সিরিজ জিতল স্বাগতিকরা। ঘরের মাটিতে টেস্ট ক্রিকেটে এটিই প্রথমবার পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করার ঘটনা।

বুধবার সকালে ৭ উইকেটে ৩১৬ রান নিয়ে খেলা শুরু করে পাকিস্তান। রান তাড়ায় বিশ্ব রেকর্ড গড়ে জয় পেতে সফরকারীদের দরকার ছিল আরও ১২১ রান। টানা দুটি টেস্ট সিরিজে পাকিস্তানকে অলআউট করতে বাংলাদেশের চাওয়া ছিল শেষ তিন উইকেট। 

সমীকরণ যখন এই তখন দিনের প্রথম ঘণ্টায় ফের বাংলাদেশের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়ান রিজওয়ান। আগের দিন ষষ্ঠ উইকেটে সালমান আলি আগাকে নিয়ে রিজওয়ান দুশ্চিন্তায় ফেলে দিয়েছিলেন বাংলাদেশকে। আজ পাকিস্তানকে টানেন টেলএন্ডারদের নিয়ে।

দিনের প্রথম ঘণ্টায় সাজিদ খানকে নিয়ে থিতু হয়ে যান রিজওয়ান। গড়ে ফেলেন জুটির পঞ্চাশ। অবশেষে সেই জুটি ভাঙলেন তাইজুল ইসলাম। বাঁহাতি স্পিনারের চমৎকার ডেলিভারিতে স্লিপে ধরা পড়লেন সাজিদ। বিদায় নেন ৩৬ বলে ২৮ রান করে। ৫৪ রানের এই জুটি ভাঙার পরই মূলত ফিকে হয়ে যায় পাকিস্তানের আশা। কারণ সাজিদের পর দ্রুতই ফেরেন রিজওয়ান নিজেও। 

পঞ্চম দিনে প্রথমবারের মতো আক্রমণে এসেই সেই সাফল্য এনে দেন শরিফুল ইসলাম। এক প্রান্ত আগলে রাখা মোহাম্মদ রিজওয়ানকে বিদায় করলেন বাঁহাতি এই পেসার। ম‍্যাচে এটাই তার প্রথম উইকেট! আর সেটাই পাকিস্তানের সবচেয়ে শক্ত ব্যাটারের।

মূলত শরিফুলের প্রথম বল ছিল অফ স্টাম্পের বাইরে। জায়গায় দাঁড়িয়ে ব‍্যাট চালিয়ে দেন রিজওয়ান। গালিতে চমৎকার ক‍্যাচ নেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ১৬৬ বলে ১০ চারে ৯৪ রান করে শেষ হয় উইকেট কিপার এই ব্যাটারের ইনিংস। 

শরিফুলের পর তাইজুল এসে বিদায় করেন পাকিস্তানের শেষ ব্যাটারকে। বাঁহাতি স্পিনারের বলে ছক্কা মারতে গিয়ে ওয়াইড লং- অনে ক্যাচ দেন খুররাম শাহজাদ। সেই ক্যাচের সঙ্গেই সমাপ্ত হয় পাকিস্তানের ইনিংস। আর বাংলাদেশ জিতে যায় প্রত্যাশিত সিরিজ। 

বল হাতে পুরো টেস্টে দুর্দান্ত করা তাইজুল নিয়েছেন ৬ উইকেট। এর আগে প্রথম ইনিংসেও নেন তিনটি। মোট এই টেস্টে তার শিকার ৯টি।  এ ছাড়াও নাহিদ রানা দুই ইনিংস মিলিয়ে নিয়েছেন ৫টি। তাসকিন ও মিরাজ; দুজনেরই দুই ইনিংস মিলিয়ে সমান দুটি করে। শরিফুলের শিকার একটি।

এর আগে টেস্টের প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ সংগ্রহ করে ২৭৮ রান। বিপরীতে পাকিস্তান করে ২৩২ রান। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে নেমে ৩৯০ রানের সংগ্রহ তুলে বাংলাদেশ। দলের হয়ে মুশফিকুর রহিম হাঁকান রেকর্ড গড়া সেঞ্চুরি। আর ফিফটি তুলে নেন লিটন দাস ও মাহমুদুল হাসান জয়। তাদের ধ্রুপদি ব্যাটিংয়ে পাকিস্তানকে কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয় নাজমুল হোসেন শান্তর দল। যে চ্যালেঞ্জ টপকে জয়ের নাগাল পায়নি পাকিস্তান। 

এ নিয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা চার ম্যাচে জিতল বাংলাদেশ। নিজেদের টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসে নির্দিষ্ট প্রতিপক্ষের বিপক্ষে চার টেস্ট জয়ের রেকর্ড প্রথম বাংলাদেশের।

জৈন্তাবার্তা / আরআর