বিছনাকান্দিতে ভিজিএফের চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ
বুধবার, ২০ মে ২০২৬, ০৮:৪৮ AM

বিছনাকান্দিতে ভিজিএফের চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ

সৈয়দ হেলাল আহমদ বাদশা, স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ১৯/০৫/২০২৬ ০৮:১০:০৫ PM

বিছনাকান্দিতে ভিজিএফের চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ

সংগৃহিত


সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ১৩ নম্বর বিছনাকান্দি ইউনিয়নে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ভিজিএফের চাল বিতরণে অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে মহিলা ইউপি সদস্য শ্রীমতি পদ্মা দেবী সিংহের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে হাদারপার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাল বিতরণের সময় সুবিধাবঞ্চিত অসহায় নারী-পুরুষ এ অভিযোগ করেন।

স্থানীয়দের দাবি, ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য পদ্মা দেবী সিংহের কাছে ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডে সদস্য না থাকায় অতিরিক্ত ১১০ জনের তালিকাসহ মোট ১৬৫ জন হতদরিদ্রের জন্য চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রত্যেককে ১০ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা থাকলেও প্রকৃত সুবিধাভোগীদের অনেকেই চাল পাননি।

মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে হাদারপার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ভিজিএফের চাল বিতরণ চলছে। তবে সুবিধাভোগীদের নির্ধারিত পরিমাণ অনুযায়ী চাল বিতরণ না করে বস্তায় বস্তায় চাল মোটরসাইকেলে করে নিয়ে যেতে দেখা যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতি বস্তায় পাঁচজনের চাল থাকলেও একজন ব্যক্তি পুরো বস্তা নিয়ে যাচ্ছিলেন। এতে প্রকৃত দরিদ্র ও অসহায় মানুষ সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

চাল না পেয়ে ফিরে আসা কয়েকজন নারী-পুরুষ অভিযোগ করে বলেন, পদ্মা দেবীর বাড়ির পাশের লোকজন এক থেকে দুই বস্তা পর্যন্ত চাল পেয়েছেন। অথচ বগাইয়া দক্ষিণপাড়া, মধ্যপাড়া, আসামপাড়া ও আশপাশের এলাকার বহু অসহায় পরিবার সারাদিন অপেক্ষা করেও চাল পাননি।

বগাইয়া দক্ষিণপাড়ার বিধবা, অগ্নিদগ্ধ ও বাকপ্রতিবন্ধী নাছিমা আক্তার বলেন, 'আমরা কয়েকজন তিন মাইল পথ হেঁটে ও খেয়া পার হয়ে হাদারপার বাজারে গিয়েছিলাম। বিকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করেও চাল পাইনি। অথচ মেম্বারের বাড়ির পাশের অনেকেই এক-দুই বস্তা করে চাল নিয়েছেন।'

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক ভুক্তভোগী নারী অভিযোগ করে বলেন, “সারাদিন বসে থেকেও চাল পাইনি। কিন্তু মেম্বারের বাড়ির পাশের লোকজন একাধিক বস্তা চাল নিয়েছেন। পরে সেই চালের একটি অংশ আবার মেম্বারকে দেওয়ার কথাও শুনেছি।”

এ বিষয়ে বিছনাকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক বদরুল ইসলাম বলেন, '২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডে সদস্য না থাকায় ওই অংশের বরাদ্দও মহিলা সদস্যকে দেওয়া হয়েছিল। চাল বিতরণের আগে আমি স্পষ্টভাবে নির্দেশ দিয়েছিলাম যেন কোনো মহল্লা বাদ না পড়ে, বিশেষ করে হাওরাঞ্চলের বগাইয়া দক্ষিণ ও ঝারিখাল কান্দির মানুষ।'

ভিজিএফ চাল বিতরণে দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসার ও উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা খছরুল আলম বলেন, 'আজ দুপুরে আমি দায়িত্বপ্রাপ্ত হওয়ার চিঠি পেয়েছি। শুনেছি আমার অনুপস্থিতিতেই চাল বিতরণ করা হয়েছে।'

গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রতন কুমার অধিকারী বলেন, 'বিষয়টি গণমাধ্যমের মাধ্যমে জেনেছি। অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

জৈন্তা বার্তা /ওয়াদুদ