ছবি নিজস্ব
দেশের সাধারণ মানুষের কাছে 'মুড়া কচু' একটি পরিচিত সবজি হলেও সিলেট অঞ্চলে এর রয়েছে আলাদা কদর ও ঐতিহ্য। বিশেষ করে গোলাপগঞ্জের ফুলবাড়ি এলাকা বহুদিন ধরেই 'মুড়া কচুর গ্রাম' হিসেবে পরিচিত। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত সিলেটিদের কাছেও এই কচুর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
অন্যান্য বছরের মতো চলতি বছরও গোলাপগঞ্জ উপজেলার ফুলবাড়ি ইউনিয়নে মুড়া কচুর ফলন ভালো হয়েছে। স্থানীয় অনেক কৃষক শুধুমাত্র মুড়া কচু ও কচুর লতি বিক্রি করেই জীবিকা নির্বাহ করছেন। কেউ কেউ আবার বংশপরম্পরায় এই পেশার সঙ্গে জড়িত।
সিলেট-জকিগঞ্জ সড়কের বড় মোকাম এলাকায় প্রতিদিন বসছে জমজমাট মুড়া কচুর হাট। বড় মোকাম জামে মসজিদের কাছেই সকাল থেকে শুরু হওয়া এই হাটে ক্রেতাদের ভিড় থাকে চোখে পড়ার মতো।
স্থানীয় কৃষক সুলতান আহমদ জানান, বর্তমানে মুড়া কচুর দাম কিছুটা কম হলেও কচুর লতি বিক্রি করে ভালো আয় হচ্ছে। মুড়া কচুর হালি ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হলেও কচুর লতি প্রতি আটি ৬০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ক্রেতা জুবের আহমদ বলেন, ফুলবাড়ির মুড়া কচু ও লতির স্বাদ আলাদা। এগুলো খেতে খুবই সুস্বাদু এবং চুলকায় না। তাই বারবার কিনতে আসি।
মুড়া কচু ও কচুর লতি সাধারণত শুঁটকি বা চিংড়ি দিয়ে রান্না করা হয়। লতির সঙ্গে নাগা মরিচ ও কাঁঠালের বিচি যোগ করলে এর স্বাদ আরও বাড়ে, যা স্থানীয় খাবারের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য।
কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, নিচু ও পলি দোয়াস মাটিতে মুড়া কচু ভালো জন্মে। এই কচুর মূল, লতি, কাণ্ড ও পাতা— সবই সবজি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এতে রয়েছে প্রচুর শ্বেতসার, লৌহ, ফসফরাস, ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন এ ও সি, যা মানবদেহের জন্য উপকারী এবং বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে সহায়ক।
প্রতিদিন বড় মোকামের এই হাটে মুড়া কচু, কচুর লতি ও কচুর ফুল বিক্রি করে অনেক কৃষক স্বাবলম্বী হচ্ছেন। ফলে স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
জৈন্তা বার্তা/আরআর




