ধান-খড় সংগ্রহে ব্যস্ত বালাগঞ্জের কৃষক
বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ১১:৫৭ PM

মাঠ থেকে সড়কজুড়ে ধান শুকানো, কাজে সহযোগিতা করছে পরিবারের সদস্যরাও

ধান-খড় সংগ্রহে ব্যস্ত বালাগঞ্জের কৃষক

বালাগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৭/০৫/২০২৬ ১০:৫২:১২ PM

ধান-খড় সংগ্রহে ব্যস্ত বালাগঞ্জের কৃষক

ছবি:সংগৃহীত


শাহাব উদ্দিন শাহিন, বালাগঞ্জ প্রতিনিধি :

বোরো মৌসুমের ধান কাটা শেষ হলেও এখন ধান ও খড় শুকানো এবং সংগ্রহের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার কৃষকরা। তাদের সঙ্গে সহযোগিতা করছে পরিবারের ছেলে-মেয়েরাও, বিশেষ করে তরুণ-তরুণী ও কিশোর-কিশোরীরা।

গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টির কারণে অনেক কৃষক ধান-খড় শুকাতে পারেননি। তবে গত দুই দিন রোদ ওঠায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পুরোদমে চলছে ধান ও খড় শুকানোর কাজ। বাড়ির উঠান, আঙিনা, বারান্দা এমনকি বিভিন্ন সড়কেও দেখা গেছে ধান ও খড় শুকানোর দৃশ্য।

সরেজমিনে দেখা যায়, ৬ মে বালাগঞ্জ থেকে কুশিয়ারা ডাইক ফাজিলপুর পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার এবং ৭ মে বালাগঞ্জ-সুলতানপুর সড়কের প্রায় ১৭ কিলোমিটারজুড়ে সড়কে ধান ও খড় শুকানো হচ্ছে। কৃষকরা মেশিনের সাহায্যে ধান মাড়াই, ধান-খড় শুকানো, উল্টেপাল্টে দেওয়া, বাতাস দিয়ে ধান পরিষ্কার করা এবং বস্তাবন্দির কাজ করছেন।

যাদের বাড়িতে উঠান, আঙিনা বা ছাদ রয়েছে, সেসব স্থানেও কৃষাণীরা ধান শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত রোদে পুড়ে নিরলস পরিশ্রম করছেন তারা। দিনের কাজ শেষে রাতেও সামলাতে হচ্ছে সংসারের নানা দায়িত্ব।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে বালাগঞ্জ উপজেলায় বোরো ধানের উৎপাদন ভালো হয়েছে এবং লক্ষ্যমাত্রাও পূরণ হয়েছে।

পশ্চিম গৌরীপুর ইউনিয়নের নিয়ামতপুর গ্রামের কৃষক আনোয়ার আলী, নলজুড় গ্রামের কৃষক লিটন মিয়া এবং বালাগঞ্জ ইউনিয়নের রহমতপুর গ্রামের কৃষক আসার আলী জানান, এ বছর ধানের ফলন ভালো হয়েছে। তবে বৃষ্টির কারণে কিছু ধান ও খড় নষ্ট হয়েছে। বৃষ্টি না হলে ধান সংগ্রহ ও শুকানোর কাজে কষ্ট কম হতো।

বালাগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আশিকুর রহমান বলেন, এ বছর ধানের ফলন সন্তোষজনক হয়েছে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মোঃ নুরুজ্জামান জানান, উপজেলায় ৮ হাজার ১শ’ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছে এবং ফলনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রতি হেক্টরে ৪ দশমিক ০৯ টন। তিনি আরও জানান, ব্রি ধান-১০০, ব্রি ধান-৯৬, ব্রি ধান-১০৮ ও বিভিন্ন হাইব্রিড জাতের ধান কাটা ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।

জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ