ছবি নিজস্ব
গায়ে-গতরে খেটে জীবিকা নির্বাহ করা মানুষ বারকি শ্রমিক। রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে, বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে পানিতে ডুব দিয়ে অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে জীবন বাজি রেখে বালতি-বেলচা দিয়ে বালি-পাথর সংগ্রহ করে জীবন ধারণ করা গোয়াইনঘাট উপজেলার বারকি শ্রমিকরা এখন দিশেহারা। দীর্ঘদিন থেকে কোয়ারী বন্ধ থাকায় কর্মসংস্থান হারিয়ে হাজার হাজার বারকি শ্রমিক দীর্ঘদিন ধরে অনাহার-অর্ধাহারে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। হাজারও শ্রমিক কাজের সন্ধানে প্রতিদিন ঘুরেও কাজ পাচ্ছেন না। পেশা পরিবর্তনের সুযোগ না থাকায় এই শ্রমিকরা চরম হতাশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। সাধারণ শ্রমিকরা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। এখানকার অর্থনৈতিক অবস্থায় চরম সংকট দেখা দিয়েছে।
শ্রমিকরা জানান, আগে প্রতিদিন কাজ করে সংসার চালাতে পারলেও এখন তারা বেকার জীবন যাপন করছেন। বিশেষ করে গেল ঈদুল ফিতরেও কাজের কোনো সুযোগ না থাকায় শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের ঈদের আনন্দ ছিল অনেকটাই ম্লান। অনেক পরিবার স্বাভাবিকভাবে ঈদ উদযাপন করতে পারেনি। নতুন কাপড় কেনা তো দূরের কথা, নিত্যপ্রয়োজনীয় চাহিদা মেটাতেও হিমশিম খেতে হয়েছে তাদের।
তারা বলেন, ছেলে-মেয়ের লেখাপড়া আর পরিবার-পরিজন নিয়ে একটু সুস্থভাবে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখাটা আমাদের কাছে এখন গরিবের ঘোড়া রোগের মতো। সাম্প্রতিক সময়ে প্রশাসনের অভিযান মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দেখা দিয়েছে। দুর্দশাগ্রস্ত বিপন্ন শ্রমিকদের ওপর নতুন করে আবার নিপীড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
গোয়াইনঘাট উপজেলার মধ্য জাফলং ইউনিয়ন বারকি শ্রমিক সংগঠনের সভাপতি লোকমান হোসেন বলেন, আমাদের জীবিকার একমাত্র সম্বল বারকি নৌকা। সেই নৌকাগুলো নদীর পাড়ে বন্ধ থাকা অবস্থায় প্রশাসন অভিযান চালিয়ে ভাঙচুর করে। প্রশাসনের এই বিমাতাসুলভ আচরণ আমাদের কর্মহীন শ্রমিকদের জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
তিনি বলেন, ড্রেজার মেশিন ফেলুডার দিয়ে বালু ও পাথর উত্তোলন করা হয়। এমনকি নদী দিয়ে বড় বড় ভলগেট আসে। এসবের বিরুদ্ধে অভিযান হয় না। অভিযান শুধু শ্রমিকের কর্মের ওপর। এটা শ্রমিকের পেটে লাথি দেওয়া। প্রশাসনের অভিযান সাম্প্রতিক সংকটকে বিবেচনা করে যৌক্তিক সময়ে পরিচালনা করা উচিত।
তিনি হাজার হাজার শ্রমিকের বেকারত্ব বিবেচনা করে শ্রমিকদের বিকল্প কর্মসংস্থার সৃষ্টির জন্য প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী, সিলেট-৪ আসনের সংসদ সদস্য আরিফুল হক চৌধুরীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। নতুবা ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে বালু-পাথর উত্তোলনের পথ খুলে দেওয়ার দাবি জানান।
বারকি শ্রমিক সংগঠনের সদস্য আব্দুল জলিল বলেন, শ্রমিকের কথা কেউ ভাবে না। আমাদের মনে খুব কষ্ট। আমরা সবাই একত্রিত হয়ে আমাদের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য আরিফুল হক চৌধুরীকে ভোট দিয়ে এমপি বানিয়েছে, তিনি মন্ত্রী হয়েছেন। আমি পায়ে ধরে বলছি, দয়া করে আমাদের একমাত্র কর্মসংস্থান কোয়ারী খুলে দিন। নয়তো বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করুন, যাতে আমরা গায়ে-গতরে খেটে জীবিকা নির্বাহ করতে পারি। আমরা লাখ টাকা চাই না, পরিবার-পরিজন, বাচ্চা-কাচ্চা নিয়ে দু'বেলা দু'মুঠো ডাল-ভাত পেট ভরে খেতে চাই।
জৈন্তা বার্তা/আরআর




