“তরুণ প্রজন্ম বুঝতে চায় না, চায় শুধু ভাইরাল হতে” বললেন আ ন ম এহছানুল হক মিলন
রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৩১ PM

“তরুণ প্রজন্ম বুঝতে চায় না, চায় শুধু ভাইরাল হতে” বললেন আ ন ম এহছানুল হক মিলন

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৬/০৪/২০২৬ ০৪:১৯:১৯ PM

“তরুণ প্রজন্ম বুঝতে চায় না, চায় শুধু ভাইরাল হতে” বললেন আ ন ম এহছানুল হক মিলন

সংগৃহীত


দেশের তরুণ সমাজ ‘ইনস্ট্যান্ট কফির’ মতো, তারা বোঝার সক্ষমতাও হারিয়ে ফেলেছে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা ভাইরাল হতে চায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।আজ রোববার গবেষণা ও উদ্ভাবন কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করা এবং উদ্ভাবকদের স্বার্থ সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) ‘বিশ্ব মেধাস্বত্ব দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘দেশের ২৭ শতাংশ জনসংখ্যা তরুণ। কিন্তু তারা ‘‘ইনস্ট্যান্ট কফির’’ মতো; ইনস্ট্যান্ট কমেন্ট করে, ইনস্ট্যান্ট রিয়েক্ট করে। তারা গভীরভাবে বিশ্লেষণও করতে চায় না, বুঝতেও চায় না। বোঝার সক্ষমতাও তারা হারিয়ে ফেলেছে।’

তাহলে গবেষণা, উদ্ভাবন আর অগ্রগতি কীভাবে হবে-এমন প্রশ্ন রেখে মন্ত্রী বলেন, ‘তাদের মধ্যে ভাইরাল হওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এমনকি তারা ইউনিফর্ম পরেও শিক্ষক-মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের বাজে উক্তি করতে দেরি করে না।’‘তার মানে আমাদের ইয়াং জেনারেশনকে নৈতিকতা বিবর্জিত কোন জায়গায় নিয়ে যাচ্ছি? আমরা কোনো কিছুই নিয়ন্ত্রণ করতে পারছি না’, যোগ করেন এহছানুল হক মিলন।

তিনি বলেন, ‘আপনি কি ভেবে দেখেছেন, এখনকার সময়ে অনেকেই ফেসবুকে লাইভে এসে এমনভাবে মন্তব্য করেন, যা একেবারেই অযাচিত ও অসংলগ্ন। তারা হাই, গো অ্যাহেড, ডু আ রিসার্চ এ ধরনের নানা মন্তব্য করেন। এটি অনেক সময় উদ্দেশ্যহীনভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে ফেসবুক লাইভ দেখা এবং ভাইরাল হওয়ার একটি প্রবণতা তৈরি হয়েছে।’এ অবস্থায় আমাদের তরুণ প্রজন্মকে নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী। তার মতে, ইউজিসির এই অনুষ্ঠান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক মেধাস্বত্ব (ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি) ব্যবস্থার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অনেক পিছিয়ে।তিনি বলেন, ‘আমরা দেখছি, আমাদের দেশের উদ্ভাবন ও মেধাস্বত্ব অন্য দেশে গিয়ে রেজিস্ট্রেশন ও ট্রেডমার্ক পাচ্ছে, কিন্তু আমরা নিজের দেশে যথাযথভাবে তা প্রতিষ্ঠা করতে পারছি না, মূলত প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার দুর্বলতার কারণে।’

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘মেধাস্বত্ব দেশে ফিরিয়ে আনতে রিভার্স ব্রেইন-ড্রেইন জরুরি। বিদেশে পড়তে যাওয়া অনেকেই ফিরছেন, তবে কত মেধা হারাচ্ছি, সেটির সঠিক পরিসংখ্যান নেই। এ ব্যাপারে সরকার ও সংশ্লিষ্টদের আরও উদ্যোগ নিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী উদ্ভাবনের সঙ্গে খেলাধূলাকে যুক্ত করে গুরুত্ব দিয়েছেন।’তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় বড় বাজেট থাকলেও গবেষণার জন্য কোনো বাজেট নেই। বিশ্ববিদ্যালয় ও মন্ত্রণালয় থেকে এ নিয়ে কাজ করতে হবে। বাজেটে জিডিপির ৫ শতাংশ রাখার ব্যাপারে রাখার নির্দেশ দিয়েছে প্রধানমন্ত্রী।

কর্মশালায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজবে কান না দেওয়ারও আহ্বান জানান শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘গুজবের কারণে ছাত্ররা যেনো ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে ব্যাপারে সবাইকে সহযোগিতা কর‍তে হবে।এ ধরনের গুজবে সরকার বিব্রত।’

জৈন্তাবার্তা/সুলতানা