দীর্ঘ আইনি ল*ড়াই শেষে ইউপি সদস্যের শপথ বড়লেখার রশিদ আহমদের
মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ১০:০৭ PM

দীর্ঘ আইনি ল*ড়াই শেষে ইউপি সদস্যের শপথ বড়লেখার রশিদ আহমদের

মোহাম্মদ মোস্তফা উদ্দিন, বড়লেখা প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১১/০৮/২০২৬ ০৮:৩৩:৩৫ PM

দীর্ঘ আইনি ল*ড়াই শেষে ইউপি সদস্যের শপথ বড়লেখার রশিদ আহমদের

ছবি:সংগৃহীত


নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের প্রায় পাঁচ বছর পর মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার নিজ বাহাদুরপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন রশিদ আহমদ সোনাম। আদালতের রায়ে নির্বাচনে বিজয়ী ঘোষণার পর মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

উপজেলা পরিষদের সেমিনার কক্ষে রশিদ আহমদ সোনামকে শপথবাক্য পাঠ করান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহবুবুল আলম মাহবুব। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাঈমা নাদিয়া, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হাওলাদার আজিজুল ইসলাম।

যেভাবে শুরু হয় আইনি লড়াই

২০২১ সালের ২৮ নভেম্বর নিজ বাহাদুরপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য পদে ফুটবল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তৎকালীন ইউপি সদস্য রশিদ আহমদ সোনাম। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন মোরগ প্রতীকের প্রার্থী খসরুজ্জামান।

ভোট গণনা শেষে গল্লাসাঙ্গন দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্রের প্রিজাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তারা রশিদ আহমদ সোনামের ৫৩টি ব্যালট পেপার অবৈধ ঘোষণা করেন। পরে খসরুজ্জামানকে পাঁচ ভোটে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।

রশিদ আহমদ সোনামের দাবি, তাঁর পোলিং এজেন্ট অবৈধভাবে ব্যালট বাতিলের বিষয়ে জোরালো আপত্তি জানালেও তা আমলে নেওয়া হয়নি। এছাড়া প্রিজাইডিং কর্মকর্তা জোরপূর্বক ফলাফল শিটে এজেন্টের স্বাক্ষর নিলেও তাঁকে ফলাফল শিটের অনুলিপি দেওয়া হয়নি।

এ ঘটনায় রশিদ আহমদ সোনাম নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন।

আদালতের রায়ে বিজয়ী ঘোষণা

মামলার দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে মৌলভীবাজারের সিনিয়র সহকারী জজ আদালতের বিচারক মুহাম্মদ জালাল উদ্দিন রশিদ আহমদ সোনামকে বিজয়ী ঘোষণা করেন।

পরে সংশোধিত গেজেট প্রকাশ করা হয়। তবে শপথ গ্রহণের ঠিক আগে প্রতিপক্ষ খসরুজ্জামানের করা রিট পিটিশনের কারণে তাঁর শপথ আটকে যায়।

সর্বশেষ চলতি বছরের ৯ জুলাই বিচারপতি মো. হাবিবুল গনি ও বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তাজরুল হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ খসরুজ্জামানের দায়ের করা রিট পিটিশন সরাসরি খারিজ করে দেন। একই সঙ্গে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের মূল রায় বহাল রেখে আগের সব স্থগিতাদেশ বাতিল ঘোষণা করেন আদালত।

এরপর গত ৯ আগস্ট মৌলভীবাজার স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক রুবেল মাহমুদ রশিদ আহমদ সোনামকে ইউপি সদস্য হিসেবে শপথ পড়ানোর জন্য বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন।

‘আদালতের রায়ে ন্যায়বিচার পেয়েছি’

শপথ গ্রহণের পর রশিদ আহমদ সোনাম বলেন, ‘২০২১ সালের নির্বাচনে আমি প্রকৃত বিজয়ী ছিলাম। অনৈতিকভাবে প্রভাব খাটিয়ে কারচুপির মাধ্যমে আমাকে ভোটে পরাজিত দেখানো হয়েছিল। আদালতের রায়ে আমি ন্যায়বিচার পেয়েছি। সত্যের বিজয় হয়েছে।’

বড়লেখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুল আলম মাহবুব বলেন, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী মঙ্গলবার উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে নিজ বাহাদুরপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হিসেবে রশিদ আহমদ সোনামকে শপথ পড়ানো হয়েছে। শপথের মধ্য দিয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।

হাইকোর্টে রশিদ আহমদ সোনামের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী তৌফিক আনোয়ার চৌধুরী। তিনি বলেন, দীর্ঘ শুনানি শেষে হাইকোর্টের রায়ে তাঁর মক্কেল ন্যায়বিচার পেয়েছেন। দীর্ঘ ৪ বছর ৯ মাস পর শপথ গ্রহণের মাধ্যমে তিনি কাঙ্ক্ষিত দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।

মৌলভীবাজার নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে রশিদ আহমদ সোনামের পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট আব্দুল মতিন।

এদিকে রশিদ আহমদ সোনামের ভোটার ও সমর্থকরা অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে তাঁকে নির্বাচনে পরাজিত দেখানোর ঘটনায় সংশ্লিষ্ট প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ও পোলিং কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ



শীর্ষ সংবাদ: