ছবি নিজস্ব
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের অন্তত অর্ধশতাধিক জনগুরুত্বপূর্ণ সড়ক খুবই বেহাল। দীর্ঘদিন ধরে মেরামত না হওয়ায় এসব সড়ক এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোর ইট, বালু ও পিচ ঢালাই উঠে গিয়ে খানাখন্দে পরিণত হয়েছে। অধিকাংশ জায়গায় বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে তা মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। গর্তে ভরা এসব সড়ক দিয়ে সকল প্রকার যানবাহনসহ মানুষের চলাচল এখন অসহনীয় হয়ে পড়েছে। সড়কগুলো ব্যবহার করে প্রতিদিন হাজার হাজার শিক্ষার্থী স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসায় কষ্ট করে যাওয়া-আসা করছে। সড়কগুলো চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ায় কুলাউড়ার কৃষকরাও উৎপাদিত পণ্য সঠিক সময়ে হাট-বাজারে নিতে পারছেন না।
এসব সড়ক মেরামতের দাবিতে বিগত সময়ে ভুক্তভোগীরা মানববন্ধনসহ বিভিন্ন আন্দোলন কর্মসূচি করে প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একাধিক লিখিত আবেদন করেছেন। কিন্তু কার্যত কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গাফিলতি ও দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনায় সড়ক মেরামতে উদ্যোগ না নেয়ায় মানুষের যাতায়াতে ভোগান্তি বেড়েছে। এই নাজুক পরিস্থিতির কারণে নিত্যদিনের যাতায়াতে সময় নষ্ট, স্বাস্থ্যঝুঁকি ও প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে।
সরেজমিনে উপজেলার লস্করপুর-লক্ষীপুর সড়ক, শ্রীপুর-বনগাঁও সড়ক, কটারকোনা-হাজীপুর ইউপি অফিস সড়ক, কুলাউড়া উপজেলা সদর-ফুলেরতল-নবাবগঞ্জ সড়কসহ বিভিন্ন সড়ক পরিদর্শন করে দেখা যায়, সড়কগুলোতে কার্পেটিং উঠে গিয়ে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দ সৃষ্টি হওয়ায় রাস্তাগুলো মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। কোনো কোনো সড়কে শতাধিক বড় গর্ত তৈরি হয়েছে।
ভুক্তভোগী লোকজন জানান, এসব সড়কের মধ্যে কোনো সড়ক ৫ বছর, আবার কোনো সড়ক ১৫-২০ বছরেও মেরামত করা হয়নি। ফলে এসব সড়ক দিয়ে যানবাহনসহ সাধারণ মানুষ অনেক ঝুঁকি নিয়ে লোকজন চলাচল করছেন। সাধারণ মানুষ ও গাড়ির চালকরা স্বেচ্ছাশ্রমে অনেক সড়ক মেরামত করে সাময়িকভাবে চলাচলের জন্য কিছুটা উপযোগী করেছেন।
সড়কের এই অবস্থার কারণে সিএনজিচালিত অটোরিকশার বিভিন্ন যন্ত্রাংশ বিকল হয়ে পড়ছে বলে জানান সিতার মিয়া, হারুন মিয়া, কাদির মিয়া, মদরিছ মিয়া, পিকলু আহমদ, সজল দাস, রুশন মিয়া, রহমান মিয়া, ভুট্টো মিয়া, মছনু মিয়াসহ শতাধিক অটোরিকশাচালক। তারা বলেন, সিএনজি চালিয়ে আমরা পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করি। প্রতি বছর সরকারকে আমরা মোটা অংকের রাজস্ব দিচ্ছি। এখন ভাঙা সড়কে গাড়ি চালানোর সময় যদি প্রতি মাসে কয়েকবার গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে আমাদের উপার্জনের বেশিরভাগ টাকা গাড়ি মেরামত করতে চলে যাবে। গাড়ি চালিয়ে আমাদের কী লাভ হবে যদি পরিবার ঠিকমতো চালাতে না পারি? আমরা সড়কগুলো অবিলম্বে মেরামতের জন্য সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি।
কুলাউড়া এলজিইডি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কুলাউড়া উপজেলার সবচেয়ে বেশি ভাঙাচোরা সড়কের মধ্যে রয়েছে কুলাউড়া উপজেলা সদর-ফুলেরতল বাজার ভায়া নবাবগঞ্জ বাজার সড়ক, কুলাউড়া সদর ইউনিয়নের লস্করপুর-লক্ষীপুর সড়ক, শ্রীপুর-বনগাঁও সড়ক, জনতাবাজার-চৌধুরীবাজার সড়ক, রাউৎগাঁও ইউনিয়নে চৌধুরীবাজার-কালিটি সড়ক, চৌধুরী বাজার-কৌলা সড়ক, চৌধুরীবাজার-পশ্চিম মুকুন্দপুর সড়ক, চৌধুরীবাজার-ভবানীপুর-ঢুলিপাড়া সড়ক, পৃথিমপাশা ও কর্মধা ইউনিয়নের পূর্ব রবিরবাজার-কর্মধা ইউনিয়ন সড়ক, সদপাশা-ইটাহরি সড়ক, সদপাশা-মুরইছড়া সড়ক, রাজনগর বাজার-ছৈদল বাজার সড়ক, টিলাগাঁও ইউনিয়নের টিলাগাঁও-বাগৃহাল সড়ক, নওয়াবাজার-গুদামঘাট সড়ক, নওয়াবাজার-রবিরবাজার সড়ক, টিলাগাঁও-গন্ডারগড়-তাজপুর সড়ক, ভাটেরা ইউনিয়নের ভাটেরা-সিংহনাথ সড়ক, ভাটেরা মাইজগাঁও-নওয়াগাঁও সড়ক, কাদিপুর ইউনিয়নে মনসুর-আমতৈল সড়ক, ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নের শ্রীপুর-শেরপুর লিংক সড়ক, ব্রাহ্মণবাজার-ফেঞ্চুগঞ্জ রোড টু মিশন সড়ক, কুলাউড়া-মৌলভীবাজার রোড টু সিরাজনগর বাগান রোড, জয়চন্ডী ইউনিয়নের আছুরিঘাট-দিলদারপুর, জয়পাশা-কামারকান্দি সড়ক, হাজীপুর ইউনিয়নের মনু-তিলকপুর রোড টু ভুইগাঁও পোস্ট অফিস সড়ক, কটারকোনা বাজার-হাসিমপুর সড়ক, কটারকোনা বাজার-মনু স্টেশন ভায়া হাজীপুর ইউপি অফিস সড়ক, শরীফপুর ইউনিয়নে মনু-তিলকপুর ভায়া নছিরগঞ্জ বাজার সড়ক, নছিরগঞ্জ বাজার সিসি ঢালাই সড়ক, চাতলা চা-বাগান ফ্যাক্টরি-নছিরগঞ্জ সড়কসহ অন্তত অর্ধশতাধিক সড়ক।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের (এলজিইডি) কুলাউড়া উপজেলা প্রকৌশলী প্রীতম শিকদার জয় বলেন, কুলাউড়ায় অনেক সড়কে মেরামত কাজ করা খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে। বর্তমানে কুলাউড়ায় ৬টি সড়কের মেরামত কাজ চলমান আছে। চলতি বছরের জুন মাসের পর ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো মেরামতের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষসহ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবনা পাঠানো হবে। সেখান থেকে অনুমোদন হলে সড়কগুলোর মেরামত কাজ করা হবে।
জৈন্তা বার্তা/আরআর




