জগন্নাথপুরে স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে কমছে পুষ্টিহীনতা, বাড়ছে উপস্থিতি
সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ০৪:২৩ PM

জগন্নাথপুরে স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে কমছে পুষ্টিহীনতা, বাড়ছে উপস্থিতি

রেজুওয়ান কোরেশী, জগন্নাথপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১১/০৫/২০২৬ ০২:৩৭:১৪ PM

জগন্নাথপুরে স্কুল ফিডিং কর্মসূচিতে কমছে পুষ্টিহীনতা, বাড়ছে উপস্থিতি

ছবি নিজস্ব


শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড এবং মানুষের মৌলিক অধিকার। এই অধিকার বাস্তবায়নে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের সকল শিশু-কিশোরকে বিদ্যালয়মুখী করা এবং শিক্ষায় উৎসাহিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। মানুষের মৌলিক চাহিদার মধ্যে খাদ্য ও শিক্ষা- দুটিই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; আর এ দুইয়ের সমন্বয়েই গড়ে উঠে একটি সুস্থ ও শিক্ষিত জাতি।

শিশুর শারীরিক বৃদ্ধি, মানসিক বিকাশ এবং সুস্থ জীবন নিশ্চিত করতে পুষ্টিকর খাদ্যের বিকল্প নেই। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে সরকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য চালু করেছে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি, যা শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং পুষ্টিহীনতা দূরীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে চালু হওয়া এই কর্মসূচির আওতায় রয়েছে জগন্নাথপুর উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার ১৫৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এসব বিদ্যালয়ের ১৮ হাজার ৯১৯ জন শিক্ষার্থী নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার পাচ্ছে।

সপ্তাহে ৫ কর্মদিবসে শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত খাবারের তালিকায় রয়েছে- রবিবার বনরুটি (১২০ গ্রাম) ও সিদ্ধ ডিম (৬০ গ্রাম), সোমবার বনরুটি (১৬০ গ্রাম) ও ইউএইচটি দুধ (২০০ গ্রাম), মঙ্গলবার ফোর্টিফাইড বিস্কুট (৭৫ গ্রাম) ও মৌসুমী কলা (১০০ গ্রাম), বুধবার ও বৃহস্পতিবার বনরুটি (১২০ গ্রাম) ও সিদ্ধ ডিম (৬০ গ্রাম)।

চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী বিশাল রায় বলে, সকাল ৯টায় বিদ্যালয়ে আসতে হয়। তাই অনেক সময় না খেয়ে আসতে হতো। দুপুরে টিফিন খেতে বাড়িতে যাওয়া-আসায় সময় নষ্ট হতো। এজন্য প্রতিদিন বাবার কাছ থেকে ১০ টাকা নিয়ে সিঙ্গারা বা বিস্কুট খেতাম। কিন্তু এতে পেট ভরত না, ক্ষুধার কারণে পড়াশোনায় মন বসতো না। এখন সকালে না খেয়ে এলেও স্কুলে বনরুটি, দুধ ও ডিম পেয়ে ক্ষুধা মিটে যায়। এতে পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়ছে এবং বাবারও মাসে প্রায় ৩০০ টাকা সাশ্রয় হচ্ছে।  

এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক দুলাল খাঁন বলেন, আমাদের পক্ষে সবসময় বাচ্চাদের পুষ্টিকর খাবার দেওয়া সম্ভব হয় না। স্কুলে এই খাবার দেওয়ায় আমরা অনেকটা নিশ্চিন্ত। এতে বাচ্চারা নিয়মিত স্কুলে যাচ্ছে এবং পড়াশোনার প্রতি আগ্রহও বেড়েছে।

রমাপতিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. মুনায়ুম কবীর বলেন, আগে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে এসে বলতো- স্যার, ক্ষুধা লেগেছে, তাড়াতাড়ি ছুটি দিন। দুপুরে খাবার খেতে বাড়িতে গেলে অনেক শিক্ষার্থী আর বিদ্যালয়ে ফিরতো না। এখন সপ্তাহে পাঁচ দিন স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় বনরুটি, দুধ, ডিম ও বিস্কুট দেওয়ায় কোনো শিক্ষার্থী বাড়িতে যায় না। এতে উপস্থিতির হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বৈশাখ মাসেও প্রায় ৯৫ শতাংশের বেশি উপস্থিতি থাকে। আগে অনেক শিক্ষার্থী অনিয়মিত ছিল, এখন তারা নিয়মিত স্কুলে আসছে। পাশাপাশি তাদের মনোযোগ ও শেখার আগ্রহও বেড়েছে, যা শিক্ষার মান উন্নয়নে সহায়ক হচ্ছে।

জগন্নাথপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহবুবুল আলম বলেন, এ উপজেলায় ১৫৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সবগুলোই স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় এসেছে। এই কর্মসূচি চালুর ফলে অন্তর্ভুক্তিমূলক, সমতাভিত্তিক ও গুণগত শিক্ষা অর্জনে সহায়তা মিলছে। পাশাপাশি পুষ্টিকর খাদ্য সরবরাহের মাধ্যমে হাওরাঞ্চলের শিশুদের পুষ্টিগত অবস্থার উন্নয়ন ঘটছে। বর্তমানে উপস্থিতির হার ৯০ শতাংশের ওপরে এবং ঝরে পড়ার হার কমে গেছে। এর ফলে প্রতিবছর প্রায় ১০ শতাংশ শিক্ষার্থী ভর্তির হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।

জৈন্তা বার্তা/আরআর