সিলেটে বন্যার পদধ্বনি
রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ০৫:২৮ PM

সিলেটে বন্যার পদধ্বনি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১/০৬/২০২৬ ০১:৫০:৩১ PM

সিলেটে বন্যার পদধ্বনি

ফাইল ছবি


টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে সিলেটে বাড়তে শুরু করেছে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি। এর ফলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে। জানা গেছে, দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং ভারতের মেঘালয় ও আসাম অঞ্চলে ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা থাকায় পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমা ছুঁই ছুঁই করছে। এ অবস্থা চলমান থাকলে কয়েক দিনের মধ্যে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর বেশিরভাগ পয়েন্টে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে। সিলেট বিভাগের সারি, গোয়াইন, লোভাছড়া ও ধলাই নদীর পানিও সমান তালে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, আগামী তিন দিন পানি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার নিম্নাঞ্চলগুলোতে পানি ঢুকে পড়তে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, রবিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেটে ৩৯.৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টি হয়েছিল ১৪২ মিলিমিটার।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী চার দিন সিলেট বিভাগ এবং এর উজানে ভারতের মেঘালয়, আসাম ও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টি হতে পারে। এর প্রভাব সরাসরি সুরমা-কুশিয়ারা অববাহিকায় পড়বে এবং নদীগুলোর পানি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। এ কারণে নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন কর্মকর্তারা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগামী কয়েক দিনের বৃষ্টিপাতের মাত্রা এবং উজান থেকে আসা পানির প্রবাহের ওপরই নির্ভর করবে সিলেট ও সুনামগঞ্জ অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সুরমার পানি কানাইঘাট পয়েন্টে ১২.২০ সেন্টিমিটার দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এই পয়েন্টে বিপৎসীমা ১২.৭৫ সেন্টিমিটার। সুরমার পানি সিলেট পয়েন্টে ৯.৩৭ সেন্টিমিটার দিয়ে প্রবাহমান রয়েছে। এখানে বিপৎসীমা ১০.৮০ সেন্টিমিটার। কুশিয়ারার পানি জকিগঞ্জের অমলশীদ পয়েন্টে ১৩.১৬ সেন্টিমিটার দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এই পয়েন্টে বিপৎসীমা ধরা হয় ১৫.৪০ সেন্টিমিটার। কুশিয়ারার পানি বিয়ানীবাজারের শেওলা পয়েন্টে ১০.৭৬ সেন্টিমিটার দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এখানে বিপৎসীমা ১৩.০৫ সেন্টিমিটার। ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে বিপৎসীমা ১০.৪৫ সেন্টিমিটার এবং পানি প্রবাহিত হচ্ছে ৯.০৭ সেন্টিমিটার দিয়ে। জৈন্তাপুরের সারিঘাট নদীতে বিপৎসীমা ১২.৩৫, প্রবাহিত হচ্ছে ৯.৭৩ সেন্টিমিটার দিয়ে। জাফলংয়ের পিয়াইন নদীতে ৮.৯৭ সেন্টিমিটার দিয়ে পানি প্রবাহমান, বিপৎসীমা ১৩ সেন্টিমিটার দিয়ে। গোয়াইনঘাটের সারি গোয়াইন দিয়ে ৮.৭৬ সেন্টিমিটার দিয়ে প্রবাহমান, বিপৎসীমা ১০.৮২ সেন্টিমিটার। কানাইঘাটের লোভাছড়ায় ১২.৮০ সেন্টিমিটার এবং জেলার কোম্পানীগঞ্জের ধলাই নদীর পানি ৮.২৫ সেন্টিমিটার দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

আবহাওয়া সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক পর্যায়ে না পৌঁছালেও আগামী কয়েক দিনের বৃষ্টিপাত এবং উজানের অবস্থার ওপর নিবিড় নজর রাখা হচ্ছে। কারণ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদীগুলোর পানিপ্রবাহের বড় অংশই সীমান্তের ওপারের বৃষ্টিপাতের ওপর নির্ভরশীল। ফলে পূর্বাভাস অনুযায়ী ভারী বৃষ্টি হলে স্থানীয়ভাবে পানি বৃদ্ধির পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড, সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ বলেন, বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী ভারতের মেঘালয় পার্বত্য অঞ্চলে প্রচুর বৃষ্টিপাতের শঙ্কা আছে। সেখানে বেশি বৃষ্টিপাত হলে সিলেটের নদ-নদী বিপত্সীমা অতিক্রম করতে পারে।

জৈন্তাবার্তা/আরআর