সিলেটের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অনুকরণীয় ’ - মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী
শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ০২:১২ AM

সিলেট জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন সম্পন্ন

সিলেটের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অনুকরণীয় ’ - মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১/০৭/২০২৬ ১২:১৭:১১ AM

সিলেটের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি  অনুকরণীয়  ’ - মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী

ছবি:সংগৃহীত


বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, সিলেট জেলা শাখার দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্মেলনে বক্তারা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, সমঅধিকার এবং অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গঠনে সব ধর্মের মানুষের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

শুক্রবার (১০ জুলাই) দুপুরে নগরীর মেন্দিবাগস্থ জালালাবাদ গ্যাস অডিটোরিয়ামে আয়োজিত সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, সিলেটের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি দেশের জন্য একটি অনুকরণীয় উদাহরণ। তিনি বলেন, সিলেটের মতো সম্প্রীতির পরিবেশ যদি দেশের সর্বত্র গড়ে উঠত, তাহলে সংখ্যালঘু নির্যাতনের মতো ঘটনার কথা শুনতে হতো না।

মন্ত্রী বলেন, ‘দেশ আমাদের সবার। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই বাংলাদেশি। একটি গোষ্ঠী সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তাদের ষড়যন্ত্র রুখতে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান—সব সম্প্রদায়ের মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন। সিলেট বিভাগ থেকেই জাতীয় ঐক্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন করা সম্ভব বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

নিজের মেয়র থাকাকালীন সময়ের স্মৃতিচারণ করে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আন্তরিক সমর্থন তিনি কখনো ভুলবেন না। সম্মেলনে উত্থাপিত বিভিন্ন দাবি-দাওয়ার বিষয়ে তিনি জানান, প্রশাসনে প্রতিনিধিত্ব, সুনামগঞ্জের সাম্প্রতিক ঘটনাসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো প্রধানমন্ত্রীর নজরে আনা হবে এবং প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।

সিলেটের উন্নয়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, তাঁর নির্বাচনী এলাকায় আটটি মন্দির ও চারটি শ্মশানঘাটের সংস্কারকাজ চলমান রয়েছে এবং আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি জয়ন্তিয়া রাজবাড়িকে জাদুঘরে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সিলেট জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা গোপিকা শ্যাম পুরকায়স্থ চয়নের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রঞ্জন চন্দ্র ঘোষের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উদ্বোধকের বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি বাসুদেব ধর।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার সমান অধিকার নিশ্চিত হওয়া উচিত। সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষা ও অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে নতুন প্রজন্মকে আরও শক্তিশালীভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

প্রধান বক্তা হিসেবে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা সংবিধানে অসাম্প্রদায়িক মূল্যবোধ অক্ষুণ্ন রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সৌহার্দ্যের মাধ্যমেই একটি নিরাপদ ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের উপদেষ্টা জয়ন্ত সেন দীপু, সহ-সভাপতি ড. চন্দ্রনাথ পোদ্দার, মৃত্যুঞ্জয় ধর ভোলা, সাংগঠনিক সম্পাদক প্রাণতোষ আচার্য্য শিবুসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। এছাড়া হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ এবং বিভিন্ন জেলা ও মহানগর শাখার নেতারাও বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র গীতা পাঠ, জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং প্রয়াত নেতৃবৃন্দের স্মরণে শোক প্রস্তাব পাঠ করা হয়। এ সময় ‘স্বাধিকার’ শীর্ষক ম্যাগাজিনের মোড়ক উন্মোচন করেন অতিথিরা।

এর আগে জাতীয় পতাকা ও সংগঠনের পতাকা উত্তোলন এবং বেলুন উড়িয়ে সম্মেলনের উদ্বোধন করা হয়। জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত নেতাকর্মীরা মিছিলসহ সম্মেলনে অংশ নেন।

সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে আগামী দুই বছরের জন্য সিলেট জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে বীর মুক্তিযোদ্ধা গোপিকা শ্যাম পুরকায়স্থ চয়ন সভাপতি এবং দীপক কুমার দাস সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ



শীর্ষ সংবাদ: