ছবি:সংগৃহীত
সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ মো. আব্দুল মালিক বলেছেন, দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে নতুন প্রজন্মকে সচেতন করে তুলতে হবে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে সততা, নৈতিকতা ও দুর্নীতিবিরোধী মনোভাব গড়ে তুলতে এ ধরনের বিতর্ক প্রতিযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেলে বালাগঞ্জ সরকারি দ্বারকানাথ (ডি.এন.) উচ্চ বিদ্যালয়ের হলরুমে উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত উপজেলা পর্যায়ের দুর্নীতিবিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, দুর্নীতি নির্মূলে এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত প্রশংসনীয়। নিয়মিত এ ধরনের প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা আরও বৃদ্ধি পাবে। বালাগঞ্জকে দুর্নীতিমুক্ত উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।
এমপি আব্দুল মালিক আরও বলেন, বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের জাতীয় সংসদের অধিবেশন দেখার এবং প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ করে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
“বাংলাদেশের উন্নয়নের একমাত্র বাধা দুর্নীতি”-এই বিষয়ের ওপর অনুষ্ঠিত বিতর্ক প্রতিযোগিতায় চান্দারইপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়কে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে বালাগঞ্জ সরকারি দ্বারকানাথ (ডি.এন.) উচ্চ বিদ্যালয়। রানারআপ হয় চান্দারইপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়।
চ্যাম্পিয়ন দলের সদস্য ছিলেন দলনেতা প্রত্যাশা রায় লোপা, দেবযানী দাস ও মোহনা রানী নাথ। রানারআপ দলের সদস্য ছিলেন দলনেতা নাফিজা জান্নাত মিনহা, ভারতী রানী দেব ও শেখ শাহানা বেগম।
প্রতিযোগিতায় শ্রেষ্ঠ বক্তা নির্বাচিত হন চ্যাম্পিয়ন দলের দলনেতা প্রত্যাশা রায় লোপা।
পরে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বালাগঞ্জ সরকারি দ্বারকানাথ (ডি.এন.) উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সাইফুল ইসলাম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেরিনা দেবনাথ, বালাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল লতিফ তফাদার, উপজেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম রব্বানী, পূর্ব গৌরীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম. মুজিবুর রহমান, বালাগঞ্জ সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মুনিম এবং উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক শাহাব উদ্দিন শাহিন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবক, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
বিতর্ক প্রতিযোগিতায় মডারেটরের দায়িত্ব পালন করেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক নুরুল আমিন। বিচারক ছিলেন উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. বাবুল হাসান এবং কালীগঞ্জ এম. ইলিয়াস আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মাহমুদুল হাসান।
আয়োজকরা জানান, উপজেলা পর্যায়ের এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার আগে মাধ্যমিক পর্যায়ের ৩০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৬০টি দল প্রতিষ্ঠান ও ইউনিয়ন পর্যায় অতিক্রম করে প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। চূড়ান্ত পর্বে ইউনিয়ন পর্যায়ে বিজয়ী সাতটি দল অংশগ্রহণ করে। অনুষ্ঠান শেষে বিজয়ীদের মধ্যে সনদ, মেডেল, বই ও বিভিন্ন উপহারসামগ্রী বিতরণ করা হয়।
জৈন্তা বর্তা / ওয়াদুদ




