নবীগঞ্জে মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বি/রুদ্ধে কারণ দ/র্শানোর নোটিশ
সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:৩৬ PM

সরকারি নির্দেশনা অমা/ন্য ও টিউশন ফি সংক্রান্ত অনি/য়মের অ/ভিযোগে তদন্তে প্রাথমিক সত্যতা

নবীগঞ্জে মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বি/রুদ্ধে কারণ দ/র্শানোর নোটিশ

এম. মুজিবুর রহমান, নবীগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০৩/০৮/২০২৬ ০৭:৫৮:২৪ PM

নবীগঞ্জে মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বি/রুদ্ধে কারণ দ/র্শানোর নোটিশ

ছবি:সংগৃহীত


হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর মোহাম্মদিয়া আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হুমায়ুনুর রহমান লেখনের বিরুদ্ধে সরকারি নির্দেশনা অমান্য, শিক্ষার্থীদের টিউশন ফির অর্থ সংক্রান্ত অনিয়ম এবং প্রশাসনিক বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে চলমান আলিম পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে ২৪ জন পরীক্ষার্থীর অংশগ্রহণ নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়। পরে প্রশাসনের উদ্যোগে সমঝোতা বৈঠকের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বকেয়া বেতন বাবদ প্রায় ৫০ হাজার টাকা পরিশোধের পর তাদের রেজিস্ট্রেশন কার্ড হস্তান্তর করা হলে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি হয়। এতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দীঘলবাক ইউনিয়নের মাধবপুর মোহাম্মদিয়া দাখিল মাদ্রাসায় আলিম বিভাগের অনুমোদন না থাকায় ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ৪৪ জন শিক্ষার্থী ওসমানীনগর উপজেলার গোয়ালাবাজারের হযরত শাহ জালাল (রহ.) কামিল মাদ্রাসার অধীনে পাঠদান করে। অভিযোগ রয়েছে, স্থানান্তরিত ২৪ জন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ২০২৪-২০২৫ শিক্ষাবর্ষের বেতন বাবদ দুই লাখ টাকার বেশি আদায় করা হলেও সেই অর্থ সংশ্লিষ্ট কামিল মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের কাছে পরিশোধ করা হয়নি।

এছাড়া, হযরত শাহ জালাল (রহ.) কামিল মাদ্রাসার প্রচলিত বিধি অনুসরণ না করে এবং প্রতিষ্ঠানটির পাওনা পরিশোধ ছাড়াই ৪৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৪ জনকে পুনরায় মাধবপুর আলিম মাদ্রাসায় স্থানান্তর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে তাদের আলিম পরীক্ষায় অংশগ্রহণ নিয়ে জটিলতা আরও বৃদ্ধি পায়।

এ বিষয়ে চলতি বছরের ৬ এপ্রিল হযরত শাহ জালাল (রহ.) কামিল মাদ্রাসার অ্যাডহক কমিটির সভাপতি ও সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সাঈদা পারভীন স্বাক্ষরিত এক পত্রে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ জানানো হয়। পত্রে প্রতিষ্ঠানের পাওনা পরিশোধ না করে পরীক্ষার্থী স্থানান্তরের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়।

পরে হযরত শাহ জালাল (রহ.) কামিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আল আমিন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বোর্ড থেকে প্রেরিত আলিম পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশন কার্ড বকেয়া বেতন, ফি ও অন্যান্য পাওনা পরিশোধ সাপেক্ষে শিক্ষার্থীদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। অন্যথায় সৃষ্ট জটিলতার দায়ভার কর্তৃপক্ষ নেবে না।

এদিকে সরকারি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির বরাদ্দের অর্থ ব্যবহারে অনিয়ম এবং সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে স্থগিত তারিখে পরীক্ষা আয়োজনের অভিযোগও ওঠে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নবীগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শাহ আলম সরেজমিন তদন্ত করেন।

তদন্তে অভিযোগগুলোর প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় গত ২৮ জুলাই অধ্যক্ষ হুমায়ুনুর রহমান লেখনকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়।

এ ঘটনায় এলাকাবাসী, অভিভাবক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের একটি অংশ অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ