ছবি:সংগৃহীত
সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ওসমানীনগর অংশে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নাম ব্যবহার করে এবং ২০২৩ সালের ভুয়া নিলাম-সংক্রান্ত কাগজপত্র দেখিয়ে সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের পর প্রশাসন তদন্ত শুরু করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একটি অসাধু চক্র ইউএনও ও বন বিভাগের কর্মকর্তাদের নাম ব্যবহার করে সরকারি গাছ কাটছে। এ কাজে তারা ২০২৩ সালের একটি কথিত নিলাম বিজ্ঞপ্তি ও চালান নম্বর ব্যবহার করছে। অভিযোগ রয়েছে, ভুয়া নথিতে বালাগঞ্জ এসএফপিসি-এর ফরেস্টার মো. আব্দুর রউফের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। সেখানে সাসেক ঢাকা-সিলেট করিডোর সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের নাম উল্লেখ করে স্থানীয় মো. আনোয়ার মিয়ার নামে ভুয়া জমা রশিদও তৈরি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, সরকারি গাছ কাটার বিষয়ে তিনি কোনো অনুমতি দেননি এবং পুরো বিষয়টি তাঁর জানা ছিল না। তিনি বলেন, দায়িত্বপ্রাপ্ত বিট কর্মকর্তাকে তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া না যাওয়ায় ঘটনাটি তদন্তে তফশিলদারকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে।
সিলেট বন বিভাগের বন কর্মকর্তা নাজমুল ইসলাম বলেন, ভুয়া ও জাল কাগজপত্র ব্যবহার করে সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মহাসড়কের পাশে কয়েকটি বড় সরকারি গাছ কাটার সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ইউএনও ও বন বিভাগের অনুমতি রয়েছে বলে দাবি করে এলাকাবাসীকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেন। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, সরকারি সম্পদ রক্ষায় তারা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর জালিয়াতি ও সরকারি সম্পদ চুরির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরসহ প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




