সম্পত্তি বি*রোধের মা*মলার শুনানি ছিল ১৯ আগস্ট, ৭ দিন আগে খু*ন
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:৫৭ PM

রায়নগরে দম্পতি ও গৃহকর্মী খু*ন

সম্পত্তি বি*রোধের মা*মলার শুনানি ছিল ১৯ আগস্ট, ৭ দিন আগে খু*ন

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২/০৮/২০২৬ ০৮:৫২:৫২ PM

সম্পত্তি বি*রোধের মা*মলার শুনানি ছিল ১৯ আগস্ট, ৭ দিন আগে খু*ন

ছবি:সংগৃহীত


সিলেট নগরের রায়নগর রাজবাড়ি এলাকায় একটি বাসা থেকে সাবেক কয়লা ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার, তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম ও গৃহকর্মী তাহমিনার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তিনজনকেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। তবে হত্যাকাণ্ডের কারণ ও জড়িতদের বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে মিতালী আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর নিকুঞ্জ ভিলার তিনতলা ভবনের দ্বিতীয় তলার বাসা থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীমসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, নিহত আব্দুস সাত্তার ও তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম ওই বাসায় থাকতেন। তাঁদের সঙ্গে গৃহকর্মী তাহমিনাও থাকতেন। বুধবার সকালে বাসার ভেতর থেকে মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় শোক ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ধারালো অস্ত্রের আঘাত, রক্তের দাগ

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে তিনজনের গলা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। বাসার দেয়াল ও বাথরুমের বিভিন্ন স্থানেও রক্তের দাগ দেখা গেছে। তবে ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কোনো অস্ত্র উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।

বাসার ভেতরে আব্দুস সাত্তারের কক্ষের তিনটি ওয়ারড্রোব তছনছ অবস্থায় পাওয়া যায়। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সেখান থেকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাগজপত্র খোয়া গেছে। মেঝেতে একটি দলিলের কপিও পাওয়া গেছে। এ কারণে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে লুটপাট বা সম্পত্তিসংক্রান্ত কোনো বিষয় জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

সম্পত্তি বিরোধের বিষয়টিও তদন্তে

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রিকাবীবাজারের একটি সম্পত্তি নিয়ে চলমান বিরোধ ও মামলার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। ওই মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ১৯ আগস্ট হওয়ার কথা ছিল।

নিহত আব্দুস সাত্তারের আইনজীবী আজিজুর রহমান মানিক জানান, রিকাবীবাজারের পুলিশ লাইন এলাকায় লুসাই গির্জা সমিতির জায়গা এবং সেখানে ইম্পাস টাওয়ার নির্মাণকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত। গির্জা সমিতির কাছ থেকে লিজ নিয়ে সেখানে বাসা ও স্থাপনা নির্মাণ করেছিলেন সাত্তার।

আইনজীবী জানান, ২০২৩ সালে ওই সম্পত্তি নিয়ে আব্দুস সাত্তার স্বত্ব মামলা করেন। মামলাটির নম্বর ২১১/২৩। পরে আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে সিরাজুল ইসলাম বাদী হয়ে সিভিল রিভিশন মামলা করেন। ওই মামলায় সাত্তারকে বিবাদী করা হয়। মামলাটির নম্বর ৭০/২৩ এবং আগামী ১৯ আগস্ট শুনানির তারিখ নির্ধারিত ছিল।

আজিজুর রহমান মানিক আরও জানান, আব্দুস সাত্তার নিয়মিত মামলার শুনানিতে আদালতে হাজিরা দিতেন। প্রায় দুই সপ্তাহ আগেও তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। সেদিন সিরাজুল ইসলাম তাঁকে হুমকি ও খারাপ ব্যবহার করেছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।

তবে সম্পত্তি বিরোধই হত্যাকাণ্ডের কারণ-এমন কোনো সিদ্ধান্তে এখনো পৌঁছায়নি পুলিশ।

পরিকল্পিত হত্যার সন্দেহ

নিহত আব্দুস সাত্তারের পরিচিত ও বিএনপির কেন্দ্রীয় ক্ষুদ্রঋণবিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাকও সম্পত্তিসংক্রান্ত বিরোধের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাঁর ধারণা, আব্দুস সাত্তারকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।

পুলিশ বলছে, হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য বিভিন্ন কারণ সামনে রেখে তদন্ত চলছে। ব্যক্তিগত বিরোধ, সম্পত্তিসংক্রান্ত বিরোধ, লুটপাটসহ সম্ভাব্য সব বিষয়ই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বিদ্যুৎ না থাকায় বন্ধ ছিল সিসিটিভি

ঘটনার সময় এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল না বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ফলে বাসার সিসিটিভি ক্যামেরাও বন্ধ ছিল। তবে পুলিশ বলছে, বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার আগেই কেউ বাসায় প্রবেশ করে থাকতে পারে। বিদ্যুৎ না থাকার বিষয়টির সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে।

সিলেট মহানগর পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য বিভিন্ন কারণ সামনে রেখে তদন্ত চলছে। রিকাবীবাজারের জায়গা নিয়ে বিরোধের বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে। এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মুঠোফোনের তথ্যও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে তিনজনকে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে কোনো অস্ত্র উদ্ধার হয়নি। বাসার আলমারি ও ওয়ারড্রোব খোলা অবস্থায় পাওয়া গেছে।

সকালে কথা হয়েছিল স্বজনের সঙ্গে

নিহত দম্পতির আত্মীয় মুন্না মিয়া জানান, বুধবার সকাল ৯টার দিকেও তাঁদের সঙ্গে কথা হয়েছিল। এরপর কোনো একসময় তাঁদের হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, আব্দুস সাত্তার ও সুরাইয়া বেগম বাসায় থাকতেন এবং তাঁদের সঙ্গে একজন গৃহকর্মী থাকতেন। কীভাবে ও কখন হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

চার সন্তান বিদেশে

আব্দুস সাত্তার সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সাবেক পরিচালক ছিলেন। একসময় তিনি কয়লা ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের উপদেষ্টা ছিলেন।

নিহত দম্পতির চার সন্তান- দুজন যুক্তরাষ্ট্রে এবং দুজন যুক্তরাজ্যে বসবাস করেন। তাঁদের দেশে ফেরার কথা রয়েছে। এ কারণে বুধবার পর্যন্ত সন্তানদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তিনজনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় রায়নগর এলাকায় শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। একই বাসায় তিনজনকে হত্যার নেপথ্যে কী ছিল, কারা এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত এবং খোয়া যাওয়া কাগজপত্রের সঙ্গে ঘটনার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না- এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।

জৈন্তা বার্তা / ওয়াদুদ



শীর্ষ সংবাদ:

সম্পত্তি বি*রোধের মা*মলার শুনানি ছিল ১৯ আগস্ট, ৭ দিন আগে খু*ন
নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডে খেলার মাঠ করা হবে: সিসিক প্রশাসক
রাজনগরে তেলবাহী ট্রাক খালে, চালক নি'হত
হা'মের উপসর্গে সিলেটে আরও দুই শিশুর মৃ'ত্যু
সিলেটে বাসায় মিলল স্বামী, স্ত্রী ও গৃহপরিচারিকার লা'শ
কালীঘাট-শাহচট সড়কে ঢালাই কাজের উদ্বোধন
বিদ্যুৎ না থাকলে নাগরিক সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হয়, দু*র্ভোগ পো*হাতে হয় : সিসিক প্রশাসক
গ্রাম ও কৃষকের উন্নয়নই দেশের অগ্রগতির চাবিকাঠি: জেলা পরিষদ প্রশাসক
‘বাপ-দাদার বসতভিটা ছাড়তে চা*প, হা*মলা-ভা*ঙচুর ও প্রা*ণনাশের হু*মকি’
ছাপ্পান্নর রেকর্ড অনুযায়ী নগরীর ছড়া-খাল উ*দ্ধার করা হবে’ - সিসিক প্রশাসক