ছবি:সংগৃহীত
সিলেটকে দেশের প্রথম প্লাস্টিক দূষণমুক্ত শহর হিসেবে গড়ে তুলতে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে সিলেট সিটি করপোরেশনে (সিসিক) দেশের প্রথম ‘বায়োড্রায়িং প্ল্যান্ট’ স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এ কাজে সিসিককে সহযোগিতা করবে লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ।
সোমবার সিলেট নগরীর একটি হোটেলে ‘জিওসাইকেল সপ্তাহ ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত ‘এ রোডম্যাপ টু বিকাম এ প্লাস্টিক পল্যুশন ফ্রি সিটি’ শীর্ষক সেমিনারে এসব তথ্য জানানো হয়। সেমিনারের আয়োজন করে লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ ও সিলেট সিটি করপোরেশন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, “আমরা প্লাস্টিক দূষণমুক্ত একটি আধুনিক নগর গড়ে তুলতে চাই। সিলেটকে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ নগরীতে পরিণত করতে স্থানীয় সরকারের উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিক অংশগ্রহণ এবং বিদ্যমান আইন ও বিধিবিধানের কার্যকর বাস্তবায়ন প্রয়োজন।”
তিনি বলেন, নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বড় একটি চ্যালেঞ্জ। এ ক্ষেত্রে সিসিক ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। তবে শুধু সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে পরিচ্ছন্ন নগর গড়ে তোলা সম্ভব নয়। এ জন্য নগরবাসীকেও সচেতন হতে হবে। যত্রতত্র প্লাস্টিক ও বর্জ্য না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার আহ্বান জানান তিনি।
সিসিক প্রশাসক আরও বলেন, কৌশলগত অংশীদারত্ব, আধুনিক অবকাঠামো ও জনসচেতনতার সমন্বয়ে সিলেটকে পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও পরিবেশবান্ধব নগর হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে সিটি করপোরেশন।
সেমিনারে সিসিকের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ একলিম আবদীন নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমের ওপর উপস্থাপনা দেন। জিওসাইকেলের পৌর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম তুলে ধরেন প্রতিষ্ঠানটির হেড অব জিওসাইকেল লতিফুর রহমান।
সেমিনারে নগরীর লালমাটিয়া ডাম্পিং গ্রাউন্ডে থাকা মেটেরিয়াল রিকভারি ফ্যাসিলিটি (এমআরএফ)-এর কার্যক্রম ও অগ্রগতিও তুলে ধরা হয়। ২০২৪ সালে সিসিক ও লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে স্থাপিত এই প্ল্যান্টে বর্জ্য থেকে প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন অপচনশীল উপাদান আলাদা করা হচ্ছে। পরে এসব প্লাস্টিক নিরাপদ কো-প্রসেসিংয়ের জন্য লাফার্জহোলসিমের ছাতকস্থ জিওসাইকেল প্ল্যান্টে পাঠানো হয়।
এমআরএফের কার্যক্রমের পরবর্তী ধাপে সিসিক ও লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ ‘বায়োড্রায়িং’ প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে। এ প্রযুক্তিতে অণুজীবের প্রাকৃতিক বিপাকীয় তাপ ও নিয়ন্ত্রিত বায়ুপ্রবাহ ব্যবহার করে বর্জ্যের আর্দ্রতা কমানো হয়। এতে বর্জ্যকে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের উপযোগী করার সুযোগ তৈরি হয়।
সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার বলেন, নগরায়নের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সমাধান প্রয়োজন। বর
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




