নিজস্ব
আমন ধান রোপনের ভরা মৌসুমে তীব্র রোদ আর অসহনীয় গরমে বিপাকে পড়েছেন গোয়াইনঘাট উপজেলার কৃষকেরা। মাঠের কাজ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি দেখা দিয়েছে তীব্র শ্রমিক সংকট। ফলে সময়মতো আমন ধান রোপন, পরিচর্যা ও অন্যান্য কৃষিকাজ নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে কৃষকদের।
গত এক সপ্তাহ ধরে উপজেলার তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি। সকাল ১০টা হলেই রোদের তাপে মাঠে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। দুপুরের দিকে গরমের তীব্রতায় মাঠ প্রায় ফাঁকা হয়ে যায়।
কৃষক রুহুল আমিন বলেন, "এই গরমে সকাল ৮টার পর মাঠে থাকা যায় না। মাথা ঘুরায়, শরীর ছেড়ে দেয়। আগে শ্রমিক পাইতাম, এখন একজনও শ্রমিক পাওয়া যায় না। তারা বলে দুপুরের কড়া রোদে কাজ করতাম না। এদিকে রোপাইতো আমনের চারায় লালচে দাগ পড়ে গেছে। শ্রমিক না থাকলেও নিজে মাঠে থেকে কাজ করা লাগছে।
শ্রমিকরাও বলছেন, রোদের মধ্যে কাজ করে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন অনেকে। তাই মজুরি বাড়লেও কাজে আসতে চাইছেন না। এতে শ্রমিকের দৈনিক মজুরিও বেড়ে গেছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবছর গোয়াইনঘাটে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ১৮২৭০ হেক্টর। এ পর্যন্ত প্রায় ৫০ ভাগ জমিতে আমান আবাদ হয়ে গেছে।পর্যাপ্ত পরিমাণ চারাও রয়েছে, বন্যা হয় নাই, তাই তারা প্রত্যাশা করছেন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমি আবাদ হবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রায়হান পারভেজ রনি জানান, "তীব্র গরমে কৃষক ও শ্রমিকদের মাঠে কাজ করা একটু কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক শ্রমিক ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে চায় না তাই একটু শ্রমিক সংকট।তিনি জানান দিনে গরম হলেও রাতে বৃষ্টি হচ্ছে,তাই আপাতত ফসলের ক্ষতির সম্ভাবনা নাই।
কৃষকেরা বলছেন, বৃষ্টি না হলে এবং গরম না কমলে এবার আমন আবাদে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে। দ্রুত আবহাওয়া অনুকূলে আসুক এটা তাদের প্রার্থনা।
জৈন্তাবার্তা/সুলতানা




