রুমিন ফারহানার বক্তব্যে সংসদে তু/মুল হ/ট্টগোল, গা/লাগালের অ/ভিযোগ
বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:১৮ AM

রুমিন ফারহানার বক্তব্যে সংসদে তু/মুল হ/ট্টগোল, গা/লাগালের অ/ভিযোগ

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৯/০৯/২০২৬ ১১:৪১:২১ PM

রুমিন ফারহানার বক্তব্যে সংসদে তু/মুল হ/ট্টগোল, গা/লাগালের অ/ভিযোগ

ছবি:সংগৃহীত


স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদে তুমুল হট্টগোলের সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে বক্তব্য দেওয়ার সময় সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা হইচই করে প্রতিবাদ জানান। একপর্যায়ে সংসদের স্বাভাবিক কার্যক্রম কিছু সময়ের জন্য ব্যাহত হয়।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ব্যাংক রেজল্যুশন (সংশোধন) বিলের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে রুমিন ফারহানার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে রুমিন দাবি করেন, তাঁকে অশালীন ভাষায় গালাগাল করা হয়েছে।

বিলের আলোচনায় রুমিন ফারহানা বলেন, ‘প্রত্যেকটা সরকারের একটা চরিত্র থাকে।’ এরপর বিএনপি ক্ষমতায় এলে গ্যাস-বিদ্যুৎ ও সার সংকট এবং দুর্নীতি নিয়ে সমালোচনা করেন তিনি। তাঁর বক্তব্যের এ অংশে বিএনপির সংসদ সদস্যরা হইচই করে প্রতিবাদ জানাতে থাকেন।

হট্টগোলের মধ্যেও রুমিন বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশ ঋণখেলাপিতে সর্বোচ্চ অবস্থানে থাকবে এবং ঋণখেলাপির পরিমাণ আরও বাড়বে। তিনি দাবি করেন, সংসদের বেশির ভাগ সদস্যই ঋণখেলাপি হিসেবে পরিচিত এবং নির্বাচনের আগে ঋণখেলাপির তালিকা থেকে নাম কাটাতে আদালতে যাওয়ার প্রবণতা পুরোনো সংস্কৃতির অংশ।

একপর্যায়ে রুমিনের জন্য নির্ধারিত সময় শেষ হলে তাঁর মাইক বন্ধ হয়ে যায়। তবে তিনি মাইক ছাড়াই কথা বলতে থাকেন। এ সময় তাঁকে উদ্দেশ করে অশালীন ভাষায় গালাগাল করা হয়েছে বলে স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

হট্টগোলের মধ্যে এনসিপির সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানান। মাইক ছাড়া তাঁকে বলতে শোনা যায়, একজন সংসদ সদস্যকে এভাবে গালাগাল করা যায় না।

এ সময় সভাপতির আসনে থাকা ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বারবার সংসদ সদস্যদের শান্ত হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, একজন সংসদ সদস্যের কথা বলার স্বাধীনতা রয়েছে। কারও বক্তব্যে আপত্তি থাকলে তা পরবর্তী সময়ে খণ্ডন করা যেতে পারে; কিন্তু বক্তব্য প্রদানে বাধা দেওয়া গণতান্ত্রিক রীতিনীতির বাইরে।

ডেপুটি স্পিকার চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনির উদ্দেশে বলেন, সংসদে শৃঙ্খলা বজায় রাখা চিফ হুইপের অন্যতম দায়িত্ব। কোনো বক্তব্য অসংসদীয় হলে তা কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার এখতিয়ার স্পিকারের রয়েছে।

পরে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, কোনো সংসদ সদস্যের বক্তব্য অসংসদীয় হলে স্পিকার সে বিষয়ে রুলিং দিতে পারেন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীও তার জবাব দিতে পারেন। কিন্তু হট্টগোলের কারণে রুমিন আদৌ তাঁর বক্তব্য ঠিকভাবে উপস্থাপন করতে পেরেছেন কি না, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।

চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, তাঁরা সংসদে সব সমস্যার সমাধান চান। তবে সংসদ সদস্যরা নিজেরাই সমস্যা তৈরি করলে তা দুঃখজনক।

পরে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, হট্টগোলের কারণে আলোচনার বিষয়বস্তুই তিনি বুঝতে পারছেন না। একটি সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক আলোচনা সংসদে চলে এসেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সংসদ অধিবেশন শেষে রুমিন ফারহানা সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, বিএনপির সংসদ সদস্যরা তাঁকে অশালীন ভাষায় গালাগাল করেছেন। এ সময় চিফ হুইপের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ