ছবি:সংগৃহীত
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার রুস্তমপুর ইউনিয়নে বিলের পানি কৃত্রিমভাবে আটকে রাখায় আমন ধান চাষে বাধার মুখে পড়েছেন শতাধিক কৃষক পরিবার। দীর্ঘদিন ধরে বিস্তীর্ণ ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে থাকায় সময়মতো ধানের চারা রোপণ করতে পারছেন না কৃষকেরা। এতে আমন আবাদের মৌসুমে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন প্রান্তিক চাষিরা।
সরেজমিনে গিয়ে ও স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রুস্তমপুর ও বিছনাকান্দি ইউনিয়নের হাওরসংলগ্ন ডং বিল ও কাংলাকুড়ি বিলে মাছ চাষের সুবিধার্থে কয়েকজন ইজারাদার মাটির বাঁধ দিয়ে পানি আটকে রাখেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে বিলের খাড়া দিয়ে স্বাভাবিকভাবে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হয়। ফলে বিলসংলগ্ন এলাকার কয়েকশ বিঘা কৃষিজমিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় এক ভুক্তভোগী কৃষক বলেন, ‘আমন ধানই আমাদের সারা বছরের খাবারের প্রধান সম্বল। আবহাওয়ার বৈরিতায় এমনিতেই আমরা বিপাকে থাকি। তার ওপর বিলের পানি আটকে রাখায় এখনো জমিগুলো পানির নিচে রয়েছে। বীজতলায় চারা বড় হয়ে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে, অথচ জমিতে রোপণ করতে পারছি না। দ্রুত পানি না সরলে গত পাঁচ বছরের মতো এবারও জমি পতিত পড়ে থাকবে। এতে আমাদের না খেয়ে থাকতে হবে।’
এ বিষয়ে ভেড়িবিল গ্রামের কৃষকদের পক্ষ থেকে উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। অভিযোগের পর তোয়াকুল ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা শাহীন কবির সরেজমিন তদন্ত করেন।
শাহীন কবির জানান, তদন্তের পর ইজারাদাররা বিলের বাঁধ কেটে দিয়েছেন। বর্তমানে বিলের পানি কমে ধান রোপণের উপযোগী পর্যায়ে রয়েছে। তবে পানি কমে যাওয়ার পর স্থানীয় কিছু মানুষ বিল থেকে মাছ ধরে নিয়ে যাচ্ছেন-এমন একটি ভিডিও তাঁর কাছে এসেছে বলেও জানান তিনি। এ বিষয়ে ইজারাদার পক্ষকে থানায় অভিযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
তবে কৃষকদের অভিযোগকে ভিত্তিহীন দাবি করেছেন ইজারাদার ইস্তি মৎস্য সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইসলাম উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা বিলের বাঁধ কেটে দিয়েছি। বিলের পানি কমে যাওয়ার পর কিছু মানুষ জাল দিয়ে মাছ ধরে নিয়ে যাচ্ছে।’
স্থানীয় কৃষকদের দাবি, আমন চাষের মৌসুমে জমি থেকে পানি দ্রুত নিষ্কাশন নিশ্চিত করা না গেলে অনেক কৃষক এবারও আমন আবাদ থেকে বঞ্চিত হবেন। তাই দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে কৃষিজমিতে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




