সিলেট চেম্বারের নির্বাচন বাতিল, নতুন প্রশাসক এজাজ আহমদ
রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৫৩ PM

সিলেট চেম্বারের নির্বাচন বাতিল, নতুন প্রশাসক এজাজ আহমদ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৭/০৯/২০২৬ ০৪:০১:০৮ PM

সিলেট চেম্বারের নির্বাচন বাতিল, নতুন প্রশাসক এজাজ আহমদ

ছবি:সংগৃহীত


সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এসসিসিআই) পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচন বাতিল করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে চেম্বারের নতুন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে সাবেক পরিচালক এজাজ আহমদ চৌধুরীকে। ফলে আগামী ৫ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় চেম্বারের নির্বাচন আর হচ্ছে না। নতুন প্রশাসক সদস্য অন্তর্ভুক্তি ও সদস্যতালিকা হালনাগাদ করে নতুন করে ভোটার তালিকা ও নির্বাচনী তফসিল প্রণয়নের উদ্যোগ নেবেন।

রোববার সিলেট চেম্বারের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ২৪ সেপ্টেম্বরের দুটি পৃথক আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে ৫ নভেম্বরের নির্বাচনী তফসিল বাতিল করা হয়েছে এবং এজাজ আহমদ চৌধুরীকে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নতুন প্রশাসক সদস্য অন্তর্ভুক্তি ও হালনাগাদের পর নতুন নির্বাচনী তফসিল ও ভোটার তালিকা প্রণয়নের মাধ্যমে একটি সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের ব্যবস্থা করবেন।

এর আগে চলতি বছরের ১৭ আগস্ট সিলেট চেম্বারের ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছিল। সংশোধিত তফসিল অনুযায়ী ৫ নভেম্বর সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণের কথা ছিল।

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী নির্বাচনের প্রস্তুতিও এগিয়ে চলছিল। সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার সময় নির্ধারিত ছিল। ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করার পর প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ও আপিলের প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল।

ভোটার তালিকা নিয়ে আপত্তি

নির্বাচনের প্রস্তুতির মধ্যেই ভোটার তালিকা নিয়ে আপত্তি তোলে ব্যবসায়ীদের একটি অংশ। সিলেট ব্যবসায়ী ফোরামের নেতারা ভোটার তালিকার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এ নিয়ে সম্প্রতি সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর সঙ্গে চেম্বারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকা পক্ষগুলোর বৈঠকও হয়।

এর আগে ২১ সেপ্টেম্বর সিসিকের প্রশাসক চেম্বারের কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত এক সভায় প্রতিষ্ঠানটিকে ব্যবসায়ীদের স্বার্থে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেন।

তবে ওই বৈঠকে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এর মধ্যেই বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নির্বাচনের তফসিল বাতিল ও নতুন প্রশাসক নিয়োগের সিদ্ধান্ত আসে।

এক পক্ষের প্রস্তুতি, অন্য পক্ষের ভিন্ন অবস্থান

নির্বাচনকে সামনে রেখে সিলেট সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদের নেতারা প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তাঁদের পক্ষ থেকে মনোনয়নপত্রও জমা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। নির্বাচনের তফসিল বাতিল হওয়ায় এই পক্ষের নেতাদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে।

পরিষদের নেতা ফালাহ উদ্দিন আলী আহমদ বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় চেম্বারের নির্বাচনেও ভোটাধিকার ও নির্বাচনী ধারাবাহিকতা বজায় থাকা প্রয়োজন। তাঁর মতে, বারবার ভোটের প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাওয়া ব্যবসায়ীদের জন্য ইতিবাচক নয়। তিনি নিরপেক্ষ পরিবেশে নির্বাচন আয়োজনের ওপর গুরুত্ব দেন।

অন্যদিকে সিলেট ব্যবসায়ী ফোরামের নেতারা আগে থেকেই বর্তমান তফসিলের অধীনে নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তাঁদের পক্ষ থেকে ভোটার তালিকা নিয়ে আপত্তি জানানো হয়েছিল। নতুন প্রশাসক নিয়োগের সিদ্ধান্তকে তাঁরা তাঁদের দাবির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন।

ব্যবসায়ী ফোরামের নেতা এহতেশামুল হক বলেন, তাঁদের দাবির মধ্যে ছিল নির্বাচন পিছিয়ে দিয়ে ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের মধ্য থেকে একজন প্রশাসক নিয়োগ এবং ভোটার তালিকা পুনর্বিন্যাস করা। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে সেই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

দায়িত্ব ছাড়ছেন পিংকি সাহা

নতুন প্রশাসক নিয়োগের আগে প্রায় এক বছর সিলেট চেম্বারের প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহা। তাঁর দায়িত্বকালে চেম্বারের সদস্য ও ভোটার তালিকা হালনাগাদ করে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছিল।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নতুন নির্দেশনার পর তাঁকে প্রশাসকের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে ব্যবসায়ী প্রতিনিধি হিসেবে এজাজ আহমদ চৌধুরীকে নতুন প্রশাসক করা হয়েছে। রোববার নতুন প্রশাসকের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের কথা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

নতুন প্রশাসক এজাজ আহমদ চৌধুরী চেম্বারের সাবেক পরিচালক। তিনি প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণের পর সদস্য অন্তর্ভুক্তি, সদস্যতালিকা হালনাগাদ, নতুন ভোটার তালিকা তৈরি এবং পরবর্তী নির্বাচনের তফসিল প্রণয়নের কাজ করবেন।

আবারও নতুন করে নির্বাচনের প্রস্তুতি

সিলেট চেম্বারের পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচন নিয়ে এর আগেও একাধিকবার তফসিল ঘোষণা করা হলেও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি । এবারও তফসিল বাতিল হওয়ায় নতুন করে পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে।

নতুন প্রশাসকের সামনে এখন প্রধান কাজ হবে চেম্বারের সদস্যপদ ও ভোটার তালিকা নিয়ে উত্থাপিত আপত্তিগুলো যাচাই করা এবং নতুন তালিকা প্রণয়ন করা। এরপর নতুন তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।

তবে নতুন নির্বাচনের সময়সূচি কবে ঘোষণা করা হবে, সে বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নতুন নির্দেশনায় নির্দিষ্ট কোনো তারিখ দেওয়া হয়নি। ফলে ৫ নভেম্বরের নির্বাচন বাতিল হওয়ার পর পরবর্তী ভোটের তারিখ এখনো অনির্ধারিত।

চেম্বারের নির্বাচন ঘিরে ব্যবসায়ী মহলে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। একটি পক্ষ দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের পক্ষে, অন্য পক্ষ ভোটার তালিকা সংশোধন ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধির মাধ্যমে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার পর নির্বাচন চায়। নতুন প্রশাসকের কার্যক্রমের ওপরই এখন পরবর্তী নির্বাচনী প্রক্রিয়ার গতি অনেকাংশে নির্ভর করছে।

জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ