ছবি:সংগৃহীত
সুনামগঞ্জে কুশিয়ারা নদীর ওপর নির্মিত সিলেট বিভাগের সবচেয়ে বড় সেতুটি উদ্বোধনের ৪ বছর পার হলেও ওজন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (এক্সেললোড কন্ট্রোল সিস্টেম) আজও আলোর মুখ দেখেনি। এক্সেললোড সিস্টেম স্থাপন করা হলেও তা চালু করা সম্ভব হয়নি সড়ক বিভাগের কারণে- এমন অভিযোগ করেছেন স্থানীয় জনসাধারণ।
সড়ক ও জনপথ সূত্র জানায়, পাগলা-জগন্নাথপুর-রাণীগঞ্জ-আউশকান্দি মহাসড়কের রাণীগঞ্জে কুশিয়ারা নদীর ওপর রাণীগঞ্জ পিসি গার্ডার ও বক্স গার্ডার সেতু নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ১৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে এই সেতু ও আড়াই কিলোমিটার সংযোগ সড়ক এবং টোল প্লাজা নির্মাণ, এক্সেললোড কন্ট্রোল সিস্টেম কাজ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে ২৪ ব্যুরো কোম্পানি লিমিটেড ২৪ বি এবং এম এম বিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড-এমবিইএল ও ভ্যান জেভিকে। অন্য কাজগুলো শেষ হলে সরকারের হঠাৎ সিদ্ধান্তের জন্য ওজন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (এক্সেললোড কন্ট্রোল সিস্টেম) এর কাজ শেষ করা হয়নি। ৪৬ কিলোমিটার দীর্ঘ পাগলা-জগন্নাথপুর-সৈয়দপুরের সড়কে রাণীগঞ্জ সেতুসহ ৩৬ কিলোমিটার অংশ সুনামগঞ্জ জেলার সীমানায় এবং বাকি ১০ কিলোমিটার হবিগঞ্জ জেলার সীমানায় পড়েছে। এই সেতু ও সড়ক আন্তঃজেলা বাসসহ মালবাহী ট্রাক, কার্গো চলাচলের নিয়মিত চলাচল করছে।
স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, 'ভাটি বাংলার পদ্মা সেতু' নামে পরিচিত সেতুটি উদ্বোধনের পর থেকে এটি পুরো সুনামগঞ্জবাসীর ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারসহ দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। সেতু উদ্বোধনের পর থেকে টোল আদায়ে ডিজিটাল পদ্ধতি চালু করা হয়। কিন্তু ওজন পরিমাপক যন্ত্র স্থাপন না করায় প্রতিদিনই মাত্রাতিরিক্ত পণ্য নিয়ে যানবাহন পারাপার হয়। সুনামগঞ্জ জেলা ও হবিগঞ্জ জেলাসহ আশপাশের কয়েকটি জেলার হাজার হাজার লোকজন প্রতিদিন যাতায়াত করে এ সেতু দিয়ে। ওইসব এলাকার অর্থনীতিও অনেকটা এ সেতুর সঙ্গে সংযুক্ত। কোনো কারণে এ সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হলে এসব এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং অর্থনীতি বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে।
সরেজমিনে দেখা যায়, রানীগঞ্জ সেতুর ওপর দিয়ে অবাধে চলছে ভারী মালবাহী ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান। সেতুর কোনো পাশেই নিরাপত্তারক্ষী নেই। ভারী ইস্পাত ও লোহার রোলসহ ভারী কাঁচামাল নিয়ে ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান চলাচল করে এ সেতু দিয়ে। কিন্তু ওজন পরিমাপক যন্ত্র না থাকায় তা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয় না। সেতুর রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নেই বললেই চলে।
স্থানীয় বাসিন্দা মুনজু মিয়া ও শামিম মিয়াসহ আরও অনেকে জানান, সেতু রক্ষণাবেক্ষণে এ মুহূর্তে যেটি বেশি প্রয়োজন তা হলো ওজন পরিমাপক যন্ত্র। সেটি চালু না হওয়ায় এ সেতু দিয়ে অতিরিক্ত মালবোঝাই গাড়ি চলাচল করছে প্রতিনিয়ত, যা সেতুটিকে ক্রমেই ঝুঁকিগ্রস্ত করে তুলছে। সড়ক বিভাগ হয়তো গাড়ির মালিকদের আপত্তির কারণে সেটি চালু করেনি। এতে করে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দীর্ঘ দিনে স্বপ্ন বাস্তবায়ন হওয়া রানীগঞ্জ সেতু।
সুনামগঞ্জ সড়ক বিভাগের (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলী ড. মোহাম্মদ আহাদ উল্লাহ বলেন, রানীগঞ্জ সেতুর পাশে আপাতত এক্সেললোড কন্ট্রোল সিস্টেম চালু করার চিন্তা-ভাবনা নেই। সারা দেশে ৭ থেকে ৮ বছর আগে এক্সেললোড কন্ট্রোল সিস্টেম চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ট্রাক মালিক সমিতির বিরোধিতার কারণে এটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। বড় বড় ট্রাক দিয়ে যারা মালপত্র বহন করে, এক্সেললোড কন্ট্রোল সিস্টেম ধরলে তারা এ বিষয়ে অভিযোগ দিয়েছিল। সে সময় সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে সিদ্ধান্ত ছিল এটি চালু না করার। এ জন্য এক্সেললোড কন্ট্রোল সিস্টেম চালু হয়নি। এই সিস্টেমটি আমরা কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে করেছিলাম। এটা বাস্তবায়ন করার ইচ্ছা থাকলেও সরকার পরিবর্তন হওয়ার কারণে এটা চালু করা সম্ভব হয়নি।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




