গাজীপুরে শিশু ধ র্ষ ণে র দায়ে শিক্ষকের যাবজ্জীবন
বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:৫২ অপরাহ্ন

গাজীপুরে শিশু ধ র্ষ ণে র দায়ে শিক্ষকের যাবজ্জীবন

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৫/১১/২০২৬ ০৫:২৫:৩৩ অপরাহ্ন

গাজীপুরে শিশু ধ র্ষ ণে র দায়ে শিক্ষকের যাবজ্জীবন

সংগৃহীত


গাজীপুরে ছয় বছর বয়সী এক শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের দায়ে শিক্ষক মো. আনোয়ার হোসেন খানকে সশ্রম যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার টাকা অনাদায়ে আসামির স্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ ভুক্তভোগী শিশুকে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

আজ বৃহস্পতিবার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আবু বকর সিদ্দিক এ রায় ঘোষণা করেন।

রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন। এ সময় আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বিচারকের কাছে সময়ের আবেদন জানালেও আদালত তা নামঞ্জুর করেন। পরে আসামির বিরুদ্ধে সাজা ঘোষণা করে পরোয়ানা জারি করা হয়।

দণ্ড পাওয়া মো. আনোয়ার হোসেন খান গাজীপুরের শরীফপুর এলাকার বাসিন্দা। তিনি স্থানীয় একটি কিন্ডার গার্টেনের সহকারী শিক্ষক ছিলেন।

ট্রাইব্যুনাল সূত্রে জানা যায়, মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি পরিচালনা করেন মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) সেলিনা বেগম। তাকে সহযোগিতা করেন আইনজীবী মহিউদ্দিন ও জাকির কাদের।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ৩১ আগস্ট সকালে গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানার ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের শরীফপুর (ধানবাড়ী) এলাকার একটি কিন্ডার গার্টেনের নার্সারি শ্রেণির ছয় বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে যায়। অন্য শিক্ষকরা শ্রেণিকক্ষে চলে যাওয়ার পর ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. আনোয়ার হোসেন খান শিশুটিকে স্কুলের অফিস কক্ষে নিয়ে ধর্ষণ করেন বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়।

এজাহারে আরও বলা হয়, ঘটনার আগে বিদ্যালয়ের ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক ফরিদা বেগম শিশুটিকে শ্রেণিকক্ষ থেকে ডেকে অফিস কক্ষে নিয়ে যান। পরে ঘটনা সম্পর্কে কাউকে কিছু না বলার জন্য শিশুটিকে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়। শিশুটি রক্তাক্ত ও কান্নারত অবস্থায় বাড়ি ফিরে তার মাকে বিষয়টি জানায়।

ঘটনার পর ভুক্তভোগী শিশুকে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে পরিবারের সদস্য ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা শেষে ২০১৯ সালের ৫ সেপ্টেম্বর শিশুটির মা গাছা থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেন।

অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গাছা থানা-পুলিশ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলাটি নথিভুক্ত করে। মামলায় মূল অভিযুক্ত হিসেবে মো. আনোয়ার হোসেন খানকে এবং সহযোগিতার অভিযোগে শিক্ষক ফরিদা বেগমকে আসামি করা হয়।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণ ও শুনানি শেষে আদালত আনোয়ার হোসেন খানকে সশ্রম যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে এক লাখ টাকা জরিমানা এবং জরিমানা অনাদায়ে আসামির স্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে সেই অর্থ ভুক্তভোগী শিশুকে দেওয়ার নির্দেশ দেন।

জৈন্তাবার্তা/ সুলতানা