ফাইল ফটো
দিন দিন সড়ক যেনো মরণফাঁদ হয়ে ওঠছে। প্রতিদিন খবর আসে সড়ক দুর্ঘটনার। সিলেট জেলার দক্ষিণ সুরমার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নাজিরবাজাওে গত বুধবার ভোরে ট্রাক ও শ্রমিকদের বহনকারী পিকআপভ্যানের সংঘর্ষে ১৫ শ্রমিকের মৃত্যু হয়। সিলেটজুড়ে এই শোকের মাতম শেষ হতে না হতেই গতকাল সোমবার ফের ওসমনীনগরের ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের দয়ামীর ইউনিয়নের সোয়ারগাঁও এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাককে আরেকটি ট্রাক পেছন থেকে ধাক্কা দিলে তিন জনের মৃত্যু ঘটে। একইদিনে সিলেট-জকিগঞ্জ সড়কের টিকরপাড়া সংলগ্ন ট্রাকচাপায় মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু হয়। এ নিয়ে সপ্তাহের মধ্যে সিলেটের সড়কে ১৯ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এতে সিলেটজুড়ে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ উৎকণ্ঠা।
আমাদের ওসমানীনগর প্রতিনিধি জানান- গতকাল সোমবার ভোর ৫টার দিকে উপজেলার দয়ামীর ইউনিয়নের নিজ কুরুয়ায় (ঢাকা-সিলেট) মহাসড়কে সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলায় দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাককে আরেকটি ট্রাক পেছন দিক দিয়ে ধাক্কা দেয়। এতে ৩ জন নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত হয়েছেন আরও ১ জন। নিহতদের পরিচয় পাওয়া যায়নি। আহত জসিম (৩৫), ট্রাক চালক। বিষয়টি নিশ্চিত করেন ওসমানীনগর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের লিডার ফখরুল ইসলাম।
জানা যায়, সিলেটগামী একটি ট্রাক নিজ কুরুয়া নামক স্থানে আসার পর ট্রায়ার পাংচার হলে চালক ও সহকারী মিলে চাকা পরিবর্তন করছিলেন। ভোর সাড়ে ৪টার দিকে একইদিকে সিলেটগামী আরেকটি ট্রাক এসে পেছন থেকে তাদের ট্রাককে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের চালক, চালকের সহকারীসহ তিন জন ঘটনাস্থলে নিহত হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ওসমানীনগর স্টেশনের উপ সহকারি পরিচালক খন্দকার সানাউল হকের নেতৃত্বে একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে হতাহতদের উদ্ধার করে।
এব্যাপারে ওসমানীনগর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের লিডার ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাককে পেছন থেকে এসে আরেকটি ট্রাক ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিন জন মারা যান। গুরুতর আহত হয়েছেন আরেকজন। তার ট্রাকই ধাক্কা দেয় আরেকজনকে তাকে ওসমানী মেডিক্যাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘নিহতদের নাম পরিচয় এখনও পাওয়া যায়নি তবে আহতের নাম জসিম। তিনি বুকে মারাত্মকভাবে চাপ খেয়েছেন।’
এদিকে একইদিনে সোমবার বিকাল সাড়ে ৪টায় সিলেট-জকিগঞ্জ সড়কের বিয়ানীবাজারের টিকরপাড়া এলাকায় ট্রাকচাপায় মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু হয়। এ দুর্ঘটনাগুলো আহরহ ঘটে চলেছে। দুর্ঘটনায় নিহত মোটরসাইকেল আরোহী মো. মাইদুল ইসলাম (২১) গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ থানার তারাপুর গ্রামের মো. নওশের আলীর ছেলে। মাইদুল একটি কোম্পানির মার্কেটিং ব্যবস্থাপক ছিলেন।
সিলেট জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল জানায়, বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে সিলেট থেকে ছেড়ে যাওয়া বিয়ানীবাজারগামী ট্রাক (ঢাকা মেট্রো-ট-২৪-১৭৫৬) বিয়ানীবাজারের টিকরপাড়া বাজারে মোটরসাইকেল (ঢাকা মেট্রো-হ-৪২-৩৪৩৩) আরোহী মাইদুলকে পেছন থেকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনার পর ট্রাকচালক পালিয়ে যান। তাকে ধরতে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। এ বিষয়ে সচেতন নাগরিকরা দায়ী করছেন বেপরুয়া কিছু চালককে। হাইওয়েতে মাত্রারিক্ত স্প্রীডে গাড়ী চালানো ও ড্রাইভারদের অনুমনযোগীতাকে দায়ী করছেন অনেকে।
উল্লেখ্য- সিলেটের দক্ষিণ সুরমার নাজিরবাজারে ট্রাক ও পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১৫ জনের প্রাণহানির ঘটনায় করা মামলায় ট্রাকচালককে পটুয়াখালী থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। গত শনিবার সন্ধ্যায় এ অভিযান চালায় র্যাব। ট্রাকচালকের নাম শফিকুল ইসলাম। গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে র্যাব-৯ জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার (গণমাধ্যম) আফসান-আল-আলম বলেন, এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানানো হবে। তবে দুর্ঘটনায় শফিকুল নিজেও কিছুটা আহত হয়েছেন।
গত ৭ জুন বুধবার ভোরে সিলেটের দক্ষিণ সুরমার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নাজিরবাজারে ট্রাক ও শ্রমিকদের বহনকারী পিকআপ ভ্যানের সংঘর্ষে ১৪ শ্রমিকের মৃত্যু হয়। সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার সকালে আরও একজনের মৃত্যু হয়। তাঁরা নগরের আম্বরখানা এলাকা থেকে ঢালাই কাজের জন্য ওসমানীনগর উপজেলার গোয়ালাবাজারে যাচ্ছিলেন। এ ঘটনায় নিহত এক শ্রমিকের স্বজন ইজাজুল ইসলাম বুধবার রাতে দক্ষিণ সুরমা থানায় মামলা করেন। ওই মামলায় ট্রাক ও পিকআপচালককে আসামি করা হয়েছে।
জৈন্তা বার্তা/ শাহিদ হাতিমী




