ছবি:সংগৃহীত
সাংবাদিক ও প্রশাসন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করলে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়া সম্ভব-এমন মন্তব্য করেছেন সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম। তিনি বলেন, নির্বাচনকালীন প্রতিটি সংবাদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং গণভোটে জনসচেতনতা তৈরিতে সাংবাদিকদের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি।
সিলেটে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ‘নির্বাচনকালীন সাংবাদিকতা বিষয়ক’ প্রশিক্ষণ কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে রোববার এসব কথা বলেন তিনি। সিলেট প্রেসক্লাবের আমীনূর রশীদ চৌধুরী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।
জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম বলেন, পড়াশোনা ও জানার কোনো বিকল্প নেই। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নতুন নতুন বিষয়ে জানা যায়, যা বাস্তব কাজে সরাসরি সহায়ক হয়। পিআইবি যে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে, তা প্রশংসার দাবি রাখে। তিনি আরও বলেন, এ ধরনের প্রশিক্ষণ আরও আগে আয়োজন করা গেলে ভালো হতো। প্রশিক্ষণ ছাড়া কোনো কাজ দক্ষভাবে করা সম্ভব নয়। এজন্য সাংবাদিকদের বেশি করে পড়তে হবে, জানতে হবে। যে যত বেশি জানেন, তার লেখনীর শক্তিও তত বেশি হয়।
তিনি বলেন, নির্বাচনের প্রতিটি রিপোর্টই গুরুত্বপূর্ণ। সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল ভূমিকার মাধ্যমেই একটি সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা সম্ভব। আগামী গণভোটে প্রচারণা ও জনসচেতনতা তৈরিতে সাংবাদিকদের লেখনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সাংবাদিকদের প্রতিবেদনের মাধ্যমেই জনগণ গণভোট সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবে এবং সচেতনভাবে হ্যাঁ বা না ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।
সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি মুকতাবিস-উন-নূরের সভাপতিত্বে এবং পিআইবির সিনিয়র প্রশিক্ষক ও প্রশিক্ষণ সমন্বয়কারী মো. শাহ আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ডেপুটি এডিটর সুলতান মাহমুদ এবং সিলেট মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক খালেদ আহমদ।
সভাপতির বক্তব্যে মুকতাবিস-উন-নূর বলেন, নির্বাচন এলেই সিলেট প্রেসক্লাব সবসময় সক্রিয় থাকে। এবারও টিম গঠন করে নির্বাচনকালীন পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করবেন সাংবাদিকরা। তিনি বলেন, অনেক সময় আমরা মনে করি অনেক কিছু জানি, কিন্তু জ্ঞান অন্বেষণে নামলে বুঝি-আসলে আরও অনেক কিছু জানার বাকি। জ্ঞান অর্জন দুনিয়া থেকে কবর পর্যন্ত কাজে লাগে।
তিনি সিলেটে ফটো সাংবাদিক, অনলাইন ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের জন্য পৃথক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণে পিআইবি কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান। পাশাপাশি বর্তমান কমিটির মেয়াদেই প্রেসক্লাবের আবাসন সমস্যার সমাধান হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
দুই দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণ কর্মশালায় সিলেট জেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমের মোট ৫০ জন সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেন।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




