গোলাপগঞ্জের রাণাপিং শাহী ঈদগাহে ঈদের জামাত সম্পন্ন
বুধবার, ২০ মে ২০২৬, ১১:২৩ AM

গোলাপগঞ্জের রাণাপিং শাহী ঈদগাহে ঈদের জামাত সম্পন্ন

মো. বদরুল আলম, গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২১/০৩/২০২৬ ১১:২৮:২৬ AM

গোলাপগঞ্জের রাণাপিং শাহী ঈদগাহে ঈদের জামাত সম্পন্ন

ছবি নিজস্ব


পূর্ব সিলেটের অন্যতম বৃহত্তম ঈদগাহ ময়দান গোলাপগঞ্জের রাণাপিং শাহী ঈদগাহ ময়দানে যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে অনুষ্ঠিত এই ঈদের জামাতে প্রায় ৫ হাজার ধর্মপ্রাণ মুসল্লি অংশগ্রহণ করেন। ঈদগাহ প্রাঙ্গণ ভরে যায় মুসল্লিদের উপস্থিতিতে। আশপাশের সড়ক ও খোলা স্থানেও অনেকে নামাজ আদায় করেন।

নামাজে ইমামতি করেন বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন হযরত মাওলানা মমতাজ উদ্দিন বড়দেশী। খুতবা শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। এ সময় বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের ঐক্য, মানবতার কল্যাণ এবং দেশবাসীর সুখ-শান্তি কামনা করা হয়।

ঈদের নামাজকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই ঈদগাহ এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সী মুসল্লি নতুন পোশাকে ঈদগাহে আসেন। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর ঈদের এই জামাতে অংশ নিতে পেরে মুসল্লিরা মহান আল্লাহর দরবারে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

এদিকে ঈদগাহ কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, রাণাপিং শাহী ঈদগাহের উন্নয়ন কার্যক্রম ইতোমধ্যে চলমান রয়েছে। বিশেষ করে বর্ষাকালে মুসল্লিদের নামাজ আদায়ে যাতে কোনো ভোগান্তি না হয়, সেজন্য ঈদগাহে স্থায়ী চাল (ছাউনি) নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এ মহৎ কাজে দেশ-বিদেশে অবস্থানরত সকল ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।

কমিটির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, ঈদগাহের সৌন্দর্যবর্ধন ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে ময়দানে টাইলস স্থাপনের পরিকল্পনাও হাতে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মুসল্লিদের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ায় বর্তমান জায়গা সংকুলান হচ্ছে না। এ কারণে ঈদগাহ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে পার্শ্ববর্তী জমি ক্রয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ঈদগাহ কমিটির নেতৃবৃন্দ জানান, এই বৃহৎ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে আরও আধুনিক ও সুবিধাজনক করে গড়ে তুলতে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, প্রবাসী এবং সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত সহযোগিতা অত্যন্ত প্রয়োজন। তারা আশা প্রকাশ করেন, সবার সহযোগিতায় রাণাপিং শাহী ঈদগাহকে একটি আদর্শ ও দৃষ্টিনন্দন ঈদগাহে পরিণত করা সম্ভব হবে।

সবশেষে ঈদের আনন্দ সকলের মাঝে ছড়িয়ে পড়ুক এবং মানবতা, ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় হোক—এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন উপস্থিত মুসল্লি ও আয়োজকরা। 

জৈন্তা বার্তা/আরআর