সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত সিলেট: সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ূম চৌধুরী
বুধবার, ২০ মে ২০২৬, ০৮:৫২ AM

সিলেটে মহালক্ষ্মী ভৈরবী গ্রীবা মহাপীঠে বার্ষিক পূজা সম্পন্ন

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত সিলেট: সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ূম চৌধুরী

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৮/০৩/২০২৬ ০১:১৪:১০ AM

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত সিলেট:  সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ূম চৌধুরী

ছবি:সংগৃহীত



সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অতি পবিত্র ৫১ শক্তিপীঠের অন্যতম মহালক্ষ্মী ভৈরবী গ্রীবা মহাপীঠ-এ যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা ও উৎসবমুখর পরিবেশে ‘শ্রীশ্রী মহালক্ষ্মী ভৈরবী দেবী’র বার্ষিক পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ সুরমার জৈনপুর এলাকায় অবস্থিত এই মহাপীঠে তিনদিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পূজা সম্পন্ন হয়।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) মহানবমী তিথিতে সকাল ৮টায় বিহিত পূজা, পুষ্পাঞ্জলি, চণ্ডীপাঠ ও ভোগরাগ অনুষ্ঠিত হয়। দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটের মধ্যে পূর্ণাহুতি যজ্ঞ সম্পন্ন হয় এবং পরে ভক্তদের মাঝে মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হয়।

এর আগে মহাঅষ্টমীতে বাৎসরিক পূজার দ্বিতীয় দিনে এক বিশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। প্রধান আলোচক ছিলেন শ্রীমৎ স্বামী চন্দ্রনাথানন্দজী, আর বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন শ্রীমৎ স্বামী বেদময়ানন্দজী।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেটে নিযুক্ত ভারতীয় হাই কমিশনের প্রতিনিধি শ্রী অনিরুদ্ধ দাস, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি সুদীপ রঞ্জন সেন বাপ্পু, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ সিলেট জেলা শাখার সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা গোপিকা শ্যাম পুরকায়স্থ চয়নসহ বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পীঠস্থান পরিচালনা কমিটির সভাপতি শিবব্রত ভৌমিক চন্দন এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক জনার্দন চক্রবর্তী মিন্টু। অনুষ্ঠানের শুরুতে বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণ করেন সুমন চক্রবর্তী এবং সমাপ্তি ঘোষণা করেন অধ্যাপক রাকেশ রঞ্জন শর্মা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, সিলেট বরাবরই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণ। এখানে সব ধর্মের মানুষ পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ববোধে দীর্ঘদিন ধরে একসঙ্গে বসবাস করে আসছে। তিনি আরও জানান, এই মহাপীঠের উন্নয়নে সিটি কর্পোরেশন অতীতে সহযোগিতা করেছে এবং ভবিষ্যতেও চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

প্রধান আলোচক স্বামী চন্দ্রনাথানন্দজী বলেন, ধর্মীয় অনুশীলনের মাধ্যমে আত্মিক উন্নয়ন সম্ভব। ব্যস্ততার মধ্যেও ভক্তদের এই পীঠস্থানে এসে আত্মচর্চায় মনোনিবেশ করার আহ্বান জানান তিনি। এতে মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ বৃদ্ধি পাবে এবং একটি সুন্দর সমাজ গড়ে উঠবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এছাড়া অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও ভক্তবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

আগামী ২৮ মার্চ শনিবার দশমী তিথিতে বিহিত পূজা শেষে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হবে।

পুরাণ অনুযায়ী, দক্ষ রাজা আয়োজিত যজ্ঞে মহাদেবকে আমন্ত্রণ না জানানো এবং পতিনিন্দা সহ্য করতে না পেরে সতীদেবী দেহত্যাগ করেন। পরে মহাদেব সতীর দেহ কাঁধে নিয়ে প্রলয়নৃত্য শুরু করলে বিশ্বসংসার রক্ষার্থে ভগবান বিষ্ণু সুদর্শন চক্রের মাধ্যমে সতীর দেহকে ৫১ খণ্ডে বিভক্ত করেন। এসব খণ্ড বিভিন্ন স্থানে পতিত হয়ে শক্তিপীঠ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।

ধারণা করা হয়, সিলেটের জৈনপুরে সতীদেবীর গ্রীবা (গলা) অংশ পতিত হয়েছিল। ফলে এই স্থানটি ‘গ্রীবা মহাপীঠ’ নামে পরিচিতি পায়। এখানে অধিষ্ঠাত্রী দেবী ‘শ্রীশ্রী মহালক্ষ্মী ভৈরবী’ এবং নিকটবর্তী গোটাটিকর এলাকায় পীঠরক্ষী ভৈরব ‘সর্বানন্দ শিব’ বিরাজমান আছেন।

প্রাচীনকাল থেকেই এ পীঠস্থানে নিত্যপূজা ছাড়াও প্রতিবছর শিবচতুর্দশী ও বার্ষিক পূজা উপলক্ষে ধর্মীয় উৎসব ও মেলার আয়োজন করা হয়ে থাকে।

জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ