শাহ আবদুল করিম লোক উৎসব: গানে-আলোচনায় মানবমুক্তির বার্তা
রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬, ০২:২৬ AM

শাহ আবদুল করিম লোক উৎসব: গানে-আলোচনায় মানবমুক্তির বার্তা

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৮/০৩/২০২৬ ০৮:০৮:৫১ PM

শাহ আবদুল করিম লোক উৎসব: গানে-আলোচনায় মানবমুক্তির বার্তা

সংগৃহিত


মানুষের মুক্তি, সাম্য ও সম্প্রীতির চিরন্তন বার্তা ছড়িয়ে দিতে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার উজানধল গ্রামে শুরু হয়েছে বাউলসম্রাট শাহ আবদুল করিম-এর ১১০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দুই দিনব্যাপী লোক উৎসব। শুক্রবার (২৭ মার্চ) শুরু হওয়া এ উৎসব গানে-আলোচনায় পরিণত হয়েছে এক অনন্য মানবমুক্তির মিলনমেলায়।

জেলা প্রশাসন ও শাহ আবদুল করিম পরিষদের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই উৎসবের উদ্বোধনী আলোচনায় বক্তারা বলেন, করিমের গান কেবল সংগীত নয়—এটি শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে মানুষের সংগ্রামের প্রেরণা। তাঁর জীবন ও সৃষ্টিতে মানবতা, ভালোবাসা এবং সাম্যের যে দর্শন ফুটে উঠেছে, তা আজও প্রাসঙ্গিক।

বিকেলে বাউলশিল্পীরা করিমের বাড়ি থেকে গান গেয়ে শোভাযাত্রার মাধ্যমে উৎসবস্থলে যোগ দেন। কালনী নদী-এর তীরজুড়ে গড়ে ওঠা ছোট ছোট গানের আসর আর হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো উজানধল গ্রাম।

রাত আটটায় অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার এ বি এম জাকির হোসেন, দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সনজীব সরকার এবং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আলী আহমদ।

স্বাগত বক্তব্যে শাহ আবদুল করিমের পুত্র ও পরিষদের সভাপতি শাহ নূর জালাল তাঁর পিতার জীবন ও দর্শনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

বক্তারা আরও বলেন, শাহ আবদুল করিম ছিলেন ক্ষণজন্মা সাধক। সহজ-সরল ভাষায় গভীর দর্শন প্রকাশের মাধ্যমে তিনি মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী আসন গড়ে নিয়েছেন। তাঁর গান মানুষের আত্মিক জাগরণ ও সামাজিক সচেতনতার শক্তিশালী মাধ্যম।

প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, “মানুষের মাঝেই তিনি তাঁর ধ্যান-জ্ঞান খুঁজে পেয়েছিলেন। এ উৎসব সাম্য ও মৈত্রীর এক অনন্য দৃষ্টান্ত।” একই সঙ্গে করিমের গান শুদ্ধভাবে পরিবেশনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, “সুনামগঞ্জ বাউল-সাধক ও গুণীজনের জন্মভূমি। এই অঞ্চলের সাহিত্য-সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করতে শাহ আবদুল করিমের অবদান অনন্য।” তাঁর সৃষ্টিকর্ম সংরক্ষণে প্রশাসনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

আলোচনা শেষে মঞ্চে পরিবেশিত হয় করিমের জনপ্রিয় গান। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ভক্ত-অনুরাগীরা মুগ্ধ হয়ে উপভোগ করেন পরিবেশনাগুলো।

উল্লেখ্য, বাংলা লোকসংগীতের এই কিংবদন্তিকে স্মরণে ২০০৬ সাল থেকে নিয়মিত এ উৎসবের আয়োজন করা হচ্ছে। ১৯১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি উজানধল গ্রামে জন্মগ্রহণ করা শাহ আবদুল করিম ২০০৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। শনিবার উৎসবের সমাপ্তি হওয়ার কথা রয়েছে।

জৈন্তা বার্তা /ওয়াদুদ