ছবি: জৈন্তা বার্তা
ঐতিহ্য ও পুরাকীর্তির নিদর্শন সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় অবস্থিত পাইলগাঁও জমিদার বাড়ি। কয়েকশ বছরের পুরনো এই রাজকীয় স্থাপত্যশৈলী দর্শনার্থীদের নিমিষেই অতীতে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। বিভিন্ন ছুটিতে যারা দূরবর্তী স্থানে যাওয়ার সময় পান না, তারা চাইলে সহজেই চমৎকার এই স্থানে পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন।
আধুনিক স্থাপত্য থেকে শুরু করে প্রাচীন জমিদার বাড়ি- সব মিলিয়ে জগন্নাথপুর এখন পর্যটকদের জন্য এক আকর্ষণীয় গন্তব্য। পাইলগাঁও জমিদার বাড়ি ছাড়াও জগন্নাথপুরে ভ্রমণের জন্য কিছু জায়গার তথ্য নিচে তুলে ধরা হলো।
রানীগঞ্জ সেতু: বর্তমানে জগন্নাথপুরের সবচেয়ে জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র রানীগঞ্জ সেতু। কুশিয়ারা নদীর ওপর নির্মিত এই বিশাল ও নান্দনিক সেতুটি বিকেলের আড্ডা কিংবা সূর্যাস্ত দেখার জন্য এক উপযুক্ত স্থান। এর আধুনিক নির্মাণশৈলী যেকোনো ভ্রমণপিপাসুর মন কেড়ে নেয়।
দৃষ্টিনন্দন আর্চ সেতু: জগন্নাথপুর পৌর শহরের নলজুর নদীর ওপর নির্মিত দৃষ্টিনন্দন আর্চ সেতুটি পর্যটকদের অন্যতম পছন্দের জায়গা। স্থানীয়দের কাছে এটি 'ছোট হাতিরঝিল' হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। বর্তমানে এই সেতুতে দৃষ্টিনন্দন আলোকসজ্জার কাজ চলমান রয়েছে, যা সম্পন্ন হলে এর সৌন্দর্য আরও কয়েকগুণ বেড়ে যাবে।
রাধারমণ দত্তের সমাধি মন্দির: আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সন্ধানে ঘুরে আসতে পারেন মরমি কবি রাধারমণ দত্তের স্মৃতিধন্য সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার পৌর এলাকার কেশবপুরের সমাধি ও ধাম। সঙ্গীত ও দর্শন অনুরাগীদের কাছে এই স্থানটি বরাবরই একটি তীর্থস্থান হিসেবে সমাদৃত। মইয়ার ও নলুয়ার হাওর: প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য মইয়ার ও নলুয়ার হাওর এক অনন্য গন্তব্য। দিগন্তজোড়া সবুজ মাঠ আর মেঠো পথের মায়াবী রূপ পর্যটকদের মুগ্ধ করে। এছাড়া শান্ত ও স্নিগ্ধ পরিবেশে নিরিবিলি সময় কাটানোর জন্য হলদিপুরের পুকুর পাড় একটি চমৎকার স্পট। বিকেলের মৃদুমন্দ বাতাসে এখানে দারুণ কিছু মুহূর্ত কাটানো সম্ভব।
আড্ডা ও ক্যাফে কালচার: বর্তমানে জগন্নাথপুরে বেশ কিছু আধুনিক ক্যাফে গড়ে উঠেছে যা তরুণ প্রজন্মের কাছে বেশ জনপ্রিয়। কলকলিয়া ইউনিয়নের মজিদপুর কফি হাউস বন্ধুদের নিয়ে ভালো মানের কফি ও স্ন্যাক্স উপভোগ করার জন্য একটি আদর্শ জায়গা। এখানে আছে একটি মিনি পার্ক। এছাড়া আধুনিক পরিবেশ ও সুস্বাদু খাবারের জন্য জগন্নাথপুর রানীগঞ্জ রোডের ক্যাফে প্লাস এখন অনেকের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে। উৎসবের ছুটিতে আড্ডা আর আপ্যায়নের জন্য এই স্থানগুলো সেরা পছন্দ হতে পারে।
জগন্নাথপুর উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামের বাসিন্দা যুক্তরাজ্য প্রবাসী লাইসিয়াম কিন্ডারগার্টেন স্কুল সৈয়দপুরের পরিচালক রফিকুল হাসান (হিরন) বলেন, পর্যটকদের অন্যতম পছন্দের জায়গা 'শেষবেলা'।
জগন্নাথপুরের প্রবীণ সাংবাদিক অমিত দেব বলেন, ১৯১৩ সালে পাইলগাঁও জমিদার বাড়ি নির্মাণ শুরু হয়ে ১৯২১ সালে শেষ হয়। এটি নির্মাণ করেন ধঞ্জন রাজমিস্ত্রী। প্রায় দেড়শ বছর পূর্বে এ অঞ্চলের জমিদারি শাসনামলের পতন ঘটে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় জমিদাররা ভারতে পাড়ি জমান। এরপর থেকেই পরিত্যক্ত এ জমিদার বাড়ি। জমিদার বাড়িটি সংস্কার করে পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করা হলে এটি জাতীয় ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হয়ে উঠতে পারে। দেরি হলে ইতিহাস হারিয়ে যাবে।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




