ছবি:সংগৃহীত
লিবিয়া থেকে নৌকাযোগে গ্রীস যাওয়ার পথে দিরাইয়ের একই গ্রামের তিনজন সহ ৪ যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শনিবার এই খবরে তাদের গ্রামের বাড়িতে চলছে শোকের
মাতম। বারবার মুর্ছা যাচ্ছেন পরিবারের সদস্যরা। মৃতরা হলেন উপজেলার তারাপাশা গ্রামের আবু সরদারের ছেলে নুরুজ্জামান ময়না (৩৮), আব্দুল গনির ছেলে সাজিদুর রহমান (৩২), মৃত কারী ইসলাম উদ্দিনের ছেলে শাহান এহিয়া (২৫) ও উপজেলার রনারচর গ্রামের মুজিবুর রহমান।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় দালাল চক্রের মাধ্যমে গত রমজানে লিবিয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি ছাড়েন তারাপাশা গ্রামের ৪ যুবক। এর মধ্যে লিবিয়া থেকে নৌকাযোগে গ্রিস যাওয়ার পথে দুর্ঘটনায় তাদের তিনজনের মৃত্যু হয়।
এদিকে বার্তা সংস্থা এএফপি’র প্রতিবেদনে বলা হয় উত্তর আফ্রিকা থেকে ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টা করা ২২ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী গ্রিসের উপকূলে একটি রাবারের নৌকায়
ছয় দিন সমুদ্রে থাকার পর মারা গেছেন। বেঁচে ফেরা ব্যক্তিরা শনিবার গ্রিক কোস্টগার্ডকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
গ্রিক কোস্টগার্ড শুক্রবার গভীর রাতে জানায়, ফ্রনটেক্সের একটি জাহাজ ক্রিট দ্বীপের কাছে ২৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছে, যাদের মধ্যে একজন নারী ও একজন নাবালক রয়েছে। পরে কোস্টগার্ড
এএফপিকে জানায়, বেঁচে ফেরা ব্যক্তিদের মধ্যে ২১ জন বাংলাদেশি, চারজন দক্ষিণ সুদানের নাগরিক এবং একজন চাদের নাগরিক রয়েছেন। কোস্টগার্ড জানায়, আহত দুইজনকে ক্রিটের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
বেঁচে ফেরা ব্যক্তিদের বক্তব্যের ভিত্তিতে কোস্টগার্ড জানায়, নৌকাটি ২১ মার্চ পূর্ব লিবিয়ার বন্দর শহর তোবরুক থেকে গ্রিসের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল, যা ইউরোপীয় ইউনিয়নে আশ্রয়প্রত্যাশীদের জন্য একটি প্রবেশদ্বার হিসেবে বিবেচিত।
কোস্টগার্ডের ভাষ্য অনুযায়ী, যাত্রাপথে যাত্রীরা দিক হারিয়ে ফেলেন এবং খাবার ও পানীয় ছাড়া ছয় দিন সমুদ্রে ভেসে থাকেন। তারা আরও জানায়, মৃতদের মরদেহ একজন পাচারকারীর নির্দেশে সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হয়।
গ্রিক কর্তৃপক্ষ দুইজন দক্ষিণ সুদানের নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে, যাদের বয়স ১৯ ও ২২ বছর, এবং তাদের মানবপাচারকারী বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে দেশে প্রবেশ এবং অবহেলার কারণে হত্যার অভিযোগে তদন্ত চলছে।
কোস্টগার্ডের এক মুখপাত্র এএফপিকে বলেন, যাত্রাপথে নৌকাটি প্রতিকূল আবহাওয়ার মুখোমুখি হয়েছিল। খাবার ও পানির অভাবের সঙ্গে অতিরিক্ত ক্লান্তির কারণে ২২ জনের মৃত্যুর কারণ হতে পারে বলেও জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, `বেঁচে ফেরা ব্যক্তিদের সাক্ষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার হওয়া দুই পাচারকারীর নির্দেশেই মৃতদের মরদেহ সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হয়েছে।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




