জাতীয় স্বার্থবিরোধী বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের দাবিতে সিলেটে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের বিক্ষোভ
বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৫৩ AM

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘রিসিপ্রোকাল ট্রেড এগ্রিমেন্ট’ বাতিল ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অপসারণ দাবি

জাতীয় স্বার্থবিরোধী বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের দাবিতে সিলেটে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের বিক্ষোভ

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৬/০৪/২০২৬ ০৯:০৭:১৮ PM

জাতীয় স্বার্থবিরোধী বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের দাবিতে সিলেটে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের বিক্ষোভ

ছবি:সংগৃহীত


মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত ‘জাতীয় স্বার্থবিরোধী’ বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের দাবিতে সিলেটে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সোমবার (৬ এপ্রিল) বিকাল ৫টায় সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে মিছিল বের হয়ে নগরীর সিটি পয়েন্টে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়।

সিপিবি সিলেট জেলা সভাপতি সৈয়দ ফরহাদ হোসেনের সভাপতিত্বে এবং বাসদ জেলা সদস্য সচিব প্রণব জ্যোতি পালের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন বাসদ জেলা আহ্বায়ক আবু জাফর, সিপিবি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট আনোয়ার হোসেন সুমন, বাসদ (মার্ক্সবাদী) জেলা সমন্বয়ক সঞ্জয় কান্ত দাশ, বাসদ নেতা এম এ ওয়াদুদ, বাসদ (মার্ক্সবাদী) নেতা সুমিত রঞ্জন দাস, অজিত রায় এবং সিপিবি নেতা মনীষা ওয়াহিদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ‘রিসিপ্রোকাল ট্রেড এগ্রিমেন্ট (আরটিএ)’ একটি বৈষম্যমূলক ও জাতীয় স্বার্থবিরোধী চুক্তি। তাদের দাবি, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালে স্বাক্ষরিত ৩২ পৃষ্ঠার এই চুক্তিতে ‘Bangladesh shall’ শব্দবন্ধ ১৫৮ বার এবং ‘United States shall’ মাত্র ৯ বার ব্যবহার করা হয়েছে, যা চুক্তির অসমতা স্পষ্ট করে।

নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, এই চুক্তির আওতায় বাংলাদেশকে মার্কিন ৬ হাজার ৭১০টি পণ্যে শুল্ক ছাড় দিতে হবে, বিপরীতে বাংলাদেশ পাবে মাত্র ১ হাজার ৬৩৮টি পণ্যে সুবিধা। সিপিডির হিসাব অনুযায়ী, এতে বাংলাদেশ বছরে প্রায় ১ হাজার ৩২৭ কোটি টাকার রাজস্ব হারাতে পারে। একইসঙ্গে মার্কিন বাজারে শুল্ক হ্রাসের যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবে খুবই সীমিত বলে তারা দাবি করেন।

বক্তারা আরও বলেন, এ চুক্তির ফলে বাংলাদেশকে গম, তুলা, রাসায়নিক, শিল্পপণ্য, এলএনজি ও প্রতিরক্ষা সামগ্রীসহ বিভিন্ন পণ্য যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলনামূলক বেশি দামে কিনতে বাধ্য করা হবে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর।

সমাবেশে আরও অভিযোগ করা হয়, গত ৯ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের আগে মার্কিন বোয়িং কোম্পানির কাছ থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার একটি চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়েছে, যার প্রাথমিক মূল্য ধরা হয়েছে ৩.৭ বিলিয়ন ডলার। এ অর্থ ১০ থেকে ২০ বছর ধরে কিস্তিতে পরিশোধ করতে হবে, যা দেশের ওপর বড় আর্থিক চাপ সৃষ্টি করবে। উন্মুক্ত দরপত্র ছাড়া এ ধরনের চুক্তি করা আইন লঙ্ঘনের শামিল বলেও উল্লেখ করেন বক্তারা।

নেতৃবৃন্দ বলেন, এই চুক্তি কেবল বাণিজ্যিক নয়, বরং দেশের ওপর কৌশলগত নির্ভরতা তৈরির একটি প্রক্রিয়া। তারা দাবি করেন, সংবিধান অনুযায়ী এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি সংসদে অনুমোদনের প্রয়োজন হলেও তা অনুসরণ করা হয়নি।

সমাবেশ থেকে অবিলম্বে চুক্তি বাতিল এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের অপসারণ দাবি করা হয়। অন্যথায় সারাদেশে তীব্র গণ-আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দেন নেতারা।

জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ