সংগৃহিত
শাহাব উদ্দিন শাহিন, বালাগঞ্জ প্রতিনিধি:
সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলায় বিয়ের আশ্বাসে দীর্ঘদিন সম্পর্ক ও শারীরিক সম্পর্কের অভিযোগ এনে প্রেমিকের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করেছেন এক তরুণী। এ ঘটনায় অভিযুক্ত প্রেমিক প্রদীপ রায় (২৪) কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
অভিযুক্ত প্রদীপ রায় উপজেলার বালাগঞ্জ ইউনিয়নের রাধাকোনা গ্রামের চিত্তরঞ্জন রায় ও মহামায়া রায়ের ছেলে। ভুক্তভোগী জলি রানী বিশ্বাস (২২) পূর্ব পৈলনপুর ইউনিয়নের হামছাপুর গ্রামের গবিন্দ বিশ্বাস ও লক্ষী রানী বিশ্বাসের মেয়ে।
জানা যায়, ২০২২ সাল থেকে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ভুক্তভোগীর দাবি, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন প্রদীপ। এছাড়া পড়াশোনা ও অন্যান্য খরচের কথা বলে তার কাছ থেকে প্রায় ৩ লাখ টাকা নেন।
গত ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সুইজগেট এলাকায় দুজনের মধ্যে বিরোধের জেরে জলি বিষপান করেন। পরে তাকে প্রথমে বালাগঞ্জ এবং পরে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে ১৯ ফেব্রুয়ারি প্রদীপ বিয়ের কথা বলে জলিকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। তবে পরদিনই প্রদীপ ও তার মা বাড়ি থেকে চলে যান। এরপর থেকে জলি ওই বাড়িতেই অবস্থান করতে থাকেন। এ সময় প্রদীপের বাবা তার নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ বহন করেন।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সমঝোতার চেষ্টা করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বরাবর উভয় পক্ষ থেকে আবেদনও করা হয়। সর্বশেষ ৬ এপ্রিল প্রদীপের বাড়িতে শতাধিক মানুষের উপস্থিতিতে বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি।
অবশেষে দীর্ঘ ৪৫ দিন অবস্থানের পর বিয়ে না হওয়ায় ৭ এপ্রিল বালাগঞ্জ থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন জলি। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত প্রদীপ রায়কে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই বিনয় ভুষণ চক্রবর্তী জানান, ভুক্তভোগীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ভুক্তভোগী জলি রানী বিশ্বাস জানান, অর্থের বিনিময়ে বিষয়টি মীমাংসার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।
জৈন্তা বার্তা / ওয়াদুদ




