ইসিএর বাইরে সীমিত পরিসরে পাথর উত্তোলনের চিন্তায় সরকার
রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ১০:৫৪ PM

পরিবেশ সুরক্ষায় কঠোর নজরদারির দাবি

ইসিএর বাইরে সীমিত পরিসরে পাথর উত্তোলনের চিন্তায় সরকার

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৭/০৫/২০২৬ ০৯:১০:৫৪ PM

ইসিএর বাইরে সীমিত পরিসরে পাথর উত্তোলনের চিন্তায় সরকার

সংগৃহিত


দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর সিলেট ও সুনামগঞ্জের পাথর কোয়ারিগুলো পুনরায় চালুর বিষয়ে নতুন করে ভাবছে সরকার। পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ও বিধিমালা মেনে ইকোলজিক্যালি ক্রিটিক্যাল এরিয়া (ইসিএ) ঘোষণার বাইরে থাকা কিছু কোয়ারিতে সীমিত আকারে পাথর উত্তোলনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে বৈজ্ঞানিক গবেষণার মাধ্যমে নির্ধারণ করতে হবে ভূগর্ভস্থ কোন স্তর পর্যন্ত পাথর উত্তোলন নিরাপদ। পাশাপাশি পুরো কার্যক্রমে সরকারের কঠোর নজরদারি নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

পরিবেশ ধ্বংসের অভিযোগে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে সিলেট বিভাগের সব পাথর কোয়ারিতে উত্তোলন কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় সরকার। পরে পরিবেশবাদীদের করা রিটের পর উচ্চ আদালতও এসব কোয়ারি থেকে পাথর উত্তোলনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।

তবে কোয়ারিগুলো বন্ধ থাকায় স্থানীয় ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও সংশ্লিষ্ট মানুষের জীবিকা সংকটে পড়ে। এ প্রেক্ষাপটে সম্প্রতি সরকার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা শুরু করেছে। ঢাকায় অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে পরিবেশগত ঝুঁকি এড়িয়ে কোথায় সীমিত পরিসরে পাথর উত্তোলন করা যেতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে একটি সমন্বিত জরিপ পরিচালনার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, পরিবেশ ও আইনি বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে যাচাই-বাছাই শেষে সরকার এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

তবে পরিবেশবাদীদের অভিযোগ, কাগজে-কলমে কোয়ারি বন্ধ থাকলেও বিভিন্ন কৌশলে এতদিন পাথর উত্তোলন অব্যাহত ছিল। সরকারিভাবে কোয়ারি চালুর সুযোগে আবারও লুটপাট ও অনিয়ম বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।

পরিবেশবাদী সংগঠন ‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)’র নেতা আব্দুল করিম চৌধুরী কিম বলেন, পরিবেশের ক্ষতি এড়িয়ে এবং কঠোর মনিটরিং নিশ্চিত করেই যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে হবে। অন্যথায় অতীতের অনিয়ম ফের ফিরে আসতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পাথর উত্তোলনের সীমা নির্ধারণ জরুরি। ড. জহির বিন আলম বলেন, ভূগর্ভের নির্দিষ্ট স্তরের নিচে পাথর উত্তোলন করলে দীর্ঘমেয়াদে জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই নিরাপদ সীমা নির্ধারণে গবেষণা এবং পুরো কার্যক্রমে সরকারের কঠোর তদারকি প্রয়োজন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সিলেট বিভাগের সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় অন্তত ১৩টি পাথর কোয়ারি রয়েছে। এর মধ্যে সিলেটের ৮টি এবং সুনামগঞ্জের একটি কোয়ারি বর্তমানে বন্ধ রয়েছে।

জৈন্তা বার্তা /ওয়াদুদ