সংগৃহিত
সিলেট প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি ও দৈনিক শুভ প্রতিদিনের নির্বাহী সম্পাদক ফয়সল আলম চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আচরণে অসন্তোষ প্রকাশ করে ইবনে সিনা হাসপাতালের সেবা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ ঘোষণা দেন।
স্ট্যাটাসে ফয়সল আলম জানান, দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক অসুস্থতায় ভোগার পর গত ১৭ মে তিনি ইবনে সিনা হাসপাতালের রিকাবীবাজার শাখায় নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. আওলাদ হোসেনের শরণাপন্ন হন। চিকিৎসক তাকে কয়েকটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পরামর্শ দেন এবং রিপোর্ট পাওয়ার আগেই ওষুধ সেবন শুরু করতে বলেন।
তার দাবি, ওষুধ সেবনের তিন দিনের মধ্যে ডান হাতে কাঁপুনি, হাঁটাচলায় সমস্যা এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে অস্বাভাবিক কম্পন শুরু হয়। পরে তিনি ওষুধ সেবন বন্ধ করে দেন। শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হওয়ার পর পরীক্ষার রিপোর্ট নিয়ে চিকিৎসকের সঙ্গে দেখা করতে গেলে তিনি কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা ও আচরণ পাননি বলে অভিযোগ করেন।
ফয়সল আলমের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার চিকিৎসকের চেম্বারে গিয়ে নিজের শারীরিক জটিলতার বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে চাইলে তাকে নতুন করে টিকিট নিয়ে আসতে বলা হয়। তিনি অভিযোগ করেন, চিকিৎসক তার বক্তব্য শোনার আগ্রহ দেখাননি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি চেম্বার ত্যাগ করেন।
পরে হাসপাতালের কাস্টমার কেয়ার বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বললেও অভিযোগের বিষয়ে সন্তোষজনক সমাধান পাননি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
স্ট্যাটাসে ফয়সল আলম আরও জানান, তাদের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ইবনে সিনা হাসপাতালের কর্পোরেট চুক্তি রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতার পর তিনি ব্যক্তিগতভাবে হাসপাতালটির সব ধরনের সেবা বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং নিজের কর্পোরেট কার্ড প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে হাসপাতালের সঙ্গে চুক্তির বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান।
এদিকে তার স্ট্যাটাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই তার প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেছেন।
সিলেটের ডাক পত্রিকার সিনিয়র সাংবাদিক কাওসার চৌধুরী এক মন্তব্যে চিকিৎসকের আচরণের সমালোচনা করেন। অপরদিকে দৈনিক জৈন্তা বার্তার সম্পাদক ফারুক আহমদ বলেন, রোগীরা চিকিৎসকের কাছ থেকে শুধু ওষুধ নয়, মানবিক আচরণও প্রত্যাশা করেন। তিনি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আহ্বান জানান।
তবে অভিযোগের বিষয়ে ডা. আওলাদ হোসেন বা ইবনে সিনা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে হাসপাতালের কাস্টমার কেয়ার বিভাগের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। এ জন্য কাস্টমার কেয়ারের ০১৯২৫-৬১৬৭৭৮ ও ০১৯৩৮-৮৬৫২৫৩ নম্বরে বারবার ফোন করা হলেও সংযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি। প্রতিবারই ফোনে 'নম্বরটিতে সংযোগ প্রদান করা সম্ভব হচ্ছে না' মর্মে স্বয়ংক্রিয় বার্তা শোনা যায়। ফলে এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।
ফয়সল আলমের ফেসবুক পোস্ট (হুবহু):
শরীরটা বেশ ক মাস থেকে ভালো যাচ্ছিল না। ‘কষ্টমষ্ট’ করে ইবনে সিনা হাসপাতালের চিকিৎসক (নিউরো মেডিসিন) জনাব আওলাদ হোসেন সাহেবের স্মরণাপন্ন হলাম। যথযথ নিয়ম মেনে টিকেট করে ফি দিয়ে গত ১৭ মে রিকাবীবাজার শাখার পাঁচতলায় তার চেম্বারে যাই। তিনি সকালে রাগীব রাবেয়ায়, বেলা ২ টা থেকে ৫ টা পর্যন্ত ইবনে সিনার রিকাবীবাজার শাখায় এবং বিকেল ৫ টার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ইবনে সিনার সোবহানীঘাট ব্রাঞ্চে রোগী দেখেন। বহু কষ্ট করে মহাব্যস্ত ডাক্তার সাহেবকে দেখাই। তিনি দেখেই আমাকে একখানা প্রেসক্রিপশন হাতে ধরিয়ে দেন। পরীক্ষা নিরিক্ষা করার জন্য পাঁচ হাজার টাকার টেস্ট দিলেন। সেগুলো পরীক্ষার জন্য দিয়ে আসি। পরীক্ষার রিপোর্ট পাবার আগেই প্রথম দিনেই ডাক্তার সাহেব বললেন ওষুধ আজ থেকেই খাওয়া শুরু করেন। আমি বুঝে ওষুধ দিয়েছি। পরীক্ষার রিপোর্ট পরে নিয়ে আইসেন।
ডাক্তার সাহেবের কথামতো ওষুধ সেবন শুরু করলাম। ওষুধ খাবার তিনদিন পর থেকেই আমার ডান হাতে কাপন শুরু করে। ঘুম থেকে উঠার সময় প্রতিদিনি হাত কাপে। পরদিন থেকে দুই পা দিয়ে হাঁটতে কষ্ট হয়। শুধুই পেছন দিকে টানে। পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ায় কোমরের অংশে কাপ শুরু হয়। তখন তার ওষুধ বন্ধ করে কিছু সুস্থ হয়ে রিপোর্ট নিয়ে তার কাছে যেতে একটু দেরী হয়ে যায়।
আজ বৃহস্পতিবার স্ত্রী সন্তানদের পিড়াপীড়িতে গেলাম তার চেম্বারে আমার দু:খের কাহিনী শোনাতে।
রুমে ঢুকার আগে আমার শারীরিক অবস্থা দেখে অনেকে আমাকে বারবার বসার অনুরোধ করেন। কিন্তু ডাক্তার সাহেবের চেম্বারে ঢুকে বসতে চাইলে উনি বলেন আপনি বসবেন না। উনাকে (অন্য রোগীকে) বসতে দেন। আপনি এমনিতেই দেরী করে আসছেন। তবু রিপোর্টটা দেখছি। এখানে দাঁড়ান। বললেন আপনার কোনো কথা শুনতে পারবো না। আবার টিকিট করে নিয়ে আসবেন। তখন সব বলতে পারবেন। তখন আমি বললাম আমি যে কারণে আসতে পারিনি, ওষুধগুলো খাবার পর আমার কিছু সমস্যা হয়েছে। প্লিজ আমাকে একটু কনসিডার করেন, কথাগুলো শোনেন। তখন চারজন মহিলার সামনে তিনি বলেন ‘নো চান্স, কোনো কথা নয়’। তখন আমি বললাম আমার কাগজগুলো দিয়ে দেন, আপনার মতো অমানবিক চিকিৎসকের কাছে আমার চিকিৎসা করানোর কোনো দরকার নেই। তখন সেখানে থাকা আমার পরিচিতি কিছু লোক আমাকে নিয়ে আবার চেম্বারে যেতে চান। আমি না করে বেরিয়ে আসি। তখন সেখানকার পরিবেশ দেখে দু তলা থেকে কাস্টমার কেয়ারের একজন ভদ্রলোক এসে আমাকে ধরাধরি করে তার রুমে নিয়ে যান। আমিও তার সঙ্গে যাই। কারণ কিছু লোক তখন উত্তেজিত হয়ে পড়েছিলেন। দেখলাম আমার মতো নিরীহ মানুষ এখানে হট্টগোল করে লাভ নেই। যারা আসছেন দূর দূরান্ত থেকে তার সমস্যা হয়ে যেতে পারে।
কাস্টমার কেয়ার অফিসের কর্তা বললেন আমরা আপনাকে চিনেত পারছি। হান্নান সাব এই শাখার চেয়ারম্যান। উনার সঙ্গে একটু কথা বলেন। কোন হান্নান সাহেব জানতে চাইলে বলেন অধ্যক্ষ আব্দুল হান্নান। অর্থাৎ আল হামরার এমডি। ভরসা পেলাম। তাদের অফিসের কর্তার ফোন থেকে কল করে বললেন কথা বলতে। আমি কথা বললাম। উনি তেমন আগ্রহ না দেখিয়ে তার ডাকাতের পক্ষেই অবস্থান নিয়ে বললেন সবর করি লাউকা। আমি বেশী কথা না বাড়িয়ে ফোন রেখে দেই। এই হান্নান সাব জালালাবাদ পত্রিকার এমডি ছিলেন। তখন আমি সেখানে কাজ করতাম। ভরসা ছিলো উনি ন্যায় বিচার করবেন। শান্তনা দেবেন। কী ঘটেছে শুনবেন, জানবেন। ‘সবর’ করার কথা বলায় মনে হলো উনার স্ত্রী এখন এমপি। তাই সবর করে নেয়াই ভালো। যার বউ এমপি তার কথায়তো সবর করতেই হবে। আর এই ডাক্তার টাকার পিশাচ। তাই তার কাছে মানবতার মুল্য না থাকারই কথা। আমাদের মতো শত রোগীর অভিশাপের টাকায় তাদের সংসার চলে। এটাতো স্বাভাবিক ঘটনা তাদের কাছে।
বি:দ্র
আমাদের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ইবনে সিনার একটা কর্পোরেট চুক্তি রয়েছে। সে কারণে মাঝে মধ্যে সেবা পেয়েছি, এজন্য কৃতজ্ঞতা। আজ ঘোষণা দিয়ে সেখান থেকে আমার কার্ড প্রত্যাহার করলাম। সেই কার্ড ফেরতও দিয়ে দিবো। ইবনে সিনার সেবা বর্জনের ঘোষণা দিলাম। আশা করবো আমার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানও তাদের সঙ্গে এই চুক্তি বাতিল করবে। কারণ যে প্রতিষ্ঠানে অমানবিক মানুষদের অবস্থান তাদের সঙ্গে মানবিক মানুষদের প্রতিষ্ঠানের কোনো কর্পোরেট চুক্তি থাকতে পারে না। চলতে পারে না।
সুস্থতা-অসুস্থতা আল্লাহর নেয়ামত। আল্লাহ শিফাদানকারী। আমি আল্লাহর হাওলা হয়ে গেলাম।
জৈন্তা বর্তা / ওয়াদুদ




