এআই দিয়ে করা
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ধর্মঘর সাউথ কাশিমনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে বেত্রাঘাত করে আহত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১০ জুন বিদ্যালয়ের ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক মো. ইয়াছিন আরাফাত অষ্টম শ্রেণির ছাত্র মো. মাজহারুল ইসলামকে শাস্তি দেওয়ার সময় মারধর করেন। স্বজনদের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের তৃতীয় তলা থেকে নিচে নামানোর সময় ওই শিক্ষক তাকে বেত দিয়ে আঘাত করেন। এতে তার কান ও পিঠে আঘাত লাগে এবং রক্তপাতের ঘটনাও ঘটে। আহত শিক্ষার্থী মাজহারুল ইসলাম উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের হিরণ মিয়ার ছেলে।
এ ঘটনায় কয়েকজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষক এর আগেও শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কঠোর আচরণ করেছেন। কখনো কখনো অশালীন ভাষা ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তাদের দাবি, এর আগে মালঞ্চপুর গ্রামের রুমেল নামের আরেক শিক্ষার্থীকে একইভাবে মারধরের ঘটনা ঘটেছিল। ওই ঘটনার পর বিদ্যালয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং পরে ওই শিক্ষার্থী বিদ্যালয় ছেড়ে চলে যায় বলে জানা গেছে।
স্থানীয় অভিভাবকরা জানান, কোনো শিক্ষার্থী ভুল করলে শারীরিক শাস্তি দেওয়া উচিত নয়। বরং বিষয়টি অভিভাবকদের জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের আচরণ শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলেও তারা মন্তব্য করেন।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিল্লর আলী বলেন, ‘ঘটনার বিষয়ে আমরা অবগত আছি। আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আগামী রবিবার বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের নিয়ে বৈঠক করে বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে এবং প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক মো. ইয়াছিন আরাফাত বলেন, ‘তুচ্ছ একটি বিষয় নিয়ে ওই শিক্ষার্থী আমাকে গালাগালি করে এবং ধাক্কা দেয়। এতে আমি মেজাজ হারিয়ে তাকে মারধর করেছি।’
অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহল ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




