ছবি:সংগৃহীত
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের রাজনীতি করা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র রাজনীতি থাকতে পারে, তবে শিক্ষক রাজনীতি থাকা উচিত নয়। শিক্ষকদের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি থাকতে পারে, কিন্তু তাদের সক্রিয় রাজনীতিতে জড়ানো ঠিক নয়।
শুক্রবার (১২ জুন) বিকেলে সিলেট নগরীর একটি অভিজাত হোটেলে ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই, সিলেট বিভাগ আয়োজিত অ্যালামনাই সভা ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এমপি এমরান আহমদ বলেন, ছাত্র রাজনীতি না থাকলে নেতৃত্ব তৈরি হবে না। তবে সেটি হতে হবে নিয়মতান্ত্রিক ও গঠনমূলক ছাত্র রাজনীতি। অনেক সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থিতিশীলতার পেছনে শিক্ষকদেরও ভূমিকা থাকে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় পার হলেও আমরা এখনো জাতি হিসেবে বিভক্ত। দেশের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। মতভেদ ও আলোচনা থাকবে, তবে জাতীয় স্বার্থে ঐক্যের বিকল্প নেই। ঐক্যবদ্ধ থাকলে কোনো অপশক্তি দেশের অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না।
সংসদে সরকার ও বিরোধী দলের পারস্পরিক সম্মানের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানকে সম্মানজনক ভাষায় সম্বোধন করেন এবং বিরোধীদলীয় নেতাও প্রধানমন্ত্রীকে সম্মান দিয়ে কথা বলেন। জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় সরকার ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটির কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে যেকোনো সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব।
ঘোষিত বাজেট প্রসঙ্গে এমপি এমরান আহমদ বলেন, দেশের ইতিহাসে এবার শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষাকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি বলেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাতজন অ্যালামনাই বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন, যা গর্বের বিষয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে সিলেট-৫ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আবুল হাসান বলেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েটরা মেধা ও যোগ্যতার মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সুনাম অর্জন করছেন। সাতজন অ্যালামনাইয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পাওয়াই তার প্রমাণ। ইবিয়ানদের কাছ থেকে যুব ও ছাত্র সমাজের অনেক কিছু শেখার আছে।
তিনি নবনিযুক্ত উপাচার্যদের উদ্দেশে বলেন, তাদের যোগ্য নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আরও এগিয়ে যাবে-এটাই প্রত্যাশা।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ইবি অ্যালামনাই ও সিলেট সাইবার ট্রাইব্যুনালের সিনিয়র জেলা জজ ফেরদৌস আরা, বরিশালের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোহা. রকিবুল ইসলাম, সিলেট প্রেসক্লাব সভাপতি মুকতাবিস-উন-নূরসহ অনেকে।
সিলেট প্রেসক্লাব সভাপতি মুকতাবিস-উন-নূর বলেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় দেশকে নৈতিকতা ও মূল্যবোধসম্পন্ন অনেক গুণী মানুষ উপহার দিয়েছে। বিচারক, প্রশাসক ও শিক্ষকসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই সিলেট বিভাগের সভাপতি ও সিলেট ল’ কলেজের অধ্যক্ষ অ্যাডভোকেট সৈয়দ মহসিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সুনামগঞ্জের চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাবিবুর রহমান চৌধুরী, ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই সিলেট বিভাগের সদস্য ড. নূরুল ইসলাম বাবুলসহ ইবিয়ানরা।
অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সংগঠনের সেক্রেটারি মো. মঈনুল হক ও সুনামগঞ্জের মেরুয়াখলা কামিল মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক নাহরিন খন্দকার।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




