ছবি:সংগৃহীত
জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং নাগরিকবান্ধব সেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সিসিকের স্বাস্থ্য শাখার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব নির্দেশনা দেন। সভায় প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকারসহ সিসিকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ‘জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন সনদ নাগরিকের মৌলিক অধিকার। এ সেবা নিতে এসে কোনো নাগরিক যেন হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। সরকার নির্ধারিত ফি অনুযায়ী দ্রুত, সহজ ও স্বচ্ছভাবে সেবা নিশ্চিত করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে সদাচরণ করতে হবে। কোনো ধরনের অনিয়ম বা অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নাগরিকসেবাকে আরও সহজ, স্বচ্ছ ও সময়োপযোগী করাই আমাদের লক্ষ্য।’
সভায় প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন ও বিধিমালার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি জানান, ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সীদের জন্ম নিবন্ধনের আবেদন নিজেকেই করতে হবে। আর ১৮ বছরের কম বয়সীদের ক্ষেত্রে আইনানুগ অভিভাবক আবেদন করবেন। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আবেদনকারীকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে আবেদন জমা দিতে হবে।
তিনি জানান, পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্ম নিবন্ধনের জন্য সরকার নির্ধারিত ফি ২৫ টাকা এবং পাঁচ বছরের বেশি বয়সীদের জন্য ৫০ টাকা। জন্ম নিবন্ধন সংশোধনের ফি ১০০ টাকা।
ডা. জাহিদুল ইসলাম আরও বলেন, প্রবাসীদের জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের আবেদন আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে করা উচিত। তবে দেশে অবস্থানরত প্রবাসীরা প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র দাখিল করলে তা বিবেচনা করা হবে। মৃত্যুনিবন্ধনের ক্ষেত্রে আইনসম্মত তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতেই সনদ প্রদান করা হবে।
তিনি জানান, সিলেট সিটি করপোরেশন এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা অথবা সিসিক এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ব্যক্তিরাই সিটি করপোরেশন থেকে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের সনদ পাওয়ার জন্য যোগ্য বিবেচিত হবেন। এছাড়া পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্ম নিবন্ধনের সময় টিকাকার্ড প্রদর্শন বাধ্যতামূলক। সিসিকের আঞ্চলিক কার্যালয়ের আওতাধীন ওয়ার্ডের বাসিন্দারা নিজ নিজ আঞ্চলিক কার্যালয় থেকেই এ সেবার জন্য আবেদন করতে পারবেন।
সভায় সিসিকের সচিব মো. আশিক নূর, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা বিশ্বজিত দেব, প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা পদ্মাসন সিংহ, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন চন্দ্র দাশ ও নূসরাত লায়লা নীরা, এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ একলিম আবদীনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




