ছবি:সংগৃহীত
বিশ্ব হেড-নেক ক্যান্সার ডে-২০২৬ উপলক্ষে সিলেটে র্যালি ও সচেতনতামূলক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই) এনজেডএল হাসপাতাল ও ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে নগরীর কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ (কেমুসাস) মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জান্নাতুল নাজনীন আশা।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন এনজেডএল হাসপাতাল ও ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রেজাউল করিম তালুকদার। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন এনজেডএল গর্বিত মা-বাবা সম্মাননার সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আব্দুল মুকিত অপি (পিপিএম)।
হেড-নেক ক্যান্সারের বর্তমান পরিস্থিতি, ঝুঁকি ও প্রতিরোধ নিয়ে তথ্যভিত্তিক আলোচনা উপস্থাপন করেন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রেডিওথেরাপি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. সরদার বনীউল আহমেদ। এছাড়া বক্তব্য দেন নির্ঝর এডুকেশনের সিইও সিরাজুম মুনীর নির্ঝর, কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের সাধারণ সম্পাদক সেলিম আওয়াল এবং অ্যানেসথেসিয়া বিশেষজ্ঞ ডা. হোসাইন আহমেদ রুবেল।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নিজাম উদ্দিন। সভাপতিত্ব করেন এনজেডএল হাসপাতাল ও ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ডা. নূরুল হুদা নাঈম। বিশেষ অতিথি ছিলেন লিডিং ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তাজ উদ্দিন এবং মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জহিরুল হক।
বক্তারা বলেন, হেড-নেক ক্যান্সার বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য সমস্যা। ধূমপান, তামাক ও তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার, জর্দা-গুল সেবন, সুপারি চিবানো, মুখগহ্বরের অপরিচ্ছন্নতা এবং কিছু ভাইরাসজনিত সংক্রমণ এ রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। তবে সচেতনতা বৃদ্ধি, ঝুঁকিপূর্ণ অভ্যাস পরিহার এবং প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তের মাধ্যমে এ ক্যান্সারের ঝুঁকি ও মৃত্যুহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।
আলোচনা সভায় হেড-নেক ক্যান্সারের কারণ, লক্ষণ, প্রতিরোধ, আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি এবং রোগীদের পুনর্বাসন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বিশেষজ্ঞরা জানান, মুখে দীর্ঘদিনের ঘা, কণ্ঠস্বর পরিবর্তন, গিলতে সমস্যা, ঘাড়ে গুটি বা দীর্ঘস্থায়ী গলাব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিলে তা অবহেলা না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সভাপতির বক্তব্যে ডা. নূরুল হুদা নাঈম বলেন, সচেতনতাই হেড-নেক ক্যান্সার প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর অস্ত্র। রোগের প্রাথমিক লক্ষণ সম্পর্কে মানুষকে জানানো এবং সময়মতো চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে অনেক ক্ষেত্রেই রোগ নিয়ন্ত্রণ ও সফল চিকিৎসা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে চিকিৎসক, শিক্ষাবিদ, সমাজসেবী, ক্যান্সারজয়ী রোগী, গণমাধ্যমকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সচেতন নাগরিক অংশ নেন। বক্তারা ক্যান্সারমুক্ত, সুস্থ ও সচেতন সমাজ গড়ে তুলতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




