সিলেটের শিক্ষিকা বিউটি পালের পাশে লেখক-শিক্ষক-সাংবাদিকরা
বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:২৭ AM

সিলেটের শিক্ষিকা বিউটি পালের পাশে লেখক-শিক্ষক-সাংবাদিকরা

জৈন্তা বার্তা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৬/০৭/২০২৬ ০১:৩৩:১৫ PM

সিলেটের শিক্ষিকা বিউটি পালের পাশে লেখক-শিক্ষক-সাংবাদিকরা


সিলেটে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকার গানের ভিডিও নিয়ে সারাদেশে তোলপাড় চলছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পক্ষে-বিপক্ষে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন নেটিজেনরা।

ভিডিওতে অশ্লীলতা ও আপত্তিকর অঙ্গভঙ্গির অভিযোগ তুলে একটি পক্ষ। সচেতন মহল নামে ওই পক্ষ আলোচনার সূত্রপাত করলেও সারাদেশের শিক্ষক, লেখক, সাংবাদিক এবার দাঁড়িয়েছেন ওই শিক্ষকের পাশে।

সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পিটাইটিকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা বিউটি পাল বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরের দিকে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে কয়েক সেকেন্ডের একটি রিল ভিডিও পোস্ট করেন।

ভিডিওতে দেখা যায়, বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শাড়ি পরা অবস্থায়য় হাঁটছেন প্রধান শিক্ষিকা বিউটি পাল। ভিডিওতে ‘আজ কেন মন উদাসী হয়ে/ দূর অজানায় চায় হারাতে’ গানটি ব্যবহার করা হয়েছে।

ভিডিওটি প্রকাশের পর কথিত সাংবাদিক ও সচেতন মহল তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখান। তারা সামাজিক যোগাযোগ ও সংবাদ মাধ্যমে ভিডিও প্রচার নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন। তবে, সময় নেননি তার পক্ষের লোকজনও।

শিশু সাহিত্যিক হুমায়ুন কবীর ঢালী লেখেন, ‘একজন শিক্ষকও রক্ত-মাংসের মানুষ। তারও আনন্দ উদযাপন করার অধিকার আছে, তেমনি কষ্টে মন খারাপ হওয়ার অধিকারও তার রয়েছে। শিক্ষক মানেই কোনো নিরাসক্ত যন্ত্র নন, সমাজ ও পরিস্থিতির প্রভাবে তার মনেও নানা অনুভূতির জন্ম হয়। যা অশ্লীল, তা শুধু শিক্ষকের ক্ষেত্রে নয়; সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রেও অশ্লীল। একইভাবে, যা শ্লীল, মার্জিত ও সুন্দর তা নির্দিষ্ট কোনো পেশার গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তা সকলের জন্য প্রযোজ্য। শিক্ষক সমাজের পথপ্রদর্শক হলেও দিনশেষে তিনিও সমাজেরই একজন মানুষ।’

সাংবাদিক ঝর্না মনি লেখেন, ‘বিউটি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতকোত্তর। ওরা ছোটবেলায় মাকে হারিয়েছে। আমরা এক সাথে বড় হয়েছি। আমাদের বাড়ির পুকুরে একসাথে সাঁতার কাটতাম। সন্ধ্যাবেলায় ওদের অংক শেখাতাম। চুল বেনি করে দিতাম। একসাথে গান গাইতাম। ধামাইল নাচ করতাম। আমরা স্কুলের প্রতিটি অনুষ্ঠানে বিজয় দিবসই হোক, আর একুশে ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবসই হোক নাচ, গান, আবৃত্তি, উপস্থিত বক্তৃতা হতোই।’

এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক বিউটি পাল বলেন, ‘এটা আমার ব্যক্তিগত ব্যাপার। মানুষের ব্যক্তিগত লাইফ থাকতে পারে না? একজন শিক্ষক যখন একটি জেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক নির্বাচিত হন, তখন নিশ্চয়ই ধরে নিতে হয় তিনি তার যোগ্যতা, দক্ষতা, নিষ্ঠা ও কর্মের মাধ্যমে এই সম্মান অর্জন করেছেন। তিনি একজন শিক্ষক, কিন্তু তার আগে তিনি একজন মানুষ, একজন নারী। তারও একটি মন আছে, আনন্দ আছে, ভালো লাগা আছে, নিজের মতো করে বাঁচার অধিকার আছে।’

উল্লেখ্য, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পিটাইটিকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিউটি পাল সিলেট জেলার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন।

জৈন্তাবার্তা/আরআর



শীর্ষ সংবাদ:

শিক্ষার্থীদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে উঠতে হবে- বাণিজ্যমন্ত্রী
ঝিরির পানিতে পরিত্যক্ত অবস্থায় মিলল কাঠের বাটবিহীন ৭.৬২ মি.মি. রাইফেল
দূষণমুক্ত নগর গড়তে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন- সিসিক প্রশাসক
মাধবপুরে ৫ কোটি ২৬ লাখ টাকার আইসিটি কেন্দ্র ৮ বছরেও শেষ হয়নি
হাম ও উপসর্গে সিলেটে মৃ'ত্যু বেড়ে ১৮০
জগন্নাথপুরে মৎস্য কর্মকর্তার দম্ভোক্তি: “আমি কি আমার মেয়ের বিয়ে লাগাইসি যে সাংবাদিকদের বলতে হবে!”
চার বছরেও চালু হয়নি ওজন পরিমাপক যন্ত্র, ঝুঁকিতে রানীগঞ্জ সেতু-সড়ক
আশ্বাসেও কাটেনি অ/চলাবস্থা, অনড় সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীরা
প্রাথমিক শিক্ষা শিক্ষার সব স্তরের শিকড়- সিসিক প্রশাসক
শিক্ষাকে ধ্বংস করা হয়েছে, পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে : এমপি নাসির উদ্দীন আহমেদ