গোলাপগঞ্জে অ*চল সড়কবাতি, রাত হলেই বাড়ে দু*র্ঘটনা ও অ*পরাধের শঙ্কা
বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৪৫ AM

গোলাপগঞ্জে অ*চল সড়কবাতি, রাত হলেই বাড়ে দু*র্ঘটনা ও অ*পরাধের শঙ্কা

মো. বদরুল আলম, গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২৮/০৭/২০২৬ ০২:৫৮:১১ PM

গোলাপগঞ্জে অ*চল সড়কবাতি, রাত হলেই বাড়ে দু*র্ঘটনা ও অ*পরাধের শঙ্কা

ছবি:সংগৃহীত


সড়কের দুই পাশে সারি সারি বৈদ্যুতিক খুঁটি। কোথাও ঝুলছে অচল সড়কবাতি, আবার কোথাও খুঁটি থাকলেও বাতিই নেই। সন্ধ্যা নামলেই পুরো সড়ক ডুবে যায় অন্ধকারে। এমন চিত্র এখন সিলেটের গোলাপগঞ্জ পৌরসভার বিভিন্ন এলাকার।

সরকারি অর্থ ব্যয়ে স্থাপন করা সড়কবাতিগুলো (স্ট্রিট লাইট) দীর্ঘদিন ধরে অচল থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন পথচারী, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও যানবাহনচালকেরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং তদারকির দুর্বলতার কারণে অধিকাংশ সড়কবাতি অকেজো হয়ে পড়ে আছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, পৌরসভার বিভিন্ন সড়কে খুঁটি ও সড়কবাতি স্থাপন করা হলেও অনেক বাতি জ্বলছে না। কোথাও বাতি নষ্ট হয়ে মাসের পর মাস পড়ে আছে, আবার কোথাও খুঁটি থাকলেও বাতির কোনো অস্তিত্ব নেই। ফলে সন্ধ্যার পর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো অন্ধকারে ঢেকে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দা আবুল হাসান বলেন, সড়কবাতি স্থাপনের মূল উদ্দেশ্য ছিল সড়ককে নিরাপদ করা। কিন্তু বাস্তবে রাত হলেই পুরো এলাকা অন্ধকারে ডুবে যায়। এতে যেমন দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে, তেমনি চুরি-ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধের আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, পর্যাপ্ত আলোর অভাবে নারী, শিশু ও বয়স্কদের রাতে চলাচল অনিরাপদ হয়ে উঠেছে। জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হলেও আতঙ্ক নিয়ে চলাচল করতে হয়।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সন্ধ্যার পর অন্ধকারের কারণে অনেক ক্রেতা বাজারমুখী হন না। এতে ব্যবসা-বাণিজ্যেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক কওছার আহমদ বলেন, সড়কবাতি অচল থাকায় রাতে গাড়ি চালাতে নানা সমস্যায় পড়তে হয়। অন্ধকারে পথচারী বা অন্য যানবাহন সময়মতো দেখা যায় না। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেড়ে যায়।

পৌরবাসীর প্রশ্ন, সরকারি অর্থ ব্যয়ে স্থাপন করা সড়কবাতিগুলো যদি কার্যকরই না থাকে, তবে এ প্রকল্পের সুফল কোথায়? তাঁদের অভিযোগ, প্রকল্প বাস্তবায়নের পর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও তদারকির অভাবেই অধিকাংশ বাতি অচল হয়ে পড়েছে।

তাঁদের দাবি, গোলাপগঞ্জ পৌরসভার সব সড়কের অচল সড়কবাতি দ্রুত মেরামত করে আলোকায়নের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি রক্ষণাবেক্ষণে অবহেলা বা দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগ থাকলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তাঁরা।

এ বিষয়ে গোলাপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক রফিকুল ইসলাম বলেন, পৌরসভার সড়কবাতিগুলো নিয়মিত ব্যবহারের কারণে প্রায় প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও ত্রুটি দেখা দেয়। তবে মেরামতের কাজ ধারাবাহিকভাবে চলছে। কোনো বাতি নষ্ট হওয়ার খবর পাওয়া মাত্রই তা সচল করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

তবে পৌরবাসীর প্রত্যাশা, শুধু আশ্বাস নয়, দ্রুত কার্যকর উদ্যোগের মাধ্যমে অন্ধকারে ডুবে থাকা সড়কগুলো আবার আলোকিত হবে। এতে নিরাপদ হবে গোলাপগঞ্জ পৌরসভার রাতের জনজীবন।

জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ



শীর্ষ সংবাদ:

শিক্ষার্থীদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে উঠতে হবে- বাণিজ্যমন্ত্রী
ঝিরির পানিতে পরিত্যক্ত অবস্থায় মিলল কাঠের বাটবিহীন ৭.৬২ মি.মি. রাইফেল
দূষণমুক্ত নগর গড়তে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন- সিসিক প্রশাসক
মাধবপুরে ৫ কোটি ২৬ লাখ টাকার আইসিটি কেন্দ্র ৮ বছরেও শেষ হয়নি
হাম ও উপসর্গে সিলেটে মৃ'ত্যু বেড়ে ১৮০
জগন্নাথপুরে মৎস্য কর্মকর্তার দম্ভোক্তি: “আমি কি আমার মেয়ের বিয়ে লাগাইসি যে সাংবাদিকদের বলতে হবে!”
চার বছরেও চালু হয়নি ওজন পরিমাপক যন্ত্র, ঝুঁকিতে রানীগঞ্জ সেতু-সড়ক
আশ্বাসেও কাটেনি অ/চলাবস্থা, অনড় সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীরা
প্রাথমিক শিক্ষা শিক্ষার সব স্তরের শিকড়- সিসিক প্রশাসক
শিক্ষাকে ধ্বংস করা হয়েছে, পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে : এমপি নাসির উদ্দীন আহমেদ