সংগৃহীত
গোলাপগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর উদ্যোগে জুলাই আন্দোলনে শহিদ হওয়া সাত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুর ২টায় গোলাপগঞ্জ পৌর অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে দলের কেন্দ্রীয় নেতারা শহিদ পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেন এবং তাদের বিভিন্ন সমস্যা, প্রত্যাশা ও দাবিদাওয়া নিয়ে আলোচনা করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন। এছাড়াও দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মী, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং জুলাই আন্দোলনের সাত শহিদ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে জুলাই আন্দোলনের শহিদদের স্মরণে গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়। পরে শহিদ পরিবারের সদস্যরা আন্দোলনের স্মৃতিচারণ, বর্তমান পরিস্থিতি, বিভিন্ন সমস্যা ও রাষ্ট্রের কাছে তাদের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন। এনসিপির নেতারা মনোযোগ দিয়ে তাদের বক্তব্য শোনেন এবং পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা ও সংহতি প্রকাশ করেন।
মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে সারজিস আলম বলেন, জুলাই আন্দোলনের শহিদদের আত্মত্যাগ কখনো বৃথা যেতে দেওয়া হবে না। তাদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত গণআকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন এবং বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, শহিদ পরিবারের সম্মান ও অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব এবং তাদের ন্যায্য দাবি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্টদের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।সামান্তা শারমিন বলেন, জুলাই আন্দোলনের শহিদরা দেশের জন্য সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ করেছেন। তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো শুধু রাজনৈতিক নয়, এটি নৈতিক দায়িত্বও। তিনি বলেন, শহিদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে হলে ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত করতে হবে।
এদিকে, অনুষ্ঠান শেষে ফেরার পথে এনসিপির গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, গোলাপগঞ্জ থেকে রওনা দেওয়ার পর একদল দুর্বৃত্ত গাড়িবহরকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এতে বহরে থাকা নেতাকর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হামলায় কেউ আহত হয়েছেন কি না বা কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।ঘটনার পর এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট দিয়ে হামলার অভিযোগ তুলে ধরেন।
এবিষয়ে গোলাপগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: ছবেদ আলী বলেন হামলাকারিদের শনাক্তে চেষ্টা চলছে ও আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
জৈন্তাবার্তা/ সুলতানা




