সিলেটের ঐতিহ্য ও পরিচয় ধরে রাখতে সংস্কৃতিচর্চার বিকল্প নেই
শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১২:৫৩ AM

ললিতকলা একাডেমির সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও সনদ বিতরণে সিসিক প্রশাসক

সিলেটের ঐতিহ্য ও পরিচয় ধরে রাখতে সংস্কৃতিচর্চার বিকল্প নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৩০/০৭/২০২৬ ১১:৪৩:৩৫ PM

সিলেটের ঐতিহ্য ও পরিচয় ধরে রাখতে সংস্কৃতিচর্চার বিকল্প নেই

ছবি:সংগৃহীত


সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেছেন, একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের মেধা, সৃজনশীলতা ও ব্যক্তিত্ব বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সিলেটের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও পরিচয় অক্ষুণ্ন রাখতে আগামী প্রজন্মের মধ্যে সংস্কৃতিচর্চা আরও বিস্তৃত করতে হবে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেলে সিলেট শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে সিলেট ললিতকলা একাডেমি আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, সঙ্গীত, নৃত্য ও শিল্পকলা শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়; এগুলো ব্যক্তির সৃজনশীল বিকাশ, মানবিক মূল্যবোধ এবং রুচিবোধ গঠনের গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। অনেকের জন্য শিল্প-সংস্কৃতি একটি সম্ভাবনাময় পেশাও। আর যারা পেশা হিসেবে গ্রহণ করেন না, তাদের জীবনেও সংস্কৃতিচর্চা ইতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং একটি সুন্দর সমাজ গঠনে সহায়তা করে।

তিনি বলেন, সিলেট বরাবরই সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষের জনপদ। এ অঞ্চলের ইতিহাস-ঐতিহ্য পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ধর্মীয় চর্চার পাশাপাশি সাহিত্য, সংগীত ও শিল্পকলারও সমৃদ্ধ ঐতিহ্য রয়েছে। যুগে যুগে অসংখ্য গুণীজন, শিল্পী ও সংস্কৃতিসেবী সিলেটের সাংস্কৃতিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন।

সিসিক প্রশাসক আরও বলেন, দেশভাগের আগে, মুক্তিযুদ্ধের আগে এবং স্বাধীনতার পরও সিলেটের সাংস্কৃতিক অঙ্গন নিজস্ব স্বকীয়তা ধরে রেখেছে। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামসহ উপমহাদেশের বহু খ্যাতিমান সাহিত্যিক, সংগীতশিল্পী ও সংস্কৃতিসেবীর পদচারণায় সমৃদ্ধ এই জনপদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।

তিনি বলেন, বর্তমানে ব্যক্তি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সংস্কৃতিচর্চা এবং শিল্পীদের পৃষ্ঠপোষকতায় এগিয়ে আসছে, যা অত্যন্ত ইতিবাচক। সিলেট ললিতকলা একাডেমির মতো প্রতিষ্ঠান অল্প সময়েই প্রশংসনীয় অগ্রগতি অর্জন করেছে। এ ধরনের উদ্যোগকে ব্যক্তি পর্যায়ের পাশাপাশি সরকারি সহায়তার আওতায় আনাও প্রয়োজন। ভবিষ্যতেও সংস্কৃতির বিকাশে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধক হিসেবে বক্তব্য দেন সিলেটে নিযুক্ত ভারতের সহকারী হাই কমিশনার অনিরুদ্ধ দাশ। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত দুটি পৃথক রাষ্ট্র হলেও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও মূল্যবোধের ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে গভীর মিল রয়েছে। সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মাধ্যমে পারস্পরিক বন্ধুত্ব ও সৌহার্দ্য আরও সুদৃঢ় করা সম্ভব। মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতেও সংস্কৃতিচর্চার ভূমিকা অপরিসীম।

সিলেট ললিতকলা একাডেমির সভাপতি মোহাম্মদ কবির আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন একাডেমির অধ্যক্ষ বিপ্রদাস ভট্টাচার্য। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ভারতের সহকারী হাই কমিশনের দ্বিতীয় সচিব রাজেশ ভাটিয়া এবং সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী হিমাংশু বিশ্বাস, অ্যাডভোকেট বদরুল ইসলাম চৌধুরী, জ্যোতির্ময় সিংহ মজুমদার চন্দন, রানা কুমার সিনহা, আমিনুল ইসলাম চৌধুরী লিটন, আমিরুল ইসলাম চৌধুরী বাবুসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।

সিলেট ললিতকলা একাডেমির শিক্ষার্থী সামিহা সালসাবিল ইকরার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন শেখ মাহজাবিন তারানা স্নেহাসহ শিক্ষার্থীরা। পরে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা প্রশিক্ষণ সম্পন্নকারী শিক্ষার্থীদের হাতে সনদপত্র তুলে দেন।

জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ



শীর্ষ সংবাদ: