সারি-৩ নদীতে অ*বৈধ বালু উত্তোলনের প্রমাণ নেই, জানাল প্রশাসন
রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:৫৮ PM

সারি-৩ নদীতে অ*বৈধ বালু উত্তোলনের প্রমাণ নেই, জানাল প্রশাসন

সাইফুল ইসলাম বাবু, জৈন্তাপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০২/০৮/২০২৬ ০৪:০৯:২৬ PM

সারি-৩ নদীতে অ*বৈধ বালু উত্তোলনের প্রমাণ নেই, জানাল প্রশাসন

সংগৃহীত


জৈন্তাপুর উপজেলার সারি-৩ বালুমহাল থেকে বড় গাং বালুমহালের ইজারাদার কর্তৃক অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শনিবার (১ আগস্ট) বিকেল ৫:৩০ মিনিটে সরেজমিন পরিদর্শন করা হয়েছে। পরিদর্শন শেষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সারি-৩ বালুমহাল থেকে বালু উত্তোলনের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।পরিদর্শন দলে ছিলেন জৈন্তাপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মনিরুল ইসলাম, জকিগঞ্জ ব্যাটালিয়নের (১৯ বিজিবি) সহকারী পরিচালক (এডি) নজরুল ইসলাম এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ। তারা সারি-৩ ও বড় গাং বালুমহাল ঘুরে দেখেন।সরেজমিনে দেখা যায়, সারি-৩ নদীর বালুমহাল থেকে কোনো বালু উত্তোলন করা হচ্ছে না। অপরদিকে বড় গাং বালুমহালের ইজারাদাররা তাদের ইজারাকৃত নির্ধারিত এলাকা থেকে বালু উত্তোলন কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

এ সময়  উপস্থিত কয়েকজনের কাছে সারি-৩ বালুমহালের কোন স্থান থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে জানতে চাইলে তারা জানান, সারি-৩ থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে না। তবে বড় গাং বালুমহালের বালুবাহী নৌযানগুলো সারিঘাটে যাতায়াতের জন্য সারি-৩ নদীপথ ব্যবহার করে।বড় গাং বালুমহালের ইজারাদাররা জানান, তারা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, সিলেট থেকে বৈধভাবে বালুমহাল ইজারা নিয়ে নির্ধারিত এলাকা থেকে বালু উত্তোলন ও পরিবহন করছেন। তাদের দাবি, বড় গাং বালুমহাল থেকে সারিঘাটে পৌঁছাতে সারি-৩ নদীপথই একমাত্র চলাচলের পথ।

ইজারাদারদের ভাষ্য, সারি-৩ বালুমহাল থেকে বালু উত্তোলনের ওপর আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও ওই নদীপথে নৌযান চলাচলের ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। এ বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়ায় তারা জেলা প্রশাসক ও উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ এবং নৌযান চলাচল বিষয়ে লিখিত নির্দেশনা চেয়েছেন। তাদের দাবি, পূর্বেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছিল যে নদীপথে নৌকা চলাচলে কোনো আপত্তি নেই।

এছাড়া ইজারাদার কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করেন, কিছু ব্যক্তি অবৈধ তকমা দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে তাদের কাছে অর্থ দাবি করছেন। বৈধভাবে ইজারা নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করলেও তারা অযৌক্তিক হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলেও দাবি করেন।

পরিদর্শনকালে জকিগঞ্জ ব্যাটালিয়নের (১৯ বিজিবি) সহকারী পরিচালক (এডি) নজরুল ইসলাম বলেন, অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধে বিজিবি সবসময় তৎপর রয়েছে। তিনি জানান, নৌপথে বৈধভাবে বালু পরিবহনে কোনো বাধা নেই। তবে লালাখাল দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় পর্যটন এলাকা হওয়ায় বালুবাহী নৌযান যেন নির্ধারিত সীমানা ব্যবহার করে চলাচল করে এবং পর্যটক ও দর্শনার্থীদের কোনো ধরনের ভোগান্তির সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

জৈন্তাপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, সারি-৩ নদী বালুমহাল থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে উপজেলা প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তিনি জানান, এর আগেও অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি সাংবাদিকদের সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ এবং অবৈধ কার্যক্রম সম্পর্কে তথ্য দিয়ে প্রশাসনকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।

জৈন্তাবার্তা/ সুলতানা