জৈন্তাপুরে সারি নদী থেকে বালু উত্তোলনের প্রমাণ মেলেনি
রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:৪০ PM

বালুমহাল পরিদর্শনে প্রশাসন

জৈন্তাপুরে সারি নদী থেকে বালু উত্তোলনের প্রমাণ মেলেনি

সাইফুল ইসলাম বাবু, জৈন্তাপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ০২/০৮/২০২৬ ০৮:০৬:১৬ PM

জৈন্তাপুরে সারি নদী থেকে বালু উত্তোলনের প্রমাণ মেলেনি

সংগৃহিত


জৈন্তাপুর উপজেলার সারি-৩ বালুমহাল থেকে বড় গাং বালুমহালের ইজারাদারদের অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসন সরেজমিন পরিদর্শন করেছে। পরিদর্শন শেষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সারি-৩ বালুমহাল থেকে বালু উত্তোলনের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

শনিবার (১ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টায় পরিচালিত এ পরিদর্শনে অংশ নেন জৈন্তাপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মনিরুল ইসলাম, জকিগঞ্জ ব্যাটালিয়নের (১৯ বিজিবি) সহকারী পরিচালক (এডি) নজরুল ইসলাম এবং বিভিন্ন ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা। তারা সারি-৩ ও বড় গাং বালুমহাল ঘুরে দেখেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, সারি-৩ বালুমহাল থেকে কোনো ধরনের বালু উত্তোলন হচ্ছে না। অন্যদিকে বড় গাং বালুমহালের ইজারাদাররা তাদের ইজারাকৃত নির্ধারিত এলাকা থেকে বালু উত্তোলন করছেন।

পরিদর্শনের সময় উপস্থিত স্থানীয়দের কাছে সারি-৩ বালুমহাল থেকে বালু উত্তোলনের বিষয়ে জানতে চাইলে তারা জানান, সেখানে কোনো বালু উত্তোলন হচ্ছে না। তবে বড় গাং বালুমহালের বালুবাহী নৌযানগুলো সারিঘাটে যাতায়াতের জন্য সারি-৩ নদীপথ ব্যবহার করে।

বড় গাং বালুমহালের ইজারাদাররা জানান, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, সিলেট থেকে বৈধভাবে ইজারা নিয়ে তারা নির্ধারিত এলাকা থেকে বালু উত্তোলন ও পরিবহন করছেন। তাদের দাবি, বড় গাং বালুমহাল থেকে সারিঘাটে পৌঁছানোর একমাত্র নৌপথ হলো সারি-৩ নদীপথ।

ইজারাদারদের ভাষ্য, সারি-৩ বালুমহাল থেকে বালু উত্তোলনের ওপর আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও ওই নদীপথে নৌযান চলাচলে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। এ বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হওয়ায় তারা জেলা প্রশাসক ও উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ এবং নৌযান চলাচল বিষয়ে লিখিত নির্দেশনা চেয়েছেন। তাদের দাবি, প্রশাসনের পক্ষ থেকেও পূর্বে লিখিতভাবে জানানো হয়েছিল যে, ওই নদীপথে নৌযান চলাচলে কোনো আপত্তি নেই।

এ ছাড়া ইজারাদাররা অভিযোগ করেন, কিছু ব্যক্তি অবৈধ তকমা দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে তাদের কাছে অর্থ দাবি করছেন। বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনা করলেও তারা অযৌক্তিক হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলেও দাবি করেন।

পরিদর্শন শেষে জকিগঞ্জ ব্যাটালিয়নের (১৯ বিজিবি) সহকারী পরিচালক (এডি) নজরুল ইসলাম বলেন, অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধে বিজিবি সবসময় তৎপর রয়েছে। নৌপথে বৈধভাবে বালু পরিবহনে কোনো বাধা নেই। তবে লালাখাল দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় পর্যটন এলাকা হওয়ায় বালুবাহী নৌযান নির্ধারিত সীমানা ব্যবহার করে চলাচল করবে এবং পর্যটক ও দর্শনার্থীদের যেন কোনো ধরনের ভোগান্তি না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

জৈন্তাপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, সারি-৩ বালুমহাল থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে উপজেলা প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে আইনগত ব্যবস্থা নেবে। তিনি জানান, এর আগেও অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ এবং অবৈধ কার্যক্রমের তথ্য দিয়ে প্রশাসনকে সহযোগিতা করার জন্য সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান।

বালু উত্তোলনের প্রমাণ মেলেনি