নগরীর সব জলাশয়কে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে চাই- সিসিক প্রশাসক
বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৫৯ AM

ময়লার স্তূপ থেকে প্রাণ ফিরছে ঘাসিটুলা পুকুরে

নগরীর সব জলাশয়কে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে চাই- সিসিক প্রশাসক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০২/০৮/২০২৬ ১১:৩৭:২৭ PM

নগরীর সব জলাশয়কে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে চাই-  সিসিক প্রশাসক

ছবি:সংগৃহীত


কচুরিপানায় ঢাকা, ময়লার স্তূপে পরিণত হওয়া এবং ধীরে ধীরে অস্তিত্ব হারাতে বসা ঘাসিটুলার ঐতিহাসিক পুকুরটি এবার ফিরে পাচ্ছে নতুন প্রাণ। দীর্ঘদিনের অবহেলায় পরিবেশের জন্য হুমকিতে পরিণত হওয়া এই জলাশয় উদ্ধারে অভিযান শুরু করেছে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)।

রোববার (২ আগস্ট) সকালে নগরীর ১০ নম্বর ওয়ার্ডের ঘাসিটুলা কবরস্থান সংলগ্ন প্রায় ২০০ শতক আয়তনের পুকুরটিতে পরিচ্ছন্নতা ও উদ্ধার কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। কচুরিপানা, আগাছা ও জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা অপসারণের মাধ্যমে জলাশয়টির হারানো সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনার কাজ শুরু হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে অযত্ন-অবহেলায় পড়ে থাকায় পুকুরটির চারপাশ ময়লা-আবর্জনা ও আগাছায় ভরে যায়। দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পাশাপাশি এটি মশার প্রজননক্ষেত্রেও পরিণত হয়। অথচ একসময় শীত মৌসুমে অতিথি পাখির কলকাকলীতে মুখর থাকত পুরো এলাকা।

সিসিক জানিয়েছে, নগরীর পরিত্যক্ত ও দখল-দূষণের শিকার সব জলাশয় পর্যায়ক্রমে উদ্ধার করে পরিবেশবান্ধব ও জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবেই ঘাসিটুলা পুকুর উদ্ধার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

রোববার সকালে উদ্ধার কার্যক্রম পরিদর্শন করেন সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। এ সময় তিনি বলেন, ’একসময় নগরীতে অসংখ্য দিঘি, পুকুর ও জলাশয় ছিল, যা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি মানুষের নানা কাজে ব্যবহৃত হতো। আমরা চাই সব জলাশয়কে যতটা সম্ভব পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে। ইতোমধ্যে আরও একটি পুকুর উদ্ধার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।’


তিনি জানান, উদ্ধারকাজ শেষে পুকুরটির চারপাশে ওয়াকওয়ে ও সুরক্ষা রেলিং নির্মাণ করা হবে। এতে এলাকাবাসী নিরাপদে হাঁটাচলা ও অবসর কাটানোর সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি পরিবেশের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাবে এবং ভবিষ্যতে আবারও অতিথি পাখির আবাসস্থল হিসেবে জলাশয়টি গড়ে উঠবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

জলাশয় সংরক্ষণে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করে সিসিক প্রশাসক বলেন, ‘সরকার বা সিটি করপোরেশনের একার পক্ষে জলাশয় রক্ষা সম্ভব নয়। নিজেদের সম্পদের মতো এই পুকুরের যত্ন নিতে হবে। কেউ যেন এখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। জলাশয় রক্ষা প্রতিটি দায়িত্বশীল নাগরিকের কর্তব্য।’

উদ্ধার কার্যক্রম পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন পরিবেশবাদী সংগঠন 'ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)'-এর সিলেটের আহ্বায়ক ডা. মোস্তফা শাহজামান চৌধুরী বাহার, সিসিকের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শামসুল হক, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লে. কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ একলিম আবদীন, ঘাসিটুলা পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি সাইদুর রহমান বুদুরী, ১০ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাব্বির আহমদসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও এলাকাবাসী।

পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য নগরী গড়ে তুলতে সিসিকের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের আশা, উদ্ধার কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হলে ঘাসিটুলার ঐতিহাসিক পুকুরটি আবারও নগরীর অন্যতম সুন্দর ও প্রাণবন্ত জলাশয়ে পরিণত হবে।


জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ



শীর্ষ সংবাদ:

শিক্ষার্থীদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে উঠতে হবে- বাণিজ্যমন্ত্রী
ঝিরির পানিতে পরিত্যক্ত অবস্থায় মিলল কাঠের বাটবিহীন ৭.৬২ মি.মি. রাইফেল
দূষণমুক্ত নগর গড়তে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন- সিসিক প্রশাসক
মাধবপুরে ৫ কোটি ২৬ লাখ টাকার আইসিটি কেন্দ্র ৮ বছরেও শেষ হয়নি
হাম ও উপসর্গে সিলেটে মৃ'ত্যু বেড়ে ১৮০
জগন্নাথপুরে মৎস্য কর্মকর্তার দম্ভোক্তি: “আমি কি আমার মেয়ের বিয়ে লাগাইসি যে সাংবাদিকদের বলতে হবে!”
চার বছরেও চালু হয়নি ওজন পরিমাপক যন্ত্র, ঝুঁকিতে রানীগঞ্জ সেতু-সড়ক
আশ্বাসেও কাটেনি অ/চলাবস্থা, অনড় সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীরা
প্রাথমিক শিক্ষা শিক্ষার সব স্তরের শিকড়- সিসিক প্রশাসক
শিক্ষাকে ধ্বংস করা হয়েছে, পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে : এমপি নাসির উদ্দীন আহমেদ