ছবি:সংগৃহীত
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার মীরপুর ইউনিয়নের উত্তর গড়গড়ি গ্রামে এক ব্যক্তি হত্যার ঘটনার পর প্রতিপক্ষের অন্তত পাঁচটি বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের দাবি, বসতঘর ও খামার থেকে গবাদিপশু, স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র লুট করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে নিহতের পরিবার। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি মামলা ও অভিযোগ দায়ের হয়েছে।
সোমবার (৩ আগস্ট) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উত্তর গড়গড়ি গ্রামের পিয়ারা বেগম, হিরন মিয়া, রাজিক মিয়া, আশিক মিয়া ও আতিক মিয়ার বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুরের চিহ্ন রয়েছে। অনেক ঘরের দরজা-জানালা ভাঙা, আসবাবপত্র তছনছ অবস্থায় পড়ে আছে। কয়েকটি ঘর থেকে পচে যাওয়া মুরগির দুর্গন্ধও ছড়াচ্ছিল। ঘটনার পর থেকে পরিবারের পুরুষ সদস্যরা আত্মগোপনে থাকায় নারী ও শিশুরা আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে সুনামগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ও জগন্নাথপুর থানায় চারটি পৃথক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে ফাতেমা বেগমের দায়ের করা সিআর মামলা (নং-১৮৮/২০২৬)-তে স্থানীয় ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ১২ জুলাই সংঘবদ্ধভাবে ঘরে ঢুকে দরজা-জানালা, ফ্রিজ ও অন্যান্য আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়। এ সময় নগদ ২ লাখ ৩৫ হাজার টাকা, প্রায় দেড় ভরি স্বর্ণালংকার, জমির দলিলসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করা হয়। পাশাপাশি গোয়ালঘর থেকে ১২টি গরু, ১৭টি ছাগল, ৭টি ভেড়া এবং বিপুল পরিমাণ হাঁস-মুরগি নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
ক্ষতিগ্রস্ত পিয়ারা বেগম দাবি করেন, তাদের খামার থেকে ১২টি গরু, প্রায় ১ হাজার ২০০ হাঁস, ৬ ভরি স্বর্ণ এবং নগদ ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা লুট করা হয়েছে। ভাঙচুরের কারণে প্রায় ২ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ধানের বীজতলা নষ্ট হওয়া ও জমির সীমানা বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত। এর জের ধরে গত ১০ জুলাই সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন সেলিম মিয়া (৪১)। পরে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এ ঘটনায় নিহতের ভাই ফজলু মিয়া ২৩ জনের নাম উল্লেখ করে জগন্নাথপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় ইতোমধ্যে আটজন আসামিকে পঞ্চগড় থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
অন্যদিকে, হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নিহত সেলিম মিয়ার চাচাতো ভাই বদর উদ্দিন। তিনি দাবি করেন, সেলিম হত্যার ঘটনায় বিচার প্রক্রিয়া চলাকালে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও সাজানো মামলা দিয়ে হয়রানির চেষ্টা করা হচ্ছে। তাদের পরিবার শোকাহত অবস্থায় থাকায় হামলা-লুটপাটের অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, আদালত থেকে পাওয়া দুটি অভিযোগ তদন্তের নির্দেশনা অনুযায়ী একটি মামলা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এবং অপরটি জগন্নাথপুর থানা পুলিশ তদন্ত করছে। হত্যা মামলায় আটজন আসামি গ্রেপ্তার হয়েছেন। তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জৈন্তা বার্তা/ ওয়াদুদ




